বিরল অস্ত্রোপচার বর্ধমান হাসপাতালে, বাঁচলেন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী

0
111

নিজস্ব সংবাদদাতা, বর্ধমান: সরকারি হাসপাতাল মানেই ঘুঘুর বাসা, এই ধারণা এখন পালটানোর সময় এসেছে। এমনই বার্তা দিল বর্ধমান হাসপাতাল।

ক্যান্সারে আক্রান্ত মরণাপন্ন রোগীকে নতুন জীবন দিলেন এই হাসপাতালের একদল চিকিৎসক। রাজ্যের অন্য বড়ো বড়ো সরকারি বেসরকারি হাসপাতালে এই ধরনের অস্ত্রোপচার বেনজির ঘটনা।

বর্ধমানের ভাতার থানার সর্নচালিতা গ্রামের বাসিন্দা প্রৌঢ় চাষি দিলীপ যশ প্রায় দশ বছর ধরে শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছিলেন। গত তিন বছর ধরে বর্ধমানের চিকিৎসকের কাছে চিকিৎসা করিয়েও কোনো লাভ হয়নি। বরং তাঁর অসুস্থতা আরও বাড়তে থাকে।

অবশেষে এক পরিচিতের পরামর্শে গত বছর অক্টোবর মাসে বর্ধমান হাসপাতালে ইএনটি বিভাগে দেখাতে আসেন। ইএনটি বিশেষজ্ঞ ডাক্তার গণেশ গায়েনের নজরে আসে দিলীপবাবুর মুখের ক্যান্সার। তাঁর মুখের মধ্যে একটি ফুস্কুড়ি রয়েছে, যা আসলে ক্যান্সার। তাঁকে বাঁচাতে গেলে অস্ত্রোপচারই ছিল একমাত্র উপায়। ডাক্তার গায়েনের নেতৃত্বে শুরু হয় অস্ত্রোপচারের প্রস্তুতি। গঠন করা হয় পাঁচ জন ডাক্তারকে নিয়ে একটি দল।  

দীর্ঘ ৫ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারের পর এল সাফল্য। প্রথমে অস্ত্রোপচার করে বাদ দেওয়া হয় মুখের মধ্যে ওপরের অংশটি। সেই অংশকে পুনরায় কৃত্রিম মাংস আর হাড় দিয়ে যুক্ত করা হয়। দিলীপবাবু আপাতত সম্পূর্ণ সুস্থ।

তবে আলোচ্য বিষয় হল, এই ধরনের অস্ত্রোপচার বিরল। গোটা রাজ্যে মুষ্টিমেয় কয়েকটি বেসরকারি হাসপাতালে এই অস্ত্রোপচার করা হলেও, দিলীপবাবুর মুখের মধ্যে কেটে বাদ দেওয়া অংশটি যে ভাবে পুনরায় যুক্ত করা হয়েছে সেটা পশ্চিমবঙ্গে আর কখনও হয়নি।

সব থেকে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল বেসরকারি হাসপাতালে এই চিকিৎসায় অন্তত ৫ লক্ষ টাকা লাগত, কিন্তু বর্ধমান  হাসপাতালে এই চিকিৎসা হয়েছে সম্পূর্ণ বিনা পয়সায়। স্বাভাবিক ভাবেই  হাসপাতালের সমস্ত ডাক্তার থেকে কর্মী, সকলেই  উদ্বুদ্ধ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতে, এই সাফল্যের ফলে সাধারণ মানুষ জানতে পারবে সরকারি হাসপাতালেও বিনামুল্যে ভালো চিকিৎসা সম্ভব। ভরসা পাবেন গরিব মানুষও।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here