জলপাইগুড়ির চা-বাগানে হঠাৎ হাজির বিশ্বসুন্দরী মানুশি ছিল্লর, কেন?

0
5957
manushi chhilar felicitated in tea garden

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: রবিবার ছুটির দুপুরের অলস চা-বাগান। হঠাৎ সেখানে হাজির একঝাঁক ঝলমলে আলো। চোখ ধাঁধিয়ে গেল চা-বাগানের হতদরিদ্র মহিলাদের। মাথায় সোনার মুকুট পরে দাঁড়িয়ে এক সুন্দরী। তাঁর সাথে আরও কয়েক জন সুন্দরী চা-এর সবুজ বাগিচায়।

আরও পড়ুন: ১৭ বছর পরে ভারতের ঘরে ‘মিস ওয়ার্ল্ড’ খেতাব, শিরোপা জিতলেন হরিয়ানার মানুশি

যদিও চা-বাগানের মহিলারা তখনও জানতেন না মুকুট পরা সুন্দরী সত্যি একজন ‘বিশ্বসুন্দরী’। তিনি ‘মিস ওয়ার্ল্ড ২০১৭’ মানুশি ছিল্লর। টিভির পর্দায় দেখা থাকলেও এই সবুজ পাতার গালিচায় তাঁকে প্রথমে অনেকেই চিনতে পারেননি। পরে জানতে পেরে উচ্ছ্বসিত হয়ে ওঠেন তাঁরা। তবে শুধু মানুশি ছিল্লর নন, নিউজিল্যান্ড, ইংল্যান্ড, কোরিয়া-সহ সাত দেশের সুন্দরীরা হাজির হয়েছিলেন এক সঙ্গে।

manushi chhilar in mogolkata tea gardenআসলে মিস ওয়ার্ল্ড খেতাব জেতার অঙ্গ হিসেবে মিস ওয়ার্ল্ড মানুশি ছিল্লর এবং অন্যান্য দেশের সুন্দরীরা একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের হয়ে মেয়েদের উন্নয়নে কাজ করছেন। সম্প্রতি মহিলাদের স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার নিয়ে সচেতনতা বাড়াতে ওই স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা দেশ জুড়ে কাজ শুরু করেছে। সেই সূত্রেই রবিবার উড়ে আসা জলপাইগুড়ির সবুজ বলয়ে। তাঁরা যান বানারহাটের মোগলকাটা চা বাগানে। সাত দেশের সুন্দরীরা ছাড়াও ছিলেন ওই স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের কর্তারা এবং মিস ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশনের চেয়ারপার্সন জুলিয়া মর্লে।

বিজ্ঞাপন

মানুশি ছিল্লর চা-বাগানের মহিলাদের কাছে স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহারের উপযোগিতা বুঝিয়ে বলেন। বস্তুত, চা-বাগান এলাকায় ন্যাপকিন ব্যাবহারের প্রবণতা এখনও অনেক কম। ছাত্রীদের মধ্যে কিছুটা সচেতনতা এলেও চা-বাগানে কাজ করা মহিলাদের মধ্যে এর ব্যবহার নেই বললেই চলে। যার ফলে নানা রকম গাইনোকোলজিক্যাল সমস্যায় ভোগেন তাঁরা। এই নিয়ে তাঁদের সচেতন করেন মানুশি। খুব কম খরচে কী ভাবে মহিলারা নিজেদের স্বাস্থ্যরক্ষা করবেন তার পরামর্শ দেন। কলকাতায় তৈরি পাটের ন্যাপকিন বিনামূল্য তুলে দেন তাঁদের হাতে। এই ন্যাপকিন খুব কম দামে বাজার থেকে কিনতে পাওয়া যাবে। বিশ্ব সুন্দরীর আবেদন ফেলতে পারেননি বাগানের মহিলারা। তাঁরা কথা দেন, এ বার থেকে ন্যাপকিন ব্যবহারে সজাগ হবেন।

বাগানের ম্যানেজার মৃগাঙ্ক ভট্টাচার্য জানিয়েছেন, বিশ্বসুন্দরীর এই বাগানে আসা এবং তাঁর পরামর্শ মহিলাদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে। প্রায় ঘণ্টাদুয়েক চা বাগানে কাটান মানুশি এবং অন্যরা। মহিলাদের আবদার মেনে সবুজ গালিচায় ছবিও তোলেন। বিকেলে শিলিগুড়ির বাগডোগরা বিমানবন্দর হয়ে উড়ে যান দিল্লি।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here