জলপাইগুড়িতে ফুটল পদ্মফুল, ফল ঘোষণার পরেই আগুন, বোমাবাজি, ভাঙচুর, অভিযুক্ত তৃণমূল

0
137
damaged car of bjp leader
বিজেপি নেতার গাড়ি ভাঙচুর।

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি : সংখ্যায় ঘাসফুলের অনেক পেছনে, কিন্তু ভবিষ্যতে চিন্তা ধরানোর জন্য রসদ জুগিয়ে রাখল পদ্মফুল। ত্রিস্তর পঞ্চায়েত নির্বাচনে জলপাইগুড়ির জেলায় সর্বশক্তি দিয়েও ‘শক্তমাটি’তে পদ্মফুল ফোটা রুখতে পারল না শাসকদল। যার জেরে নির্বাচনের ফলাফল বের হওয়ার আগেই বিরোধী শিবিরের ওপর ‘রাগ’ মেটানোর অভিযোগ উঠল তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে।

নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে বৃহস্পতিবার গণনা শুরু হয় জলপাইগুড়ির জেলার সাতটি ব্লকের সাতটি গণনাকেন্দ্রে। ঘণ্টাখানেকের মধ্যেই বোঝা যায়, ‘ট্রেন্ড’ প্রত্যাশামাফিক শাসকদলের দিকেই। বেলা যত গড়াতে থাকে ছবিটাও ততই পরিষ্কার হতে থাকে। তবে আরও একটা ‘ট্রেন্ড’ও এগিয়ে যেতে থাকে। বেশ কিছু এলাকায় ফুটতে থাকে পদ্মফুল।

জলপাইগুড়ির ইতিহাস বলছে ২০১৩ সালের পঞ্চায়েত নির্বাচনে প্রথম কয়েকটি গ্রাম পঞ্চায়েতে, পঞ্চায়েত সমিতিতে কিছু আসন পেয়েছিল বিজেপি। কিন্তু একক ভাবে কোনো গ্রাম পঞ্চায়েত বা পঞ্চায়েত সমিতি দখল করে পারেনি। এ বার কিন্তু চিত্রটা অন্য রকম।

জেলার মোট ৮০টি গ্রাম পঞ্চায়েতের মধ্যে তৃণমূল পেয়েছে ৬৯টি। সেখানে বিজেপি একক ভাবে ৫টি গ্রাম পঞ্চায়েত দখল করেছে। পাঁচটি গ্রাম পঞ্চায়েতে ত্রিশংকু হয়েছে বিজেপি আগের তুলনায় বেশি আসন পাওয়ায়।

উদাহরণস্বরূপ ময়নাগুড়ি ব্লকের কথা বলা যায়। এখানে ১৬টি গ্রাম পঞ্চায়েতে ২৩৪টি আসনের মধ্যে ২২৮টি আসনে নির্বাচন হয়েছে। তার মধ্যে ১২৮টি গিয়েছে তৃণমূলের দখলে। ৪২টি পেয়েছে বিজেপি। ৩৫টি আসনে সামান্য ভোটে হেরেছে তৃণমূলের কাছে।

সাতটি পঞ্চায়েত সমিতির ২৩৪টি আসনের মধ্যে ২১৭টি আসনে নির্বাচন হয়েছে। তৃণমূল পেয়েছে ১০৯টি, বিজেপি পেয়েছে ১৯টি। এতেই তাদের পদ্ম ফোটার ছবিটা পরিষ্কার, দাবি বিজেপির উত্তরবঙ্গের সহ-আহ্বায়ক দীপেন প্রামাণিকের। যদিও জেলা পরিষদের ১৯টির মধ্যে একটি আসনেও দাঁত ফোটে পাড়েনি তারা। তাই শক্তি বাড়ালেও বিজেপিকে গুরুত্ব দিতে নারাজ তৃণমূল। জেলা তৃণমূল সভাপতি সৌরভ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, রাজনীতিতে বিরোধী থাকাটা ভালো লক্ষণ। অথচ নির্বাচনী নির্ঘণ্ট প্রকাশের পর থেকেই বিরোধীশূন্য পঞ্চায়েত গড়ার দাবি জানিয়ে এসেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব। আর এই বিরোধীশূন্য করার লক্ষ্যে বারবার সন্ত্রাসের অভিযোগ উঠেছে শাসকদলের দিকে। কিন্তু তাতেও শেষরক্ষা হয়নি। ফুটেছে পদ্ম।

injured cpm worker
আহত সিপিএম কর্মী।

অভিযোগ, গণনার পর থেকেই শুরু হয়ে গিয়েছে হামলার পালা। ময়নাগুড়িতে বিজেপি জেলা সাধারণ সম্পাদক অনুপ পালের বাড়িতে বোমাবাজি, বাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ ওঠে। আরেক বিজেপি জেলা নেতা শিবশংকর দত্তের গাড়ি ভাঙচুর করে আগুন লাগানোর চেষ্টা হয় বলে অভিযোগ। মাধবডাঙায় বিজেপি কর্মীদের বাড়িতে অগ্নিসংযোগও করা হয়। অভিযোগের আঙুল তৃণমূলের দিকে। তবে শুধু বিজেপি নয়, অন্যান্য বিরোধীদলের ওপরও সন্ত্রাসের অভিযোগ এসেছে। গড়ালবাড়ির ব্রহ্মতলপাড়ায় সিপিএম কর্মীদের মারধর করার অভিযোগও এসেছে। এক সিপিএম কর্মী জলপাইগুড়ি সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে ভর্তি।

গণনাকেন্দ্রেও অশান্তির অভিযোগ এসেছে। রাজগঞ্জ এবং ময়নাগুড়ির গণনাকেন্দ্রে বিজেপি প্রার্থী ও এজেন্টদের আটকে রাখার অভিযোগ ওঠে। রাজগঞ্জের গণনাকেন্দ্র থেকে ৫০০টি ব্যালট পেপার চুরি যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। সূত্রের খবর, এই গুরুতর অভিযোগের তদন্ত করতে ইতিমধ্যেই নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য নির্বাচন কমিশন।

তবে আজকের ফলফলে বেশ খানিকটা অক্সিজেন পেয়েছে বিজেপি। তাই শাসকদলের সন্ত্রাস রুখে দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দিয়েছে। প্রয়োজনে সন্ত্রাসের ‘প্রতিশোধ’ নেওয়া হবে, হুমকি বিজেপি নেতা অনুপ পালের।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here