গুলিতে মৃত্যু বিক্ষোভকারীর, জমি আন্দোলনে অগ্নিগর্ভ ভাঙড়

0
154

ভাঙড় : পাওয়ার গ্রিড স্টেশনের কাজ বন্ধের দাবিতে অগ্নিগর্ভ ভাঙড়। গুলিতে মৃত্যু হল এক আন্দোলনকারীর। আহত বেশ কিছু। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মহিলারাও। আছে শিশুও। আহতদের স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, গুলিবিদ্ধ হয়ে এক জন আহত হয়েছেন, তাঁকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। এস এস কে এম হাসপাতালে তাঁর মৃত্যু হয়। নাম, মফিজুল খান। ইতিমধ্যে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় পুলিশকে সংযত থাকা এবং গুলি না চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন বলে রাজনৈতিক মহল সূত্রে জানা গিয়েছে।   

দক্ষিণ ২৪ পরগণার ভাঙড়ে বেশ কিছুদিন ধরেই আন্দোলন করছিলেন গ্রামবাসীরা। আন্দোলনের জেরে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল পাওয়ার গ্রিড স্টেশনের কাজ। কিন্তু নতুন করে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয় সোমবার। কাশীপুর থানার খামারাইট গ্রামে পাওয়ার গ্রিডের স্টেশন বসানোর বিরোধিতা করে সোমবার একটি সভার আয়োজন করে ‘জমি, পরিবেশ বাস্তুতন্ত্র রক্ষা সমিতি’ এবং ‘সংহতি কমিটি’। সভায় জমায়েত হয়েছিল প্রায় ১০ হাজার গ্রামবাসীর। আয়োজকদের পক্ষ থেকে প্রদীপ সিংহ ঠাকুর দাবি করেন, সরকারকে অবিলম্বে তাদের অবস্থান স্পষ্ট করে জানাতে হবে।

ওই দিন রাতে এই পাওয়ার গ্রিডের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী ২ নেতাকে পুলিশ আটক করায় ক্ষোভে ফুঁসতে থাকেন গ্রামবাসীরা৷ রাতেই হাড়োয়া রোড অবরোধ করা হয়৷ এর পর আন্দোলনকারী ২ নেতাকে ছেড়ে দেওয়া হলে রাত ১১টা নাগাদ উঠে যায় অবরোধ৷  মঙ্গলবার সকাল থেকে ফের উত্তপ্ত হতে থাকে ভাঙড়। রাতভর পুলিশি জুলুমের প্রতিবাদে ভাঙড়ের মাছিপাড়া গ্রাম থেকে শুরু করে খামারাইট-সহ ৩টি জায়গায় সকাল থেকে বিক্ষোভ দেখাতে থাকেন গ্রামবাসীরা৷ জনতা ও পুলিশের খণ্ডযুদ্ধে উত্তেজনা ছড়ায়।  

পুলিশ জানায়, বিক্ষুব্ধ জনতা ইটবৃষ্টি করতে থাকে পুলিশকে লক্ষ করে। সরকারের শ্রমিকদের তাঁবুতে আগুন লাগিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের বেশ কিছু গাড়ি ভাঙচুর হয়। আগুনও লাগানো হয়। জলের মধ্যেও ফেলে দেওয়া হয়। এই সময় কাশীপুর থানার পুলিশ পরিস্থিতি সামাল দিতে গেলে, তখন তাদের লক্ষ করে ইটপাটকেল ছোড়া হয়৷ পুলিশের অভিযোগ, তাদের চারিদিক থেকে ঘিরে ফেলা হয়৷ তার পর তীর ধনুক ও ইটপাটকেল নিয়ে হামলা চালানো হয়৷ এই ঘটনায় আক্রান্ত হন বেশ কয়েক জন পুলিশ আধিকারিক৷ এর পর পরিস্থিতি সামাল দিতে উত্তেজিত গ্রামবাসীদের লক্ষ করে কাঁদানে গ্যাসের সেল ফাটানো হয়৷ পাশাপাশি লাঠিচার্জ করা হয় গ্রামবাসীদের৷ গোটা এলাকায় উত্তেজনা ছড়ানোর অভিযোগে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয় ৬ জনকে ৷ পরিস্থিতি সামলাতে নামানো হয় র‍্যাফ। 

বিকেলের দিকে ঢিবঢিবি গ্রাম থেকে র‍্যাফ ফিরে যাওয়ার সময় এলোপাথাড়ি গুলি চলে বলে অভিযোগ। গুলিতে এক যুবকের মৃত্যু হয় বলে ‘জমি, পরিবেশ বাস্তুতন্ত্র রক্ষা সমিতি’র তরফ থেকে শঙ্কর দাস জানান।

গ্রামবাসীরা অভিযোগ করেছিলেন, রাজ্য সরকার ওই এলাকায় পাওয়ার গ্রিড নিয়ে দু’মুখো নীতি নিয়েছে।এক দিকে বিদ্যুৎমন্ত্রী জানিয়েছেন গ্রামবাসীর স্বার্থে আঘাত হবে, এমন কোনো নীতি সরকার নেবে না। অন্য দিকে, শাসক দলের এক ‘কুখ্যাত’ নেতার বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছে নানা ভাবে গ্রামবাসীদের আন্দোলনে বাধা সৃষ্টি করার। 

খামারাইট, টোনা পদ্মপুকুর, মাছিভাঙ্গা-সহ ভাঙড়ের বেশ কয়েকটি গ্রামের বাসিন্দারা জানিয়েছেন, পুলিশের অত্যাচারে দুর্বিষহ হয়ে উঠছে তাঁদের জীবন। আতঙ্কে রয়েছেন মহিলারা। গ্রামবাসী গোলাম মহিউদ্দিন জানিয়েছেন, গ্রামের মসজিদে ঢুকে পুলিশ ভাঙচুর চালিয়েছে, ভেঙে ফেলেছে মসজিদের জলের ট্যাঙ্ক।

ইতিমধ্যে ভাঙড়ে উত্তপ্ত পরিস্থিতির খবর পেয়ে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ফোন করেন রেজ্জাক মোল্লাকে। অবিলম্বে তাঁকে ভাঙড়ে যেতে নির্দেশ দেন। ঘটনাবলি খতিয়ে দেখতে সেখানে আসেন ভাঙড়ের বিধায়ক।

নিজস্ব চিত্র 

 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here