শুভ্রাংশুর বরাতে কী আছে, কপালে চিন্তার ভাঁজ মুকুলের!

0
subhrangshu roy and mukul roy

কলকাতা: উত্তর ২৪ পরগনার বীজপুরের রাজনৈতিক সমীকরণ বদলে যাচ্ছে খুব দ্রুত। আগামী কয়েক মাসের মধ্যেই আরও বেশ কিছু চমকপ্রদ ঘটনার সাক্ষী হতে চলেছে বিজেপি নেতা মুকুল রায়ের পুত্র শুভ্রাংশু রায়ের এই বিধানসভা কেন্দ্র। কী সেই ঘটনা?

রাজনীতির কারবারিদের মতে, রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচন হতে এখনও বাকি প্রায় সাড়ে তিন বছর। কিন্তু এই দীর্ঘ সময় বীজপুরের বিধায়ক হিসাবে মুকুল-তনয়কে মাথায় করে রাখা সম্ভব নয় স্থানীয় তৃণমূল নেতা-কর্মীদের পক্ষে। মুকুলবাবু বিজেপি-তে যোগ দেওয়ার পর থেকেই তাঁরা এ বিষয়ে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে দরবার করে চলেছেন। কিন্তু তাঁদের দাবি মেনে এখনই শুভ্রাংশু নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তবে এক সময়ের বিজেপি নেত্রী আলোরানি সরকারের আনুষ্ঠানিক ভাবে তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পর নতুন অঙ্ক কষা শুরু হয়ে গিয়েছে বীজপুরের রাজনৈতিক পাঠশালায়।

গত ২০১৬-র বিধানসভা নির্বাচনে তৃণমূল প্রার্থী শুভ্রাংশুর মূল প্রতিদ্বন্দ্বী কংগ্রেস সমর্থিত সিপিএম প্রার্থী ডা. রবীন্দ্রনাথ মুখোপাধ্যায় হলেও ওই কেন্দ্রেই বিজেপি প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন আলোদেবী। যিনি গত বৃহস্পতিবার বিজেপির ঘর ‘কালো’ করে তৃণমূলে যোগ দিলেন। তৃণমূলের তরফে এই দলবদলকে ‘কালো’ বলা হচ্ছে এই কারণেই যে, কয়েক সপ্তাহ আগেই নোয়াপাড়া বিধানসভার উপ-নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূলের ঘর ভাঙানোর খেলায় নেমেছিলেন মুকুলবাবু। তিনি রাতারাতি ঘোষণা করেন, ওই বিধানসভার গতবারের তৃণমূল প্রার্থী মঞ্জু বসু এ বার বিজেপির প্রার্থী হচ্ছেন। কিন্তু ঘটনার কথা জানাজানি হতেই মঞ্জুদেবী বলেন, প্রার্থী না হতে পারলেও তিনি তৃণমূলেই রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

সে বার মুকুলবাবু অসফল হলেও এ বার সফল হল তৃণমূল। গত বৃহস্পতিবার অভিষেকের সঙ্গে মঞ্চ ভাগ করে নিয়ে গত ভোটে বীজপুরের বিজেপি প্রার্থী আলোদেবী তৃণমূলে যোগ দিলেন। সঙ্গে প্রশ্নও তুলে দিলেন শুভ্রাংশুর ভবিষ্যৎ নিয়ে।

বীজপুরের স্থানীয় তৃণমূল নেতৃত্ব সূত্রে জানা গিয়েছে, দল বিধায়ক শুভ্রাংশুর সঙ্গে দূরত্ব আরও বাড়াবে। কয়েক মাস আগে থেকেই যা  শুরু হয়ে গিয়েছিল, এখন তা আরও প্রকট হচ্ছে। শুভ্রাংশু নিজে থেকেই তৃণমূল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিলে উপ-নির্বাচনের প্রয়োজন হলে আলোদেবীকেই প্রার্থী করবে দল।

এই অঙ্ক বিলক্ষণ জানেন মুকুলবাবু। কারণ বাংলার রাজনীতিতে দলবদলের কাণ্ডারি হিসাবে গত এক দশকে তাঁর ধারেকাছে কেউ-ই যেতে পারেননি। ফলে তিনি মুখে যতই পুত্রের রাজনৈতিক জীবনে হস্তক্ষেপের বিরোধী হন না কেন, সন্তানস্নেহের কাছে তিনিও হেরে যাচ্ছেন। বিজেপি সূত্রে খবর, দলের দিল্লি নেতৃত্ব এই একই ব্যাপারে মুকুলবাবুর উপর যথেষ্ট রুষ্ট। দলের সংগঠন বাড়ানোর দায়িত্ব দিয়ে তাঁকে বিজেপি-তে নিয়ে আসা হলেও তিনি নিজের পুত্রকেই কেন দলে টানতে পারছেন না, এমন প্রশ্নও তোলা হচ্ছে। সব মিলিয়ে মোটেই স্বস্তিতে নেই তৃণমূলের এই প্রাক্তন ‘জেনারেল’।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here