সিআইডি হেফাজতে প্রদীপ-শর্মিষ্ঠা, ফের উত্তপ্ত ভাঙড়

0
86

ভাঙড় ও বারুইপুর: সিপিআই (এম এল) রেড স্টারের রাজ্য সম্পাদক প্রদীপ সিংহ ঠাকুর, রেড স্টার নেত্রী শর্মিষ্ঠা চৌধুরী ও জমি-জীবিকা-বাস্ততন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির নেতা সানোয়ার মোল্লাকে আটদিনের জন্যে সিআইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিল বারুইপুর মহকুমা আদালত। সূত্রের খবর, ধৃত ওই তিন নেতা-নেত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্যে ভবানীভবনে রাখা হয়েছে।

এদিকে সিপিআই (এমএল) রেড স্টারের তরফে এদিন শংকর দাস দাবি জানিয়েছেন, ধৃতদের অবিলম্বে এবং নিঃশর্তে মুক্তি দিতে হবে। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে অবিলম্বে ভাঙড়ের পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পটি বাতিল করতে হবে। অন্যথায় তীব্র হবে আন্দোলন।

এদিন একই হুমকি দেওয়া হয়েছে জমি-জীবিকা-বাস্ততন্ত্র ও পরিবেশ রক্ষা কমিটির তরফেও। ধৃত তিনজনকে বারুইপুর মহকুমা আদালত সিআইডি হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেওয়ার পরে কমিটির তরফে মহাদেব মণ্ডল বলেছেন, আন্দোলন এবার ফের তীব্র করা হবে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় গ্রামবাসীরাই নেতৃত্ব দেবেন। ইতিমধ্যে স্থানীয় স্তরে নেতৃত্ব গড়ে তোলা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পরিবেশ রক্ষা কমিটির একাধিক নেতাই। তবে তাঁরা নিরাপত্তার স্বার্থে সংবাদমাধ্যমের কাছে তাঁদের নাম প্রকাশ না করতে আবেদন জানিয়েছেন।

পরিবেশ রক্ষা কমিটির এক নেতার কথায়, “এতদিন প্রদীপবাবু বা শর্মিষ্ঠারা আমাদের আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তবে এখন ওঁদের গ্রেফতার করেও আমাদের আর নস্যাৎ করা যাবে না। গ্রামবাসীদের মধ্যে থেকেই বিকল্প নেতৃত্ব গড়ে তোলা হয়েছে”। এরপরে কী কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে, তা নিয়েও পরিবেশ রক্ষা কমিটি খুব শীঘ্রই সিদ্ধান্ত নেবে বলে কমিটির তরফে জানানো হয়েছে।

রেড স্টার নেত্রী শর্মিষ্ঠাকে গ্রেফতারের প্রতিবাদে বুধবার রাত থেকে ভাঙরের বিস্তীর্ণ এলাকায় গ্রামবাসীদের ভিতর উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর জেরে ফের হাড়োয়া রোড অবরুদ্ধ করেন গ্রামবাসীরা। জানা গিয়েছে, লাউহাটি থেকে খামারআইটে গ্রিড প্রকল্প এলাকা পর্যন্ত ১৪-১৫টি জায়গায় নতুন করে রাস্তা অবরুদ্ধ করা হয়। অনির্দিষ্টকালের জন্যে ওই রাস্তা অবরোধের ডাক দেওয়া হলেও বৃহস্পতিবার বিকেলের দিকে তৃণমূল নেতা ও বিধায়ক সব্যসাচী দত্ত নিজস্ব বাহিনী নিয়ে এলাকায় ঢোকেন বলে অভিযোগ। তাঁর সঙ্গে র‍্যাফও এলাকায় প্রবেশ করে।

গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সব্যসাচীর বাহিনী এদিন ফের অবরোধ বানচাল করার চেষ্টা চালায়। তাঁদের দাবি, আতঙ্ক ছড়াতে খামারআইটে পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পের কাছে ব্যাপক বোমাবাজি চালিয়েছে সব্যসাচীর বাহিনী। র‍্যাফ ছিল নীরব দর্শক। প্রসঙ্গত, কয়েকদিন আগেই তৃণমূল নেতা আরাবুলের বাহিনীর বিরুদ্ধ স্থানীয় ঢিবঢিবে বাজারে বোমাবাজি করে অবরোধ তোলার অভিযোগ ওঠে।

পরিবেশ রক্ষা কমিটির তরফে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় নেতা জানিয়েছেন, আগের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি রুখতে এদিন বিকেলে স্থানীয় খামারআইট, মাঝিভাঙা, পানাপুকুর ইত্যাদি গ্রামের কয়েক হাজার বাসিন্দা  সব্যসাচীর হামলাবাজির বিরুদ্ধে একযোগে রুখে দাঁড়ান। তিনি আরাবুল অধ্যুষিত এলাকা গাজিপুর দিয়ে ঢুকেছিলেন বলে অভিযোগ।

পরিবেশ রক্ষা কমিটির এক নেতার দাবি, গ্রামবাসীদের তাড়া খেয়ে সব্যসাচী দলবল-সহ পালিয়ে বেঁচেছেন। এরপরে ফের গ্রামে ঢুকে এলাকায় আতঙ্ক ছড়ানোর চেষ্টা করলে তার ফল ভালো হবে না বলে হুমকি দিয়েছেন পরিবেশ রক্ষা কমিটির ওই নেতা।

যদিও পুলিশ বা রফ সম্পর্কে গ্রামবাসীরা এদিন নতুন করে কোনও অভিযোগ দায়ের করেননি। বরং পুলিশ ও র‍্যাফ আপাতত সংযত রয়েছে বলে তাঁরা জানিয়েছেন।

ইতিমধ্যে কমিটির নেতারা আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে তডিঘড়ি বৈঠকে বসেছেন। এদিন বিকালে পরিবেশ রক্ষা কমিটির তরফে দাবি করা হয়েছে, আরাবুল বিরোধী তৃণমূলের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কমিটির যে মতান্তর দেখা দিয়েছিল, তাও এখন অনেকটাই প্রশমিত। স্থানীয় স্বার্থরক্ষায় কমিটি প্রথম থেকেই দলমতনির্বিশেষে যে আন্দোলনের ডাক দিয়েছে, তা এখন ফের ঐক্যবদ্ধ। অন্যদিকে, দাবি জানানো হয়েছে, মুখ্যমন্ত্রীকে ওই পাওয়ার গ্রিড প্রকল্পটি বাতিল করতেই হবে। সেইসঙ্গে নিঃশর্ত মুক্তি দিতে হবে রেড স্টারের দুই নেতানেত্রী-সহ সিআইডি হেফাজতে থাকা কমিটির এক নেতাকেও।

এদিন বিকালে কমিটি সিদ্ধান্ত নিয়ে্ছে, রাতে ভাঙড়ের বিস্তীর্ণ এলাকায় রাতে টহল দেবে গ্রা‌মরক্ষী বাহিনী। স্থানীয় মানুষের নিরাপত্তা জোরদার করতে আন্দোলনকারীরা রাতকালীন প্রহরায় গ্রামরক্ষী বাহিনীকে আরও তত্পর করছেন। তাছাড়া, এলাকার গ্রামগুলিতে প্রবেশপথের রাস্তা একাধিক জায়গায় কেটে দেওয়া হয়েছে। যে সমস্ত জায়গায় রাস্তা কাটা হয়নি, সেই এলাকাগুলিতে গ্রামে ঢোকার রাস্তাগুলি অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে পরিবেশ রক্ষা কমিটির সূত্রের খবর।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here