বাজেটেও মোদীকে সমানে টক্কর দিতে প্রস্তুতি নিচ্ছেন মমতা

0
1158
Mamata Banerjee and Narendra Modi

কলকাতা: শুধু দিন-তারিখে নয়, ২০১৮-‘১৯ অর্থবর্ষের বাজেটে কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর ব্যাপারেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে সমানে টক্কর দিতে প্রস্তুত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কেন্দ্র আগেই জানিয়েছিল, আগামী ১ ফেব্রুয়ারি বাজেট অদিবেশন শুরু করবে এনডিএ সরকার। নবান্ন সূত্রে জানা গিয়েছে, আগামী ৩০ জানুয়ারি সূচনা হয়ে রাজ্যের বাজেটও পেশ হতে চলেছে ১ ফ্রেব্রুয়ারি। দেশের একাধিক রাজ্যে আসন্নপ্রায় পঞ্চায়েত ভোট এবং সাম্প্রতিক গুজরাত বিধানসভা নির্বাচনে গ্রামীণ এলাকায় বিজেপির ভোটে ধস নামার ঘটনার কথা মাথায় রেখেই কৃষি ক্ষেত্রে বরাদ্দ বৃদ্ধির কথা ভাবছেন প্রধানমন্ত্রী। আবার বাজেট ব্যতিরেকেই কৃষকের পাশে দাঁড়ানোর কাজ ইতিমধ্যেই শুরু করে দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য সরকার। সম্প্রতি বিপাকে পড়া আলু চাষিদের পরিবহণ খরচে ভরতুকি জোগাচ্ছে রাজ্য। তবে কৃষি কাজে সহায়তা থেকে শুরু করে কৃষকের সামাজিক মানোন্নয়নেও যথেষ্ট সহযোগী কিছু প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত হতে পারে মমতার বাজেটে, অন্তত তেমনটাই জানাচ্ছেন অর্থ দফতরের কর্তারা।

কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি ইতিমধ্যেই কৃষকের আয় নিশ্চিত করণের প্রকল্প নিয়ে কৃষি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। দেশের মোট কর্মক্ষেত্রের ৪৮.৯ শতাংশ জুড়ে রয়েছে কৃষি। কিন্তু দেশের জিডিপিতে তার অংশীদারিত্ব মোটে ২০ শতাংশ। দীর্ঘ দিন ধরেই কৃষকের আয় নিশ্চিত করতে কেন্দ্রের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে কয়েকটি কৃষক সংগঠন। তাদের দাবি, গত ২০১২-র একটি সমীক্ষায় দেখা গিয়েছিল, এ দেশে কৃষকের গড় আয় ১৬০০ টাকার কাছাকাছি। তাই তাদের দুর্দশা ঘোচাতে অবিলম্বে কোনো স্থায়ী আইন প্রণয়ন করা হোক।যদিও কৃষি ঋণের পরিমাণ এ বার বাজেটে গত বছরের তুলনায় বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা কেন্দ্রের নেই বলেই জানা গিয়েছে। সূত্রের খবর, এ বারও ওই ঋণের জন্য বরাদ্দ হতে পারে ১০ লক্ষ কোটি টাকা। যা গত ২০১৭-‘১৮ অর্থিক বছরেও একই ছিল।

বিজ্ঞাপন

অন্য দিকে রাজ্য সরকার কৃষি ক্ষেত্রের মতো গুরুত্ব পূর্ণ কাজে যুক্ত কৃষক এবং কৃষি শ্রমিকদের জন্য বিশেষ কয়েকটি পদক্ষেপ নিতে চলেছে। নোটবন্দির কারণে গত বছর বাজেটে কৃষকদের জন্য ১০০ কোটির টাকার বিশেষ ত্রাণ তহবিল গড়েছিল রাজ্য। এমনকী তার আগের বাজেটেও শস্য নষ্ট হওয়ার জন্য ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে দাঁড়াতে ৬৯ কোটি টাকার তহবিল গড়া হয়েছিল। এ বার সেই সব সমস্য লঘু হলেও কৃষকের আর্থিক পরিস্থিতির তেমন কোনো বদল হয়নি গত কয়েক দশকে।রাজ্য দেখছে, কৃষির সঙ্গে যুক্ত একটি বিশাল সংখ্যক মানুষের কাছে দৈনন্দিন সুযোগ-সুবিধাগুলি কতটা সুষ্ঠু ভাবে পৌঁছে দেওয়া যায়। এবং তাদের গড় আয় বাড়াতে রাজ্যের তরফে কোন কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা যায়।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here