‘কেন্দ্রে বিপদ বিজেপি, রাজ্যে তৃণমূল’ প্রকাশ্য সভায় বললেন সূর্যকান্ত

0
2017
cpim
jayanta mondal
জয়ন্ত মণ্ডল

রবিবার দলের উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্মেলনের প্রকাশ্য সভায় রাজ্য সম্পাদক সূর্যকান্ত মিশ্র বলেন, কেন্দ্র ও রাজ্য-দুই শাসক দলের বিরুদ্ধেই সিপিএম সমান ভাবে লড়াই জারি রাখবে।

উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্মেলনের প্রকাশ্য সভা আয়োজিত হয় রবিবার বরানগরের প্রগতি সংঘ ময়দানে। এ দিন সূর্যবাবু বলেন, ‘বর্তমানে কেন্দ্রে বিপদের নাম বিজেপি আর রাজ্যে তৃণমূল। এই বিপদ থেকে  নিষ্কৃতি পেতে হলে বাম কর্মী-সমর্থকদের মাটি কামড়ে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। নইলে আগামী দিনে এই সাম্প্রদায়িক শক্তির হাত থেকে কেউ-ই রেহাই পাবে না। কেন্দ্রে যে ভাবে বিজেপি সরকার একের পর এক জনবিরোধী নীতি নিয়ে চলছে, রাজ্যেও সমানতালে জারি রয়েছে অপসাশন। এর বিরুদ্ধে মানুষকে সঙ্গে নিয়েই সোচ্চার হতে হবে।’

তিনি প্রকাশ্যে বলেন, সাম্প্রদায়িক শক্তির বিরুদ্ধ এই লড়াইয়ে বামপন্থীরা জয়ী হবেই, সেই আত্মবিশ্বাস এখনও অটুট রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ্য, এ দিন উত্তর ২৪ পরগনার জেলা সম্পাদকের পদে অভিষেক ঘটে মৃণাল চক্রবর্তীর। তাঁকে প্রাক্তন মন্ত্রী গৌতম দেবের জায়গায় নিয়ে আসা হয়। দল জানিয়েছে, শারীরিক অসুস্থতার কারণে গৌতমবাবু স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছিলেন।

হুগলি, কলকাতা থেকে ঝাড়গ্রাম অথবা দুই ২৪ পরগনা, সর্বত্রই জেলা সম্মেলন মঞ্চে দলের নীচুতলার সদস্যদের কাছ থেকে ক্ংগ্রেসের সঙ্গে জোট প্রসঙ্গে প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়েছে সিপিএমের উচ্চ নেতৃত্বকে। কিন্তু গত ২১ জানুয়ারি দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্তে স্থির থেকেই কংগ্রেসের সঙ্গে দূরত্ব বজায় রাখার পক্ষেই বার্তা দেওয়া হচ্ছে নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে।

suryakanta mishra CPIM
ঝাড়গ্রাম

কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথ আন্দোলন নাকি নির্বাচনী জোট অথবা একক ভাবে লড়াই-এমন সব প্রশ্নে দ্বিধা বিভক্ত সিপিএম কেন্দ্রীয় কমিটির বৈঠকের ফয়সলা শেষমেশ নির্ধারিত হয়েছিল ভোটাভুটিতেই। তবে সিপিএমের জেলা সম্মেলনগুলিতে স্বাভাবিক ভাবেই পার্টি সদস্যরা এ বিষয়ে মুখ খুলতে ছাড়ছেন না। গত ২৬ জানুয়ারি ঝাড়গ্রাম জেলার প্রথম সম্মেলন মঞ্চে দলের উচ্চনেতৃত্বের বিতর্ক প্রসঙ্গে সূর্যকান্ত মিশ্র বলেছিলেন, ‘উপরের কোনো বিষয়ে অর্থাৎ কেন্দ্রীয় কমিটি বা রাজ্য কমিটির আলোচনা নিয়ে মাথা ঘামাবেন না, কান দেবেন না। বিজেপি-বিরোধী অবস্থান নিয়ে দলে কোনো মতপার্থক্য নেই। একমাত্র লক্ষ্য বিজেপিকে উচ্ছেদ করা। সংবাদ মাধ্যম যা খুশি বলুক।’

সেই একই কথা প্রতিধ্বনিত হয়েছে  সদ্য শেষ হওয়া কলকাতা জেলা সম্মেলনেও। আবার গত বৃহস্পতিবার শুরু হওয়া উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্মেলনেও উঠে এল একই প্রসঙ্গ। বিজেপি এবং তৃণমূলের যৌথ আক্রমণের মুখে পড়ে জেলার নীচুতলার কর্মীরা কী ভাবে অসহায় বোধ করছেন, সেই প্রসঙ্গ টেনেই কংগ্রেসের সঙ্গে যৌথ প্রতিরোধ গড়ে তোলার কথা ওঠে।

cpim district
হুগলি

তাঁদের উদ্দেশে বিমান বসু সংবাদ মাধ্যমের কাছে বলেন, কংগ্রেসের সঙ্গে জোট বা যৌথ প্রতিরোধের কথা মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে হবে। যেখানে যতটা দলীয় শক্তি রয়েছে, তা দিয়েই বিজেপি-তৃণমূলের বিরুদ্ধে আন্দোলন সংগঠিত করতে হবে আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচনকে সামনে রেখে।

cpim north 24 pargana
উত্তর ২৪ পরগনা

কলকাতা জেলা সম্মেলনে যে ভাবে ভোটাভুটির মাধ্যমে কংগ্রেসের সঙ্গে জোট-বিরোধী লবি জয়লাভ করেছে, সেই উদাহরণ তুলে ধরে অন্য এক সিপিএম নেতা বলেন, দলের নীচুতলার চাহিদা এবং সমস্যাগুলিকে অবশ্যই গুরুত্ব দেওয়া হবে, কিন্তু কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এই মুহূর্তে কংগ্রেস প্রসঙ্গে ভিন্ন কোনো পন্থা অবলম্বন করা হবে না। অন্তত আগামী পঞ্চায়েত নির্বাচন পর্যন্ত।

baranagar
উত্তর ২৪ পরগনা জেলা সম্মেলনের প্রকাশ্য সভা

 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here