ক্ষতিপূরণ বা পুনর্বাসন নয়, পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প বাতিল চান গ্রামবাসীরা

0
96

arnab-duttaঅর্ণব দত্ত :

পাওয়ার গ্রিড প্রকল্প বাতিল নিয়ে প্রশাসন দীর্ঘ আটমাস পরে জমি জীবিকা বাস্ততন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সঙ্গে আলোচনায় বসার মৌখিক প্রতিশ্রুতি দিলেও দুই ২৪ পরগণার প্রায় ৫০টি গ্রামে বৃহস্পতিবার সকাল থেকে প্রচার আন্দোলন আরও জোরদার করা হচ্ছে। স্থানীয় ২০টি গ্রামের বাসিন্দারা প্রাথমিকভাবে পরিবেশ আন্দোলনের সূত্রপাত করলেও তা খুব সম্প্রতি আরও ২৫ থেকে ৩০টি গ্রামে ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানা গিয়েছে। দক্ষিণ ২৪ পরগণার জেলাশাসক যতক্ষণ পর্যন্ত না আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আলোচনায় বসছেন, প্রচার আন্দোলন ততদিন চালিয়ে যাওয়া হবে বলে আন্দোলনকারীদের তরফে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বুধবার কমিটির তরফে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট করে জানিয়ে বলা হয়েছে, আলোচনার বিষয়বস্তু অতি সংক্ষিপ্ত। ক্ষতিপূরণ বা পুর্নবাসনের কোনওটিই চান না গ্রামবাসীরা। পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পটিকে এলাকা থেকে সরিয়ে নিতেই হবে। এ ব্যাপারে প্রশাসনের তরফে আপাতত কোনও কর্তাই মন্তব্য করতে নারাজ।

বিজ্ঞাপন

এ দিকে কলকাতায় ছাত্র-লেখক-শিল্পী-মানবাধিকার কর্মী, অনীক, পরিচয়-সহ কয়েকটি লিটল ম্যাগাজিন এবং নকশালপন্থী ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন মিলিয়ে মোট ১৭টি সংগঠনের প্রতিনিধিদের নিয়ে সম্প্রতি গড়া হয়েছে সংহতি কমিটি। এ দিন সংহতি কমিটির নেতা প্রদীপ সিংহ ঠাকুর বলেছেন, “আমাদের নিজস্ব দলীয় মতামর্শের সঙ্গে এখানকার পরিবেশ আন্দোলনকে মিশিয়ে ফেলতে চাইছি না। বামপন্থী, কংগ্রেস ও তৃণমূলের স্থানীয় নেতা-কর্মীদের এক বিরাট অংশই তাঁদের জীবিকা ও বাসস্থানের সুরক্ষায় এই আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে যুক্ত। সংহতি কমিটির সদস্য-সদস্যাদের ভূমিকা এখানে স্বেচ্ছাসেবীর। আমরা যে কোনও ধরনের মতাদর্শগত ভেদাভেদ থেকে আন্দোলনকে মুক্ত রাখতে সতর্ক আছি।”

grid-1জানা গিয়েছে, সদ্যগঠিত সংহতি কমিটি কলকাতা-সহ রাজ্যের অন্যত্র জমি জীবিকা বাস্ততন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির সঙ্গে যৌথভাবে ব্যাপক প্রচার আন্দোলন চালাবে। পাশাপাশি, সর্বভারতীয় ক্ষেত্রে উন্নয়নের নামে সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবিকার ওপর যে সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার কোপ নেমে এসেছে, তা প্রতিরোধ করতে ওই আন্দোলনগুলির পাশে থাকার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে সংহতি কমিটির পক্ষে।

এ দিন প্রদীপবাবু জানান, পাওয়ার গ্রিডের বিরুদ্ধে চলা পরিবেশ আন্দোলনের পাশে থাকতে কমিটির ১৫০-২০০ জন স্বেচ্ছাসেবী গ্রামগুলিতে ঘাঁটি গে়ড়ে রয়েছে। এদের ভিতর রয়েছেন মানবাধিকার কর্মী, সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক-ছাত্রছাত্রী ও নানা ক্ষেত্রের পেশাদাররাও।

জেলাশাসকের সঙ্গে আলোচনায় যে পর্যন্ত না সদর্থক ফল মিলবে, ততক্ষণ সংহতি কমিটির স্বেচ্ছাসেবকরা গ্রামগুলিতে বসবাস করবেন। এর পরের অভিজ্ঞতা অন্যত্র চলা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নেওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আপাতত এরও প্রস্তুতি চলছে। দলমতনির্বিশেষে স্বেচ্ছাসেবীদের ওপর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, নিরীহ গ্রামবাসীরা যাতে ফের ফাঁদে না পড়েন, তা দেখা।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here