কলকাতা: না, এ বার আর পাশ কাটিয়ে যাওয়া নয়, কলকাতা শহরে হাজির হল কালবৈশাখী। ঘণ্টাখানেকের এই কালবৈশাখী রীতিমতো তাণ্ডব চালাল কলকাতায়। জায়গায় জায়গায় ভাঙল গাছ, ব্যাহত হল বিমান পরিষেবা। দুর্যোগে পুরুলিয়া এবং দুই বর্ধমানে মৃত্যু হয়েছে চার জনের।

শনিবার ঝড় যে হতে পারে, তার কোনো আন্দাজ সকালে করা যায়নি। বরং ছড়ি ঘোরানো শুরু করেছিল রোদ। গরমের দাপট এতটাই বেশি ছিল যে কলকাতায় এ দিন সর্বোচ্চ তাপমাত্রা উঠে যায় ৩৭.৬ ডিগ্রিতে। কিন্তু দুপুরের পর থেকে পরিস্থিতি কিছুটা বদলাতে শুরু করে। রেডার চিত্র বিশ্লেষণ করে দেখা যায় ছোটোনাগপুর অঞ্চলে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়েছে এবং এর ফলে দুপুর দেড়টা থেকে সাড়ে তিনটের মধ্যে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ঝড়ের পূর্বাভাস জারি করা হয়। কিন্তু সেই ঝড় আদৌ কলকাতায় আসবে কি না সে ব্যাপারে সন্দিহান ছিল হাওয়া অফিস। কারণ অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গিয়েছে, কালবৈশাখী কলকাতার দোরগোড়ায় পৌঁছে পাশ কাটিয়ে বেরিয়ে যাচ্ছে। তবে শনিবার তা হয়নি। বিকেল সওয়া চারটে নাগাদ আকাশ কালো করে প্রবল বেগে ঝড় শুরু হয় কলকাতায়। কিছুক্ষণ পরেই শুরু হয় বৃষ্টি। এই ঝড়বৃষ্টির ফলে এক ধাক্কায় প্রায় তেরো ডিগ্রি নেমে যায় শহরের তাপমাত্রা। আলিপুরে ১০ মিমি বৃষ্টি হয়েছে।

আলিপুর আবহাওয়া দফতর এবং বেসরকারি সংস্থা ওয়েদার আল্টিমার তরফ থেকে জানা গিয়েছে শহরে এ দিন ঝড়ের গতিবেগ ছিল ঘণ্টায় ৫০ থেকে ৬০ কিমি। কালবৈশাখীর দাপটে কলকাতার অন্তত দশটি জায়গায় গাছ পড়ার খবর পাওয়া গিয়েছে। গাছ পড়ার জন্য শহরে যান চলাচলে কিছু ব্যাঘাত ঘটেছে। কিন্তু শহরবাসীর কোনো অভিযোগ নেই। দারুণ দহন দিনের পর এ রকম স্বস্তির বৃষ্টিকে হাতখুলে স্বাগত জানিয়েছেন সবাই।

কলকাতার পাশাপাশি দক্ষিণবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় দাপট দেখিয়েছে কালবৈশাখী। তবে পশ্চিমাঞ্চলের জেলাগুলিতে ঝড়ের তাণ্ডব তুলনায় বেশি ছিল। সেই সঙ্গে জোর বৃষ্টি হয়েছে সব জায়গাতেই। দক্ষিণবঙ্গে সব থেকে বেশি বৃষ্টি হয়েছে শ্রীনিকেতনে। সেখানে বৃষ্টির পরিমাণ ৩৫ মিমি। এই দুর্যোগে প্রাণহানির খবর পাওয়া গিয়েছে। আসানসোলের সালানপুরে বাজ পড়ে দু’জনের মৃত্যু হয়েছে, জামুরিয়ায় মৃত্যু হয়েছে এক জনের। অন্য দিকে গাছ পড়ে পুরুলিয়ার গারায় এক জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গিয়েছে।

শনিবারের মতো তীব্র না হলেও রবিবারও ঝড়বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানাচ্ছেন ওয়েদার আল্টিমার কর্ণধার তথা আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ রবীন্দ্র গোয়েঙ্কা। কলকাতায় ঝড় হওয়ায় সম্ভাবনা কমই। তবে স্থানীয় ভাবে বজ্রগর্ভ মেঘ তৈরি হয়ে অল্পস্বল্প বৃষ্টির সম্ভাবনা একেবারে উড়িয়েও দিচ্ছেন না তিনি।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here