ওদলাবাড়িতে চিতাবাঘের চামড়া উদ্ধার, ধৃত দুই পাচারকারী

0
71

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: পাচারের আগেই উদ্ধার হল চিতাবাঘের চামড়া। গ্রেফতার করা হল দুই পাচারকারীকে।

জলপাইগুড়ির ওদলাবাড়ি থেকে এদের গ্রেফতার করেন বৈকুন্ঠপুর বনবিভাগের বেলাকোবা রেঞ্জের বনকর্মীরা। বৃহস্পতিবার রাতে বিশ্বস্ত সুত্রে খবর আসে, অসম থেকে আনা একটি চিতাবাঘের চামড়া ভুটান হয়ে ডুয়ার্সে আসবে। সেখানে একটি ধাবার কাছে তা হাতবদল হবে। সেইমতো বেলাকোবার রেঞ্জ অফিসার সঞ্জয় দত্ত তাঁর সাদা পোশাকে থাকা ‘টিম’ নিয়ে ডুয়ার্সের ওদলাবাড়িতে ওই ধাবার সামনে ফাঁদ পাতেন। রাতের অন্ধকারে একটি বিলাসবহুল গাড়িতে করে আসা চার ব্যাক্তিকে দেখে সন্দেহ হয় তাঁদের। সন্দেহবশত তাঁদের সঙ্গে কথা বলতে গেলেই দু’জন ওখান থেকে পালিয়ে যায়। বাকি দু’জনকে ধরে ফেলেন বনকর্মীরা। তাদের কাছ থেকেই তল্লাশি চালিয়ে চিতাবাঘের চামড়াটি পাওয়া যায়। দু’জনকে নিয়ে আসা হয় বেলাকোবা রেঞ্জ অফিসে। ধৃত শংকর দাস ও রাজু তামাং দু’জনেই প্রতিবেশী দেশ ভুটান-সংলগ্ন জয়গাঁর বাসিন্দা। রাতভর তাদের জেরা করে বেশ কিছু চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন বনাধিকারিকরা। ধৃতরা জানিয়েছে, অসম থেকে ভুটান হয়ে তাদের হাতে আসে চামড়াটি। চামড়ায় গায়ে গুলির ক্ষতচিহ্ন স্পষ্ট। তাতে বনাধিকারিদের অনুমান, অসমের কোনো জঙ্গলে পূর্ণবয়স্ক চিতাবাঘটিকে গুলি করে মারা হয়েছে। তার পর তার চামড়া পাচার করা হচ্ছিল। ধৃতদের জেরা করে বনাধিকারিকরা আরও জানতে পেরেছেন, সিকিমের কোনো ‘পার্টি’র কাছে ৯ লক্ষ টাকায় চামড়াটি বিক্রি করার ছক ছিল। সেখান থেকে নেপাল হয়ে চিনে পৌছে যেত এটি। এই ধরনের বন্যপ্রাণীর দেহাংশ চড়া দামে বিকোয় চিনের আন্তর্জাতিক চোরাবাজারে। ধৃতদের গাড়ি থেকে মিলেছে বেশ কিছু চোরাই সেগুন কাঠও। সেগুলিও পাচারের জন্যই আনা হয়েছিল বলে দাবি বনকর্তাদের। শুক্রবার ধৃতদের জলপাইগুড়ি বিশেষ আদালতে তোলা হয়। তাদের ১৪ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দিয়েছেন বিচারক। 

পালিয়ে যাওয়া দু’জনের পরিচয়ও ধৃতদের জেরা করে জানতে পেরেছেন বনাধিকারিকরা। তাদের খোঁজেও তল্লাশি শুরু করেছে বন দফতর।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here