শুধু বাজেট বরাদ্দ বৃদ্ধি নয়, কৃষককে মাঠে ফেরাতে দরকার প্রকৃতি বান্ধব মডেল

0
536
agriculture west bengal

কলকাতা: একটি সংস্থার সমীক্ষা রিপোর্টে সম্প্রতি প্রকাশিত হয়েছে, দেশের তরুণ ও যুব সমাজের ৯৮.৮ শতাংশই আর চাষবাসের কাজে আগ্রহ দেথাচ্ছেন না। বাপ-কাকাকে দেখে নিজেকে ‘চাষির ব্যাটা’ বলে ফাঁকা আওয়াজ দিয়ে যে ভবিষ্যৎ সুনিশ্চিত হবে না, তার আগাম আভাস পেয়ে গিয়েছেন তাঁরা। স্বাভাবিক ভাবেই তাঁরা কৃষি কাজের পরিবর্তে বেছে নিতে চান অন্য কোনো পেশাকে। শুধু তাই নয়, সরকারি একটি পরিসংখ্যানেও দেখা গিয়েছে, প্রতিদিন প্রায় দু’হাজার কৃষক মাঠে যাওয়া বরাবরের মতো বন্ধ করে দিচ্ছে। যার ফলে জন সংখ্যা বৃদ্ধির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে খাদ্য পণ্য উৎপাদনের একটা বড়ো ফারাক তৈরি হয়ে চলেছে।

এ ব্যাপারে পশ্চিমবঙ্গ সুস্থায়ী কৃষি বিকাশ মঞ্চের তরফে জানানো হয়, কৃষককে কৃষি কাজে ফিরিয়ে নিয়ে আসতে গ্রামাঞ্চলে নির্দিষ্ট কয়েকটি মডেল তৈরি করতে হবে। কৃষিতে অনাগ্রহের মূল কারণ হল, কৃষি উপকরণের আকাশ ছোঁয়া মূল্য বৃদ্ধি, উৎপাদনের হার কমে যাওয়া, চাষের কাজে মূলধনের অভাব, মূলধনের জন্য দেনার দায়ে জড়িয়ে পড়া, উৎপাদিত ফসলের সঠিক মূল্য না পাওয়ার মতো জটিল সমস্যাগুলি। ওই সংগঠনের দাবি, এই সমস্ত সমস্যাগুলি নিয়ে সরাসরি কৃষকদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন রয়েছে।

অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সরকার শুধু কৃষিখাতে বরাদ্দ বাড়িয়েই হাত ধুয়ে ফেলে। কিন্তু প্রকৃতি বান্ধব মডেল তৈরির মাধ্যমেই সেই আলোচনাকে বাস্তবায়িত করা যেতে পারে। পুরোপুরি কর্পোরেট জৈব নয়, সনাতন জৈব চাষ পদ্ধতিতে জোর দিলেই আগ্রহ এমনিতেই বেড়ে যেতে পারে। সেই উদ্দেশ্যে কৃষকের কাছে পৌঁছে দিতে হবে দেশীয় বীজ। এটাই প্রাথমিক পদক্ষেপ। তা ছাড়া নিয়মিত কৃষি বিশেষজ্ঞদের নিয়ে ওয়ার্কশপ, উৎপাদিত ফসলের ন্যায্য দাম দিয়ে তা সরকারের তরফে কিনে নেওয়া হলে এক দিকে যেমন কৃষকের দুর্দশা ঘুঁচবে তেমন অন্য দিকে কৃষি কাজ ছেড়ে অন্য পেশায় যাওয়ার প্রবণতা কমবে। দেনার দায়ে আত্মহত্যার পথ বেছে নেওয়া কৃষকের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা না দিয়ে যদি কৃষিকাজে সঠিক ভাবে সহযোগিতা ও উৎসাহ প্রদান করা যায় তা দেশের পক্ষে মঙ্গল বলেই মনে করে ওই মঞ্চ।

কৃষি কাজে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি মঞ্চের তরফে বিশেষ কিছু চাল সংগ্রহ করে তা সুলভ মূল্যে ক্রেতার হাতে তুলে দেওয়া হয়। মঞ্চের প্রতিনিধি সনৎকুমার চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের সংগ্রহে নিত্য দিনের ভাতের জন্য ব্যবহৃত সিদ্ধ চাল, সুগন্ধী চাল থেকে ক্যানসার প্রতিরোধী চাল, ভেষজগুণ সম্পন্ন চাল-সহ নানান বৈচিত্রের চাল রয়েছে। যে কেউ মোবাইল নম্বর ৯৮৭৪৬ ৫৭৩৯৮-এ  ফোন করে সেই চাল কিনতে পারেন। সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে ওই সব চাল সংগ্রহ করায় বাজারের থেকে অনেকটাই কম দামে আমরা তা ক্রেতার হাতে তুলে দিই।’

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here