‘বেসরকারি হাসপাতালের ওপর নজরদারি চালাতে নয়া বিল’,
ঘোষণা মমতার

0
97

কলকাতা: “বেসরকারি হাসপাতাল জল্লাদের জায়গা নয়, ইট কাঠ পাথরের ইন্ডাস্ট্রিও নয়। মানুষ বিশ্বাস করে চিকিৎসা করাতে আসে হাসপাতালে। রোগী এবং তাঁর আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে মানবিক আচরণ করা উচিত” — বুধবারের বৈঠকে এই বার্তাই দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শহরের বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ওঠা একাধিক অভিযোগের সুরাহা করতে বুধবার এক বৈঠকের আয়োজন করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। ক্রেতা সুরক্ষা দফতরের খবর, গত দেড় বছরে বেসরকারি হাসপাতালের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের সংখ্যা  ৭০০-এরও বেশি। এদের মধ্যে অনেকগুলি মামলা অবধিও গড়িয়েছে। তারই প্রেক্ষিতে এ দিন ৩৬টি হাসপাতাল এবং নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষের সঙ্গে টাউনহলে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। ঘোষণা করলেন, আগামী ৩ মার্চ রাজ্যে চালু হবে ‘রেগুলেটারি কমিশন বিল’। বেসরকারি হাসপাতাল নার্সিং হোমের ওপর কড়া নজর রাখতেই আসছে নতুন বিল।

কলকাতা শহর-সহ রাজ্যের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে অভিযোগ নানা রকম। পাহাড়প্রমাণ বিল, অহেতুক নানা অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষানিরীক্ষা করানো, রোগী এবং তাঁর আত্মীয়দের সঙ্গে অমানবিক আচরণ, বিল বাড়ানোর জন্য মৃত রোগীকে ভেন্টিলেশনে রাখা, অভিযোগের তালিকায় বাদ পড়েনি কিছুই। সেই প্রসঙ্গে হাসপাতালগুলির দায়িত্ব মনে করিয়ে দিতে  মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “সুলভে স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রদান করা সামাজিক দায়িত্ব। গুরুতর অসুস্থ রোগীকে ভর্তি নেওয়া যে কোনও হাসপাতালের জন্য বাধ্যতামূলক ।” মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, বেড না থাকলে মেঝেতে রোগীকে শোয়ানোর ব্যবস্থা করতে হবে। 

রাজ্য সরকারও যে রোগীদের ভালো পরিষেবা দিতে বদ্ধপরিকর তা-ও স্পষ্ট করে দেন মমতা। জানালেন, স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায়  রয়েছে ৪ লক্ষ মানুষ। সরকারি হাসপাতালে ই-প্রেসক্রিপশন চালু হয়েছে সম্প্রতি। কোথায় রোগীরা চিকিৎসা করাবেন, সেই স্বাধীনতা তাঁদের রয়েছে। কিন্তু সব হাসপাতাল তাদের দিক থেকে ভালো পরিষেবা দিতে বাধ্য।  

বুধবারের বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রীর কিছু  পরামর্শ দেখে নেওয়া যাক এক ঝলকে

  • বেসরকারি হাসপাতালেও থাকা উচিত ফেয়ারপ্রাইস শপ; 
  • স্বাস্থ্যসাথী প্রকল্পের আওতায় অনেকেই আসতে চাইছেন না এখনও, প্রত্যেককেই এর আওতায় আসতে হবে;
  • জায়গার অভাব থাকলে মেঝেতেও জায়গা করে প্রাথমিক চিকিৎসা দিতে হবে রোগীকে;
  • চিকিৎসা না পেয়ে মারা যাচ্ছেন রোগী। সহমর্মিতার পরিবর্তে মানসিক চাপ তৈরি করা অনভিপ্রেত;
  • চিকিৎসার খরচ মেটাতে ঘটিবাটি বিক্রি করে দিতে হচ্ছে, অতএব কমাতে হবে চিকিৎসার খরচ;
  • অহেতুক পরীক্ষানিরীক্ষা করে বিল বাড়ানো কাম্য নয়;
  • ১০০ শতাংশ লাভ করতে পারবে না কোনও হাসপাতাল;
  • বেসরকারি হাসপাতালগুলিকে আরও সচেতন, মানবিক হতে হবে;
  • সমস্যায় পড়লে বেসরকারি হাসপাতালগুলো বিশদে জানাক সরকারকে;
  • বেসরকারি হাসপাতালগুলির কাজকর্ম খতিয়ে দেখতে প্রতি মাসে রিপোর্ট নেওয়া হবে এ বার থেকে।

 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here