বিশেষ প্রতিনিধি, কলকাতা: রাজ্যের কৃষক বাজারগুলিকে বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়ার উদ্যোগ নিল রাজ্য সরকার। এই উদ্যোগ কার্যকর করতে মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে গত সপ্তাহে কৃষি দফতর, কৃষি বিপণন দফতর ও শিল্প দফতরের মন্ত্রী ও সচিবরা বৈঠক করেন। সেই বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, রাজ্যের কৃষক বাজারগুলিকে বিগ বাজার-এর মতো বেসরকারি সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হবে। বৈঠকের রিপোর্ট কৃষিমন্ত্রী পূর্ণেন্দু বসু মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে জানিয়েছেন। মুখ্যমন্ত্রীর তরফে সবুজ সংকেতও মিলেছে বলে নবান্ন সূত্রে খবর। আগামী দড়-দু মাসের মধ্যেই কৃষক বাজারগুলিকে বেসরকারি হাতে তুলে দেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়ে যাবে বলে কৃষি দফতরেরএক কর্তার দাবি।

৬ বছরে ১৪০০ কোটি টাকা খরচ করে ১৮৬টি কৃষক বাজার তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে ১৭৬টি বাজারের পরিকাঠামো সম্পূর্ণ তৈরি। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহের অভাব এবং ফড়েদের বাধায় সেগুলি চালু করা যাচ্ছে না।

সাম্প্রতিক বেশ কয়েকটি জেলা সফরের প্রশাসনিক বৈঠকে কৃষক বাজার নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। কৃষি বিপণন দফতরের কর্তাদের ওপর অসন্তোষও প্রকাশ করেন। ক্ষমতায় আসার পর ২০১২ সালে রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় কৃষক বাজার তৈরির সিদ্ধান্ত নেয় মমতা সরকার। যেখানে কৃষকরা তাঁদের ফসল এনে সরাসরি ক্রেতাদের বিক্রি করতে পারবেন। পাইকারি এবং খুচরো দু’রকম কেনাবেচারই সুযোগ থাকার কথা ছিল ওই কৃষক বাজারগুলিতে। ফড়ে বা মধ্যসত্ত্বভোগীদের থেকে কৃষকদের রক্ষা করতেই ওই বাজারগুলি তৈরির সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী। সেই মতো গত ৬ বছরে ১৪০০ কোটি টাকা খরচ করে ১৮৬টি কৃষক বাজার তৈরি হয়েছে। তার মধ্যে ১৭৬টি বাজারের পরিকাঠামো সম্পূর্ণ তৈরি। সেগুলি চালু করার অবস্থায় রয়েছে। কিন্তু কৃষকদের আগ্রহের অভাব এবং ফড়েদের বাধায় সেগুলি চালু করা যাচ্ছে না। কোনো কোনো জায়গায় স্থানীয় ভাবে কয়েকটি বাজার চলছে, কিন্তু গোটা রাজ্যে সেই সংখ্যাটা দশের বেশি নয়।

এই অবস্থায় কৃষক বাজারগুলি তৈরি করাটা একেবারে বিফলে চলে যেতে বসেছিল। সেগুলিকে বাঁচাতে বেসরকারি সংস্থাকে বাজারগুলি লিজে দেওয়া হবে। সেই সংস্থাই কৃষকদের থেকে পণ্য এনে সরাসরি বাজারগুলিতে বিক্রি করবে।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here