ভালোবাসার পথ বেয়ে কোস্তা রিকা থেকে ভারতে

0
200

roshniরোশনি বোস :

ধর্ম, জাতপাত, সংস্কৃতি, কোনো কিছুতেই আবদ্ধ থাকে না ভালোবাসা। তারই প্রমাণ হাতেনাতে দিয়ে গেলেন কোস্তা রিকার কোনস্তানজা কারাসকো, যিনি বিয়ে করেছেন একজন বাঙালিকে। বইমেলার পঞ্চম দিনে নিজের জীবনের গল্প শুনিয়ে শ্রোতাদের মুগ্ধ করলেন কোনস্তানজা। শোনালেন ভারত এবং ভারতীয় সংস্কৃতির প্রতি তাঁর নিবিড় আবেগের কথা। তিনি বলেন, তাঁর প্রেমকাহিনি শুরু হয় অনেকটা সিনেমায় যেমনটি হয় ঠিক সে রকম। প্রথম আলাপেই তিনি তাঁর হবু স্বামীকে সাহায্য করেছিলেন স্প্যানিশে পানীয় অর্ডার করতে।

এ দিন তিনি স্বছন্দে ইংরাজিতেই বাক্যালাপ করলেন এবং বঙ্গের বধুর বেশে শাড়ি পরে ঘুরে বেড়ালেন কোস্তা রিকার প্যাভিলিয়নে। তাঁর সঙ্গে ছিল এক বছর দু মাসের ছোট্টো আইজ্যাক, কখনও মায়ের কোলে কখনও বা দাদুর কোলে ঘুরে বেড়াচ্ছিল সে। কোনস্তানজা দর্শকাসন থেকে আসা প্রশ্নগুলির উত্তরও দিচ্ছিলেন অত্যন্ত উৎসাহের সঙ্গে।

জানতে চাওয়া হয়েছিল, কোন ভারতীয় বিষয়টি তাঁকে সব থেকে বেশি আকৃষ্ট করে?

হাসিমুখে কোনস্তানজা জানালেন, ভারতীয় পরিবার তাঁর সব থেকে বেশি ভালো লাগে। তাঁর ভালো লাগে পরিবারের সব সদস্যের এক সঙ্গে থাকা। কোনস্তানজা মনে করেন, পরিবারের সদস্যদের একতা খুব দরকারি। কিন্তু এই ব্যাপারটা কোস্তা রিকায় কমই দেখা যায়।

ভারতে এসে তাঁকে কোনো অসুবিধায় পড়তে হয়নি?

কোনস্তানজা নিঃসঙ্কোচে হাসতে হাসতে বললেন, “খাওয়া নিয়ে প্রথম প্রথম একটু অসুবিধা হত। কারণ আমরা তো অত মশলাদার খাবার খেতে অভ্যস্ত নই। তবে মানিয়ে নিতে খুব একটা বেশি সময় লাগেনি। এ ছাড়া ভারতীয় পোশাকে গোড়ার দিকে খুব অস্বস্তি বোধ করতাম। তবে এখন দেখুন কেমন সুন্দর শাড়ি পরতে পারি। শাড়ি পরা শিখেছি, নিজেই শাড়ি এখন পরতে পারি। আর শাড়িতে নিজেকে খুব আকর্ষণীয়ও লাগে।”

ভারতীয় স্বামীর প্রেমে পড়লেন কী ভাবে?

সপ্রতিভ কোনস্তানজা। সাফ বললেন, উনি এক জন সুপুরুষ। তাঁর নৈতিকতা, মূল্যবোধ ও সুব্যবহার আমাকে মুগ্ধ করেছিল। আমার জন্য তিনি চকলেট কিনে আনতেন। আমার প্রতি তিনি যে কতটা কেয়ারিং, কতটা যত্নশীল তা বুঝতে পারি যখন তিনি আমার দত্তক কন্যার সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছিলেন।

শ্রোতা-দর্শকদের অনেকেই কোস্তা রিকা দেশটা সম্পর্কে জানতে চান। কোনস্তানজা তাঁদের সমস্ত আগ্রহ মিটিয়ে সকলকে আমন্ত্রণ করেন কোস্তা রিকায় যাওয়ার জন্যে। গুয়ানাকাস্তে প্রদেশের প্লায়া নেগ্রা আর প্লায়া কোঞ্চাল, এই দুই সমুদ্রতটে ভ্রমণ করার পরামর্শ দেন তিনি।

শ্রোতা-দর্শকদের অধিকাংশই ছিলেন বাঙালি। সুতরাং কোস্তা রিকান খাবার নিয়ে প্রশ্ন হবে না এমনটি তো হতেই পারে না। তাই প্রশ্ন ধেয়ে এল কোস্তা রিকান  রেসিপি নিয়ে। কোন কোস্তা রিকান খাবার কোনস্তানজার প্রিয়, সেটা জানতে উৎসুক ছিলেন সবাই। কোনস্তানজা জানালেন, ‘কাসাদো’ পদটি সকলের চেখে দেখা উচিত। ‘কাসাদো’ শব্দটির আক্ষরিক অর্থ হল বিবাহিত পুরুষ। কিন্তু খাবারের নাম বিবাহিত পুরুষ কেন? উত্তরে তিনি হেসে বলেন, এই খাবারের এ রকম নামকরণ করা হয়েছে কারণ এই পদটি নাকি ‘পুরুষদের হৃদয়ের চাবিকাঠি’।

ভারতে এসেছেন এক বছর হল। এই সময়ের মধ্যে দেশের কয়েকটি জায়গায় গিয়েছেন কোনস্তানজা। গিয়েছেন পশ্চিমবঙ্গের কোথাও কোথাও। তাজমহল দেখেছেন, দেখেছেন কোচবিহার। তাঁর সেই সব ভ্রমণের ছবি দেখালেন কোনস্তানজা। শেষে কোচবিহারকে যখন কোস্তা রিকার সঙ্গে তুলনা করলেন, দর্শকাসনে খুশির ফোয়ারা উঠল।

ছবি : শৌর্য মেউর

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here