সমবায় ব্যাংকের হাত ধরে খুলছে ডুয়ার্সের তিনটি চা বাগান

0
88

পুজোর মুখে আশার আলো ডুয়ার্সের চা বলয়ে। খুলতে চলেছে জলপাইগুড়ির রেডব্যাংক গ্রুপের রেডব্যাংক, সুরেন্দ্রনগর ও ধরণিপুর, এই ৩টি চা-বাগান। সৌজন্যে জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংক। রাজ্যে এই প্রথম কোনো সমবায় ব্যাংক এই ধরনের উদ্যোগ নিল।

জলপাইগুড়ি কেন্দ্রীয় সমবায় ব্যাংকের ৭৭তম বার্ষিক সভায় ব্যাংকের চেয়ারম্যান তথা আলিপুরদুয়ারের বিধায়ক সৌরভ চক্রবর্তী মঙ্গলবার জানিয়েছেন, তিনটি চা-বাগান পরিচালনার জন্য তাঁরা রাজ্য সরকারের কাছ থেকে সবুজ সংকেত পেয়েছেন। বাগান পরিচালনার জন্য তৈরি করে দেওয়া হয়েছে ‘সার্ভিস ক্রেডিট কো-অপারেটিভ সোসাইটি’।tea-garden-meeting

রেডব্যাংক ও সুরেন্দ্রনগর চা বাগানের জন্য একটি এবং ধরণিপুর চা বাগানের জন্য একটি সমবায় সমিতি তৈরি করা হয়েছে। এই সমিতিতে ব্যাংকের প্রতিনিধি ছাড়াও স্থানীয় নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং বাগানের শ্রমিকরা থাকবেন। রেডব্যাংকে ৮৫০ জন, সুরেন্দ্রনাথ বাগানে ৬৭৫ জন এবং ধরণিপুরে ৪৫০ জন শ্রমিক-কর্মচারী রয়েছেন।

১৯৯৮ সালে শ্রমিক অসন্তোষের জেরে এই তিনটি বাগান একে একে বন্ধ হয়ে যায়। এর পর ২০১১ এবং ২০১৪ সালে দু’বার বাগান খুললেও তা চালাতে পারেননি মালিকপক্ষ। ফের বন্ধ হয়ে যায় বাগান তিনটি। এখন রাজ্য সরকারের দেওয়া অনুদান ‘ফাউলাই’ এবং অন্যান্য সাহায্যের ওপর নির্ভরশীল তিনটি বাগানের ১৯৭৫ জন শ্রমিক।

সৌরভ চক্রবর্তী জানিয়েছেন, এর মধ্যেই ব্যাংকের প্রতিনিধিরা গিয়ে বাগানগুলির অবস্থা পরিদর্শন করে রিপোর্ট তৈরি করবেন। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতে পুজোর পর বাগানগুলিকে প্রয়োজনীয় ঋণ বরাদ্দ করা হবে। সেই ঋণের টাকায় বাগানের বন্ধ বটলিফ ফ্যাক্টরি চালু করা হবে এবং অন্যান্য কাজ শুরু করা হবে। লাভের মুখ দেখার পর ধীরে ধীরে ব্যাংকের ঋণ শোধ করবে বাগান। সমবায় ব্যাংকের এই মডেল সফল হলে আলিপুরদুয়ারের বান্দাপানি-সহ ডুয়ার্সের অন্য বন্ধ ও রুগ্ন বাগানগুলিতেও এই ব্যবস্থা করা হবে বলে জানিয়েছেন সৌরভবাবু।

স্বাভাবিক ভাবেই এই খবরে খুশি তিনটি বাগানের শ্রমিকেরা। দীর্ঘদিন বাগান বন্ধ থাকায় অসহায় অবস্থায় দিন কাটছিল তাঁদের। তাই রেডব্যাংকের রমেন্দ্র সরকার, ধরণিপুরের জয়া মিঞ্জ ও সুরেন্দ্রনগরের রমেশ ভুজেল জানিয়েছেন, কাজ চালু হওয়ার অপেক্ষায় দিন গুনছেন তাঁরা।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here