গোটা দেশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বৃদ্ধির হার বেশি, দাবি মুখ্যমন্ত্রীর

0
120

কলকাতা: গোটা দেশে যেখানে শিল্প ক্ষেত্রে বৃদ্ধির পরিমাণ ৭.৩%, সেখানে পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বৃদ্ধির পরিমাণ ১০.৫%, মিলন মেলা প্রাঙ্গণে তৃতীয় বিশ্ববঙ্গ শিল্প সম্মেলনের সূচনায় এমনই দাবি করলেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

শিল্প সম্মেলন সূচনাটি করেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। রাষ্ট্রপতি আর মুখ্যমন্ত্রী ছাড়াও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পশ্চিমবঙ্গের রাজ্যপাল কেশরীনাথ ত্রিপাঠি এবং রাজ্য মন্ত্রিসভার আরও অনেক সদস্য। উপস্থিত ছিলেন সৌরভ গঙ্গোপাধ্যায়ও।   

পশ্চিমবঙ্গ শিল্পের আদর্শ গন্তব্য, অনুষ্ঠান সূচনা করে এই কথা বলেন প্রণববাবু। তিনি জানান, “শিল্পের ক্ষেত্রে পশ্চিমবঙ্গ ভারতের ইঞ্জিনের মতো কাজ করে। অবিভক্ত ভারতে বাংলা ছিল উৎকর্ষ ভূমি।” তবে দেশভাগ যে পশ্চিমবঙ্গের ওপর বড়ো আঘাত, সে কথাও মনে করিয়ে দেন রাষ্ট্রপতি। আরও একবার গোখেলের বিখ্যাত উক্তি স্মরণ করেন প্রণববাবু, “বাংলা আজ যা ভাবে গোটা ভারত তা ভাবে কাল।” বর্তমান রাজ্য সরকারের ভূয়সী প্রশংসা করে প্রণববাবু বলেন, “ রাজ্যে স্থায়ী সরকার আছে, এই সরকার রাজ্যে অনেক উন্নয়ন করেছে, পরিকাঠামো, রাস্তাঘাট, সব ক্ষেত্রে উন্নয়ন হয়েছে।”

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে গত কয়েক বছরে সাফল্যের কথা তুলে ধরেন মুখ্যমন্ত্রী। গোটা দেশের তুলনায় পশ্চিমবঙ্গে শিল্প বৃদ্ধির হার বেশি দাবি করে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “গত চার বছরে আমাদের রাজস্ব দ্বিগুণ হয়েছে।” সেই সঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, গোটা রাজ্যে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্য পরিষেবা চালু করার ফলে রাজ্যে শিশু মৃত্যুর হারও আগে থেকে অনেক কমেছে। ৮ কোটি মানুষের খাদ্য সুরক্ষার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি সিঙ্গুরের চাষিদের জমি ফেরত দেওয়া যে তাঁর সরকারের সাফল্য সেই কথা মনে করিয়ে দেন মুখ্যমন্ত্রী।

1ছাত্রছাত্রীদের সাইকেল দেওয়ার ফলে পড়াশোনার মান আরও ভালো হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। সাইকেল দেওয়ার প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি সাইকেল শিল্পে রাজ্যের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ দেখতে পেয়েছেন। প্রণববাবু বলেন, “এর ফলে সাইকেলের চাহিদা বাড়ছে, আমি আশা করব বাংলায় সাইকেল শিল্পে স্বর্ণযুগ ফিরে আসবে।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, তাঁর আমলে রাজ্যে ‘থিম সিটি গ্রিন সিটি’ প্রকল্প চালু হয়েছে। পাশাপাশি ‘ই-গভর্নান্স’-এ শীর্ষ স্থানে বাংলা, এমন দাবি করেন মমতা। তবে নোট বাতিলের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে কেন্দ্রকেও বিঁধতে ছাড়েননি মমতা। তিনি বলেন, “নোট বাতিলের জন্য সব শিল্প ক্ষতিগ্রস্ত। ছোট ব্যবসায়ী থেকে কৃষক সকলে সমস্যার সম্মুখীন।”

বিনিয়োগের আহ্বান জানানোর জন্য এই মঞ্চকে বেছে নেন মুখ্যমন্ত্রী। শিল্পপতিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, “আমাদের জমি ব্যাঙ্ক আছে, দক্ষ শ্রমিক, রেল-সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা, উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ ব্যবস্থা আছে, ১৫ দিনের মধ্যে জমি মিউটেশনের নীতি তৈরি করা হয়েছে। বাংলার যুব সম্প্রদায় খুব প্রতিভাশীল। সব শিল্পের জন্য পরিকাঠামো রয়েছে রাজ্যে। আমাদের নিজেদের পরিবারের অঙ্গ ভাবুন। বাংলাকে আপন করে নিন।” শিল্পপতিতের উদ্দেশে সৌরভ বলেন, “বাংলায় আসুন। বিনিয়োগ করুন।”

এই সম্মেলনে যোগ দিতে কলকাতায় এসেছে ২০০ জন বিদেশি প্রতিনিধি। সম্মেলনে এ বারের মূল মন্ত্র স্টার্ট-আপ। উপস্থিত থাকবেন বেশ কিছু নামকরা স্টার্ট-আপ তথা উঠতি ব্যবসায়িক সংস্থার প্রতিনিধি। এই স্টার্ট-আপ সভাটি অনুষ্ঠিত হবে জোকা আইআইএমে। এ ছাড়াও থাকবে কলকাতার বেশ কিছু ফাস্টফুড চেন। সম্মেলনে যোগ দিতে রাশিয়া থেকে খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ ও পানীয় তৈরির একটি দলও এসেছে।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here