পুরসভার ‘বিপজ্জনক বাড়ি’ অধিগ্রহণ বিধি: খুশি নয় কোনো পক্ষই

0
69

saibal-biswasশৈবাল বিশ্বাস

 ‘বিপজ্জনক বাড়ি’ অর্থাৎ কলকাতা পুর এলাকার প্রায় ভেঙে পড়া বাড়িগুলি অধিগ্রহণ করে সেগুলি প্রোমোটার ডেভলপারদের হাতে তুলে দেওয়ার নতুন আইন পাশ হল গত বুধবারের পুর অধিবেশনে। এই আইনে বলা হয়েছে, ভেঙে পড়া বা কিছুদিনের মধ্য‌েই ভেঙে পড়তে পারে এমন বাড়িগুলি কলকাতা পুরসভা অধিগ্রহণ করে টেন্ডারের ভিত্তিতে ডেভলপার বা প্রোমোটারের হাতে তুলে দেবে। বাড়িওয়ালার যতটা জায়গা রয়েছে বাড়ি ডেভলপমেন্টের পর তিনি ততটাই জায়গা পাবেন। অন্য‌দিকে বাড়িতে যদি ভাড়াটিয়া বা দখলদার কেউ থাকেন তাহলে তাঁর দখল করা অংশের অধিকার তিনি ফেরৎ পাবেন। সবাইকে জায়গা বন্টন করে যে জায়গা পড়ে থাকবে প্রোমোটার বা ডেভলপার সেই জায়গাতে ফ্ল্য‌াট বা শপিং কমপ্লেক্স করার অধিকার পাবেন। সেই ফ্ল্য‌াট তিনি ভাড়া দিতেও পারেন বা বিক্রি করতে পারেন।

আগের পুর আইনগুলিতে কলকাতা পুরসভার বিপজ্জনক বাড়ি চিহ্নিত করে বাসিন্দাদের সাবধান করার অধিকার থাকলেও বাড়ি দখল করার কোনও অধিকার ছিল না। কিন্তু এবার থেকে সেই অধিকার তাঁদের দেওয়া হল। কিছুদিন আগে উত্তর কলকাতায় একটি পুরনো বাড়ি ভেঙে পড়ার ঘটনায় দু জনের মৃত্য‌ু হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্য‌মন্ত্রী বলেছিলেন, এই বাড়িগুলির ওপর নজরদারি চালানোর জন্য‌ কড়া আইন থাকা দরকার। অর্থাৎ এমন আইন দরকার যাতে পুর কতৃর্পক্ষ হস্তক্ষেপ করার সুযোগ পায়। বুধবারের পাশ করা আইনে সেই সুযোগ পুরসভাকে দেওয়া হল। মেয়র শোভন চট্টোপাধ্য‌ায় বলেছেন, নতুন পুর আইনটি এপ্রিল মাস থেকে কার্যকর হবে। তবে আগেই চিহ্নিত হওয়া বাড়ির ক্ষেত্রে এই আইন কার্যকর হবে কিনা সে বিষয় তিনি বিশদ ব্য‌াখ্য‌া দেননি। তাঁর মন্তব্য‌, “ভবিষ্য‌তে যাতে বাড়ি চাপা পড়ে কেউ মারা না যান এবং একই সঙ্গে বাড়ির বাসিন্দাদের সুবিধা হয় সেদিকে তাকিয়েই আইন করা হয়েছে”।

dangerous-building-of-kolkata_1

এই আইন নিয়ে খুশি নয় ভাড়াটিয়া বা বাড়িওয়ালা সংগঠনগুলি। বড়বাজার টেনান্ট অ্য‌াসোসিয়েশনের সদস্য‌ দেবজ্য‌োতি রায়ের বক্তব্য‌, “একবার যদি প্রোমোটার পুরনো বাড়ি থেকে ভাড়াটিয়াদের তুলে দেওয়ার সুযোগ পায় তাহলে তাঁরা আর জায়গা ফেরৎ পাবেন না। ছলেবলে কৌশলে প্রোমোটাররা চেষ্টা করবে ভাড়টিয়াদের একেবারে উচ্ছেদ করে দিতে। কোনও আইনি পথেই এই বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না। কার্যত বড়বাজার, বৌবাজার, শ্য‌ামবাজার, গিরিশ পার্ক প্রভৃতি পুরনো অঞ্চলে প্রোমোটার রাজ শুরু হয়ে যাবে”। দি ক্য‌ালকাটা হাউস ওনার্স অ্য‌াসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সুকুমার রক্ষিতের বক্তব্য‌, “এই আইনটাই বেআইনি। সংবিধানে সম্পত্তির অধিকার মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত। করপোরেশনের অধিকার নেই সেই মৌলিক অধিকারে হস্তক্ষেপ করার”। তিনি মনে করেন,এই আইনটি আদালতে টিঁকবে না।

তাহলে পুরোনো বিপজ্জনক বাড়ি সারাইয়ের উপায় কী?

সুকুমারবাবুর মতে, করপোরেশনের উচিত এই ধরনের বাড়ির মালিকদের স্বল্প সুদে ঋণের ব্য‌বস্থা করে দেওয়া। তাহলে তাঁরা সেই ঋণের টাকায় বাড়ি মেরামতি করতে পারবেন। শুধু তাই নয়, তিনি দাবি করেছেন, পুরনো বাড়িতে সামঞ্জস্য‌পূর্ণ ভাড়ার ব্য‌বস্থা বা আইনি অধিকার দিলে অনেক বাড়িওয়ালাই বাড়ি সারানোর ব্য‌াপারে উৎসাহ বোধ করবেন। পুরনো বাড়ি সারানোর পর সেই বাড়িতে দখলদার বা ভাড়াটিয়াকে যদি বাজারদরে ভাড়া দিতে বাধ্য‌ করা যায় তাহলে ভবিষ্য‌তের বিপদের হাত থেকে উদ্ধার পাওয়া যাবে বলেও তাঁর মত। দি ক্য‌ালকাটা হাউস ওনার্স অ্য‌াসোসিয়শেনর সভাপতি অসিত কুন্ডুচৌধুরী মনে করেন, রেন্ট কন্ট্রোল অ্য‌াক্ট তুলে দিয়ে সময়োপযোগী আইন প্রণয়ন করলে অবস্থা পাল্টাতে পারে। তিনি মনে করেন, সরকারের এমন কোনও পদক্ষেপ করা উচিত হবে না যাতে সিন্ডিকেট রাজ বা প্রোমোটার রাজ উৎসাহিত হয়।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here