শাশুড়ি বলছেন বৌমার অত্যাচারে অতিষ্ঠ তিনি, বৌমা বললেন শাশুড়িই মানসিক অত্যাচার চালান

0
98
mother in law

নিজস্ব প্রতিনিধি, জলপাইগুড়ি: হাতের কবজিতে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছে, বয়সের ভারে কুঁচকে গিয়েছে চোখের চামড়া। সেই কুঁচকোনো চোখের চামড়ায় শুকিয়ে যাওয়া জলের দাগ। বুধবার সাতসকালে এই অবস্থায় এক বৃদ্ধাকে নিজের বাড়িতে দেখে খানিকটা অবাক হয়ে যান উত্তম বোস। সমাজসেবামূলক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত উত্তমবাবু। জলপাইগুড়ি পৌরসভার পৌরপ্রধান মোহন বোসের ছোটো ভাই।

বাড়িতে হাজির হওয়া ওই বৃদ্ধা উত্তমবাবুর মুখচেনা। সিদ্ধেশ্বরী ঘোষ নামে বছর পঁচাশির ওই বৃদ্ধা জলপাইগুড়ি শহরের নিউটাউন পাড়ার বাসিন্দা। স্বামী অনেক কাল আগেই গত হয়েছেন। বছরচারেক আগে ছেলে দিলীপ ঘোষ দ্বিতীয় বিয়ে করেছেন। সেই বৌমাকে সঙ্গে নিয়ে থাকেন সিদ্ধেশ্বরী দেবী। ছেলে কর্মসূত্রে শিলিগুড়িতে থাকেন।

injury in mother in law's elbow
শাশুড়ি বলছেন বউমার মারধরে এই চোট, বউমা বলছেন এই চোট পড়ে গিয়ে।

উত্তমবাবুর কাছে এসে ওই বৃদ্ধা জানান, তাঁর খুব বিপদ, সেই জন্য পৌরপ্রধানের সঙ্গে দেখা করতে চান। তখন উত্তমবাবু কী বিপদ জানতে চাইলে কেঁদে ফেলেন তিনি। ভাঙা গলায় যা বলেন তার অর্থ বউমা সীমার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে বেরিয়ে এসেছেন তিনি। দু’বেলা দু’মুঠো খাবার আর মাথা গোঁজার ঠাঁই চাই। এ বার বিষয়টি বুঝতে পারেন উত্তমবাবু। তিনি আর কালবিলম্ব না করে বৃদ্ধাকে নিয়ে কোতোয়ালি থানায় চলে আসেন। থানায় বসে বৃদ্ধা জানান, প্রতিনিয়ত অকথ্য গালিগালাজ চলে, খেতে চাইলে দূরে থেকে ভাতের থালা ছুড়ে দেন বউমা। বৃদ্ধা আরও জানিয়েছেন, বউমা খাবারের সঙ্গে এমন কিছু মিশিয়ে দেন যা খেয়ে বমি করে মাঝেমধ্যেই তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ছেলে কর্মসূত্রে বাইরে থাকায় এতে বাধা দেওয়ার কেউ ছিল না। কথা না শোনায় বউমার মারধরে হাতের কবজিতে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছে।

daughter in law
বউমা সীমা।

সব শুনে কোতোয়ালির আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকারের নির্দেশে বউমা সীমাকে বাড়ি থেকে পুলিশ দিয়ে নিয়ে আসা হয়। কিন্তু থানায় আইসির সামনে দাঁড়িয়ে শাশুড়ির বিরুদ্ধেই ক্ষোভ উগরে দেন তিনি। সীমাদেবীর বক্তব্য, শাশুড়িই তাঁর ওপর মানসিক অত্যাচার চালান। ছেলের প্রথম স্ত্রীর ওপরও অত্যাচার চালাতেন শাশুড়ি, দাবি সীমার। মারধর নয়, স্রেফ পড়ে গিয়ে রক্ত জমাট বেঁধে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। এলাকার কিছু মানুষও সীমাদেবীর কথাতেই সমর্থন জানান।

এর পরেই আইসি বিশ্বাশ্রয় সরকার বুঝতে পারেন এই সেই চিরন্তন ‘শাশুড়ি-বউমা কাহিনি’। থানার মহিলা অফিসার দিয়ে দু’জনেরই কাউন্সেলিং করানো হয় দিনভর। শেষে সন্ধ্যায় দু’জনকেই বাড়ি পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তবে আইসি জানিয়েছেন, প্রতিনিয়ত বৃদ্ধার খোঁজখবর নেওয়া হবে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here