ছবি এঁকে মার্কিন স্বীকৃতি মিলেছে আগেই, এবার মাধ্যমিকও পাশ করল পথশিশু সুরজ

0
2198

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান : এটা সুরজের লড়াইয়ের গল্প। অতীতের সেই দিনগুলো ভুলে গিয়ে এখন নতুন স্বপ্ন তার চোখে। মাধ্যমিকে সেকেন্ড ডিভিশনে পাশ করে এখন তার ইচ্ছা সে চিত্রশিল্পী হবে। বর্ধমান শহরের একটি অনাথালয়ের আবাসিক সুরজ দাস। দু’ বছর আগে বর্ধমান পুরসভার অধীনে থাকা স্পিড নামক একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার এই হোমে আনা হয় সুরজকে। ছোট বেলাতেই বাবা-মা দু’ জনই মারা যান। আত্মীয় বলে সে রকম কেউ নেই। ভাগ্যচক্রে কোথাও ঠাঁই না পেয়ে বর্ধমান স্টেশনকেই নিজের স্থায়ী ঠিকানা করে নেয় ছোট্ট সুরজ। বেশ কিছু দিন সেখানে কাটায় সে। সেখান থেকেই স্বেচ্ছাসেবী কর্মীদের নজরে আসে, তার পর তাঁরা সুরজকে এই হোমে নিয়ে আসেন। হোমের দাদা-দিদিরাই এখন তার মা-বাবা।

বর্ধমানেরই বড় নীলপুরের আচার্য দুর্গা প্রসন্ন বিদ্যামন্দির থেকে সে এই বারের মাধ্যমিক পরীক্ষায় বসে। প্রথমে পড়াশোনা না করতে চাইলেও ধীরে ধীরে হোমের দাদা-দিদিদের ভালবাসা ও প্রেরণায় আজ সে অনেক দূর এগিয়েছে। মাধ্যমিক পাশ করার পর এ বার সে চায় আর্টিস্ট হতে। হোমের এক শিক্ষিকা সুদেষ্ণা বিশ্বাসই তাকে এই হোমে আনেন, তিনি জানান, “সুরজ খুব সুন্দর ছবি আঁকতে পারে। তা দেখে আমারা ওর জন্য আঁকার শিক্ষকের ব্যবস্থা করে দিয়েছি। তার পর থেকেও এখন পর্যন্ত অনেক প্রতিযোগিতায় পুরস্কারও পেয়েছে সুরজ। হোমেরই এক পরিচিত মানুষের মাধ্যমে তার আঁকা ছবি আমেরিকা থেকে প্রকাশিত একটি পত্রিকার বিচারে প্রথম স্থান লাভ করেছে। ভবিষ্যতে যাতে ও বড়ো চিত্রশিল্পী হতে পারে তার জন্য আমরা সব রকমের সাহায্য করব। এক জন পথশিশু  যদি  জীবনযুদ্ধে সমাজে নিজেকে প্রতিষ্ঠা করতে পারে তার থেকে খুশির আর কিছু হয় না”। তাই আজ তাঁদের ঘরে শুধুই মিষ্টি মুখের উৎসব। আর থেমে থাকতে চায়না সুরজ। তবে মাঝে মাঝে বাবা-মায়ের কথা খুবই মনে পড়ে সুরজের।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here