কলকাতা : ভারতে মেট্রোরেলের ইতিহাসে আগেই নাম তুলেছিল কলকাতা। আবার ইতিহাস গড়ল শহর। গঙ্গার তলা দিয়ে তৈরি হয়ে গেল এক দিকের মেট্রো টানেল। ওপরে গঙ্গা। নীচে মেট্রো। স্বপ্ন-সত্যির প্রথম ধাপের কাজ শেষ।

কলকাতার মাটির তলার মেট্রোরেল ১৯৮৪ সালে ১৪ এপ্রিল ইতিহাস গড়েছিল। ২০১৭ সালে আবার ইতিহাস, গঙ্গার তলায় মেট্রো। তৈরি হয়ে গেল সুড়ঙ্গ। লক্ষ্য ২০১৯ সালের আগস্ট মাসের মধ্যেই মাথার ওপর গঙ্গা নিয়ে ছুটবে মেট্রোরেল। ভারতে এই প্রথম মেট্রো চলাচলের জন্য নদীর তলায় তৈরি হল টানেল।

কাজ শুরুর আগে নানা টানাপোড়েনে জড়িয়ে গিয়েছিল প্রকল্প। ফলে মেট্রো কর্তাদের ঘুম চলে গিয়েছিল। মাটির ওপরের কাজে কিছু জটিলতা এখনও থাকলেও নদীর তলায় কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের আগেই প্রথম ধাপের কাজ শেষ হয়ে গেল। ঠিক হয়েছিল প্রথম ধাপের কাজ শেষ করা হবে আট সপ্তাহে, অর্থাৎ ২ মাসে। হাওড়ার দিক থেকে নদীর পেট কেটে ঢুকে পড়ে টানেল বোরিং মেশিন। একটু একটু করে কাজ এগিয়ে অবশেষে কাজ শেষ হয়ে যায় মাত্র ১ মাস ৬ দিনেই। অর্থাৎ হাওড়া থেকে কলকাতা আসার টানেল তৈরি শেষ। এখন চলছে কলকাতা থেকে হাওড়া যাওয়ার টানেল তৈরি।

বিজ্ঞাপন

কখনও দিনে ৩৪ মিটারও মাটি কেটেছে টানেল বোরিং মেশিন। একটু একটু করে এগিয়েছে নদী গর্ভের দিক। মাটির প্রায় ৩০ মিটার নীচে দিয়ে তৈরি হয়েছে টানেল। ৫২০ মিটার লম্বা দু’টি টানেল তৈরি করা হবে। হাওড়া-মহাকরণের মাঝে এই পথ অতিক্রম করতে সময় লাগবে ১ মিনিট। স্থির হয়েছে ট্রেন ছুটবে ৮০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা গতিতে। ইস্ট-ওয়েস্ট মেট্রো প্রকল্পের দৈর্ঘ্য ১৬.৬ কিলোমিটার। আর তারও মধ্যে গঙ্গার তলা দিয়ে যাচ্ছে ৫২০ মিটার। এই টানেলের ব্যাস ৫.৫৫ মিটার আর এর দেওয়াল ২৭৫ মিলিমিটার পুরু। দু’টি টানেলের মধ্যে দূরত্ব ১৬.১ মিটার। টানেলে পায়ে হাঁটার পথও তৈরি করা হচ্ছে জরুরি পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে। এই টানেল তৈরির জন্য খরচ হচ্ছে ৬০ কোটি টাকা। গোটা ইস্ট-ওয়েস্ট প্রকল্পের জন্য খরচ হচ্ছে ৯ হাজার কোটি টাকা।

গত এক মাস দিনরাত এক করে কাজ হয়েছে। একটা টানেল শেষ। এ বার পালা আর একটির। মেট্রো সূত্রের খবর দ্বিতীয় টানেলটি তৈরির সময়ের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক হয়েছে ২ মাস। তবে তার আগেও কাজ শেষ হয়ে যেতে পারে। কিংবা পরিস্থিতি অনুযায়ী লেগে যেতে পারে মাস তিনের সময়ও।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here