শিশু পাচারকাণ্ডে জলপাইগুড়িতে আরও গ্রেফতার, ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনজিও কর্ণধারের

0
125

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: আদালতে পেশের আগে বিস্ফোরক অভিযোগ করলেন শিশু পাচারকাণ্ডে ধৃত চন্দনা চক্রবর্তী। তাঁর অভিযোগ, ষড়যন্ত্র করে তাঁকে ফাঁসানো হয়েছে। বেশ কয়েক জন সরকারি আধিকারিক, জলপাইগুড়ি শিশু সুরক্ষা সমিতির কয়েক জন সদস্য এই ষড়যন্ত্রে যুক্ত বলে অভিযোগ তাঁর। এমনকি উত্তম বোস নামে স্থানীয় এক তৃণমূল নেতার বিরুদ্ধেও অভিযোগ তুলেছেন তিনি। উত্তম বোস জলপাইগুড়ি পুরসভার পুরপ্রধান তথা তৃণমূল শহর ব্লক সভাপতি মোহন বসুর ভাই। যদিও উত্তম বাবুর দাবি, নিজেকে বাঁচাতে মিথ্যা অভিযোগ করছেন চন্দনা চক্রবর্তী। অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশু সুরক্ষা সমিতির চেয়ারপার্সন বেবি উপাধ্যায়। বরং তাঁর দাবি, যে হেতু সমিতির তরফে তাঁরাই ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ও হোমের বিরুদ্ধে প্রথম অভিযোগ জানিয়েছিলেন, তাই তাঁর প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই চন্দনা দেবী এই ভুয়ো অভিযোগ করছেন।

এ দিকে, অভিযুক্ত হোমের আর এক মহিলা কর্মীকে গ্রেফতার করেছে সিআইডি। সোনালি মণ্ডল নামে ওই তরুণী ‘বিমলা শিশুগৃহের’ অ্যাসিস্ট্যান্ট অ্যাডপশন অফিসার ছিলেন। শনিবার চন্দনা চক্রবর্তীকে গ্রেফতারের সময় আরও তিন কর্মীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছিল। রাতভর জেরার পর দু’জনকে ছেড়ে দেওয়া হলেও সোনালির কথার মধ্যে অসংগতি থাকায় তাঁকে গ্রেফতার করা হয়। অবৈধভাবে শিশুবিক্রি নিয়ে তাঁর কাছে অনেক তথ্য রয়েছে বলেই মনে করছেন সিআইডি আধিকারিকরা। রবিবার ধৃত দু’জনকেই জলপাইগুড়ি আদালতে তোলা হয়। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিচারকের কাছে ১৪ দিনের জন্য তাঁদের হেফাজতে চায় সিআইডি। আদালতের সরকারি আইনজীবী সিন্ধু কুমার রায় জানিয়েছেন, বিচারক ১৩ দিনের সিআইডি হেফাজত মঞ্জুর করেন।

তবে সিআইডি সূত্রে খবর,  রাতভর জেরায় বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য ইতিমধ্যেই উঠে এসেছে। শুধু এ দেশে নয়, শিশু পাচার হয়েছে ফ্রান্স, সিঙ্গাপুরের মতো ভিন দেশেও। এ ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক শিশু-পাচার চক্রের একটা যোগসূত্র পেয়েছেন তদন্তকারীরা। এই কাণ্ডে বেশ কয়েক জন সরকারি আধিকারিক এবং রাজনৈতিক নেতার নামও উঠে এসেছে জেরায়, যার মধ্যে বিজেপির জলপাইগুড়ি মহিলা মোর্চার এক নেত্রীর নাম রয়েছে। যদিও তদন্তের খাতিরে এই নিয়ে কিছু বলতে চাননি সিআইডি আধিকারিকরা।

নর্থবেঙ্গল পিপলস ডেভেলপমেন্ট সেন্টার নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার কর্ণধার ছিলেন চন্দনা চক্রবর্তী। ময়নাগুড়ির একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকাও তিনি। এই সংস্থার অধীনে ‘আশ্রয়’ এবং ‘বিমলা শিশুগৃহ’ নামে দু’টি হোম রয়েছে জলপাইগুড়ি শহরে। তার মধ্যে ‘বিমলা শিশুগৃহে’ উদ্ধার হওয়া নবজাতক ও শিশুদের রাখা হত। অভিযোগ, ২০১২ থেকে ২০১৫ সাল পর্যন্ত ‘বিমলা শিশুগৃহ’ থেকে ১৭টি নবজাতক ও শিশুকে নিয়মবহির্ভূত ভাবে দত্তক দেওয়া হয়। তার মধ্যে আবার ৬টি শিশু নিখোঁজ। বিভিন্ন মহল থেকে অভিযোগ ওঠে হোমের নামে মোটা টাকার বিনিময়ে শিশুবিক্রির কারবার চলছে। এই নিয়ে গত বছর মে মাসে জেলা প্রশাসনের কাছে অভিযোগ জানায় জেলা শিশু সুরক্ষা সমিতি। প্রশাসনের কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে তদন্তে নামে রাজ্য নারী, শিশু ও সমাজকল্যাণ দফতর। এরই মধ্যে নিরাপত্তার খাতিরে গত ২৩ জানুয়ারি ‘বিমলা শিশুগৃহে’ থাকা ১৪টি শিশু ও নবজাতককে অন্য হোমে সরিয়ে নিয়ে যায় প্রশাসন। এর পরেই তদন্তে নামে সিআইডির স্পেশাল অপারেশন গ্রুপ। শুক্রবার ও শনিবার ওই সংস্থার দফতর ও দু’টি হোমে তল্লাশি চালিয়ে প্রচুর নথি বাজেয়াপ্ত করেন তাঁরা। শনিবার রাতে গ্রেদতার করা হয় চন্দনা চক্রবর্তীকে।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here