জলপাইগুড়ি: আপাতত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ, হাইকোর্টের পথে চিকিৎসকরা

0
4171

তিতাস পাল, জলপাইগুড়ি: আপাতত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না পুলিশ। আগামী ৫জুন চিকিৎসকদের আইনজীবী কোলকাতা হাইকোর্টের দ্বারস্থ হচ্ছেন আগাম জামিনের আবেদন নিয়ে।

নার্সিংহোমের গাফিলতিতে ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেন্ট অ্যাক্টে(২০১৭) প্রথম মামলা হওয়ার পর বেশ শোরগোল পড়েছিল, শুধু জলপাইগুড়ি নয় গোটা রাজ্যেই। পুলিশের সক্রিয় ভূমিকাকে  সাধুবাদ জানিয়েছিলেন অনেকেই। কিন্তু চিকিৎসকমহল একজোট হওয়ার পরেই সব যেন কেমন ধামাচাপা পড়ে গেল! এই প্রশ্নই তুলতে শুরু করেছেন শহরবাসী। চিকিৎসক মহলের চাপে পুলিশ কি পিছিয়ে গেল, প্রশ্ন মৃতা মহিলার পরিবারেরও।

আরও পড়ুন: জলপাইগুড়িতে ক্লিনিক্যাল এস্টাবলিশমেন্ট আইনে মামলায় জামিন খারিজ নার্সিংহোম মালিক, চিকিৎসকের

এক সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ১১ এপ্রিল জলপাইগুড়ির শহরের মেরিনা নার্সিংহোমে মৃত্যু হয় মীনা ছেত্রী নামে এক প্রৌঢ়ার। অভিযোগ ওঠে, ভেণ্টিলেশন মেশিন খারাপ থাকার কারণে মৃত্যু হয়েছে মীনা দেবীর। তাঁদের কাছে  চেপে যাওয়া হয়েছিল ভেন্টিলেশন মেশিন খারাপ থাকার কথাও,অভিযোগ মৃতার ছেলে উদয় ছেত্রীর। নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ, চিকিৎসক ও কর্মীদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ তুলে পুলিশের দ্বারস্থ হন মৃতার পরিবার। পাশাপাশি স্বাস্থ্যদফতর ও মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছেও অভিযোগ জানান তাঁরা। একটি কমিটি গড়ে তদন্ত করে রিপোর্ট দেয় জেলা স্বাস্থ্যদফতর। তার ভিত্তিতে ক্লিনিক্যাল এস্টাব্লিশমেণ্ট অ্যাক্ট’২০১৭ অনুযায়ী কেস শুরু করে পুলিশ, তার সঙ্গে জুড়ে দেওয়া হয় আইপিসি’র ৩০৪ ধারা(অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা)। এরপরেই বিরোধিতা তীব্র হয় চিকিৎসক মহলে। একজন চিকিৎসকে কেন ৩০৪ধারায় অভিযুক্ত করা হবে তা নিয়ে সরব হন চিকিৎসক মহল। এর মধ্যেই নার্সিংহোম মালিক সহ তিন চিকিৎসক, টেকনিশিয়ান ও ম্যানেজারের আগাম জামিনের আর্জি খারিজ করে জলপাইগুড়ি জেলা আদালত। ঘটনাচক্রে এদের মধ্যে জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের একজন চিকিৎসকও রয়েছেন।

জেলার প্রায় সমস্ত চিকিৎসকরা একজোট হয়ে জেলা মুখ্য স্বাস্থ্য আধিকারিকের কাছে গিয়ে এই ঘটনার বিরোধিতা করেন। তাঁরা পরিষ্কার জানিয়ে দেন কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে গ্রেফতারির মত ব্যবস্থা নেওয়া হলে জেলার স্বাস্থ্য পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। জলপাইগুড়ি জেলা হাসপাতালের অস্থিরোগ বিশেষজ্ঞ ডা: কমলেশ বিশ্বাসের অভিযোগ, এই ঘটনার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ তদন্ত শেষ করার আগেই পুলিশের অতি-সক্রিয় ভূমিকা দেখা গিয়েছে। তাঁরা পুলিশ সুপারের সঙ্গেও এই বিষয়ে দেখা করেন প্রতিবাদ জানান। পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি বুধবার জানিয়েছেন, তদন্ত চলছে। আপাতত কাউকে গ্রেফতার করা হচ্ছে না।

আরও পড়ুন: চিকিৎসকের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপের প্রতিবাদ, বিক্ষোভে একজোট জলপাইগুড়ির চিকিৎসকরা

তবে ঝুঁকি নিতে রাজি নন নার্সিংহোম কর্তৃপক্ষ। আগামী ৫ জুন আগাম জামিনের জন্য উচ্চ আদালতের দ্বারস্থ হচ্ছেন তারা, জানিয়েছেন চিকিৎসকদের আইনজীবী সন্দীপ দত্ত। পুলিশও আপাতত উচ্চ আদালতের রায়ের দিকেই তাকিয়ে। সূত্রের খবর, চিকিৎসকদের সর্বভারতীয় সংগঠন আইএমএ আলাদা ভাবে এই ঘটনা নিয়ে উচ্চ আদালতে যেতে পারে।

মৃতা রোগিনীর ছেলে উদয় ছেত্রী জানিয়েছেন, তাঁদের কাছে যথেষ্ট তথ্য প্রমাণ রয়েছে নার্সিহোমের বিরুদ্ধে। দেরিতে হলেও সুবিচার পাবেন বলেই আশা তার।

যদিও প্রথমদিকে পুলিশের সক্রিয়তা এবং এখন আপাতভাবে পিছিয়ে আসা সংশয়ে রেখেছে শহরবাসীকে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here