মেয়ের সম্ভ্রম বাঁচাতে স্বামীকে ‘খুন’ করলেন স্ত্রী, শিউরে উঠছে চা বাগান

0
Jalpaiguri husband killing

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: “ধর্ষক” বাবার হাত থেকে তরুণী মেয়ের “সম্ভ্রম” বাঁচাতে গিয়ে “খুন” করলেন মা। শিউরে ওঠার মতো ঘটনাটি ঘটেছে ডুয়ার্সের কারবালা চা বাগানে।

বুধবার মধ্যরাতে জলপাইগুড়ির বানারহাট থানায় খবর আসে কারবালা চা বাগানে স্ত্রীর হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন স্বামী।ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ। চা বাগানে শ্রমিকের কাজ করেন মমতা কালিন্দী। তাঁর বাড়ির বারান্দায় পড়েছিল মমতার স্বামী বছর পঞ্চাশের দুর্গা কালিন্দীর রক্তাক্ত মৃতদেহ। একটু দূরেই পড়েছিল রক্তমাখা কুঠার। মৃতদেহ উদ্ধার করার পর থানায় নিয়ে আসা হয় মমতাদেবীকে। রাতভর তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাঁর বৃতান্ত শুনে চমকে ওঠেন বানারহাট থানার ওসি বিপুল সিনহা।

বুধবার রাতে মদ্যপ অবস্থায় বাড়ি ফিরেছিল স্বামী দুর্গা কালিন্দী। ঘরে ঢুকে ঘুমন্ত তরুণী মেয়ের উপর পাশবিক অত্যাচার চালানো শুরু করে। মেয়ে বাধা দিলে তার ওড়না দিয়ে গলা পেঁচিয়ে মেয়েকে খুন করার চেস্টা করে গুণধর বাবা। মেয়ের চিৎকার শুনে ছুটে এসে ঘটনা দেখে স্থির থাকতে পারেননি মমতা। ঘরেই থাকা কাঠ কাটার কুঠার দিয়ে স্বামীর ঘাড়ে, গলায়, পিঠে আঘাত করেন। সেখানেই লুটিয়ে পড়ে দুর্গা। চিৎকার শুনে ছুটে আসেন প্রতিবেশীরা। তাঁরাই থানায় খবর দেন।

বিজ্ঞাপন

সব শোনার পর ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০৪’এ ধারায় (অনিচ্ছাকৃত খুনের ধারা) মামলা করে মমতাকে গ্রেফতার করে পুলিশ।বৃহস্পতিবারই তাঁকে জলপাইগুড়ি আদালতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। তাকে ১৪ দিনের জেলা হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক।

যদিও জেলে যাওয়ার জন্য এতটুকও দুঃখিত দেখায়নি মমতাদেবীকে। বরং মেয়ের “ইজ্জত” বাঁচাতে পারায় প্রশান্তির ছবি তাঁর মুখে। কারণ অনেক, অনেকদিন ধরেই স্বামীর পাশবিক অত্যাচারের স্বীকার হচ্ছে গোটা পরিবার।

আদলতের হাজতে দাঁড়িয়ে তিনি জানালেন, এই প্রথম নয়, এর আগেও নেশাগ্রস্ত অবস্থায় মেয়ের সঙ্গে অভব্য ব্যাবহার করেছে স্বামী।

তবে দুর্গা কালিন্দীর কীর্তি এখানেই শেষ নয়। তার দ্বিতীয় স্ত্রী রয়েছেন, অলকা। তিনি মমতার ছোট বোন। বিয়ের পর থেকে কারবালা চা বাগানে শ্বশুর বাড়িতেই থাকত দুর্গা। বাঁধাধরা কোনো কাজ ছিল না। ইচ্ছে হলে দিনমজুরির করত আর সেই টাকায় মদ খেয়ে চুর হয়ে থাকত। হাতে টাকা না থাকলে চাবাগানের শ্রমিক মমতার রোজগার ছিনিয়ে নিয়ে নেশা করত। বাড়ি ফিরে মারধর তো ছিলই। এরপর একই বাড়িতে থাকা শ্যালিকা অলকাকেও বিয়ে করে দুর্গা।

মমতা জানিয়েছেন, তাঁর অলক্ষ্যে ভয় দেখিয়ে জোর করে শ্যালিকার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক তৈরি করেছিল স্বামী। তাতেই  অলকা দুর্গাকে বিয়ে করতে বাধ্য হন। ছোটবোনের মুখ চেয়ে তা মেনে নেন মমতা। নেশা করে এলাকার মহিলাদের উত্যক্ত করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। মমতা জানিয়েছেন, স্বামীর প্রকৃতি এতটাই নীচে নেমে গিয়েছিল যে নিজের তরুণী মেয়ের দিকে হাত বাড়াতেও দ্বিধাবোধ হয়নি। পড়শিরা বলছেন, উচিত শাস্তি পেয়েছে ‘শয়তান’ বাবা। তাঁদের একটাই আফসোস,  এক ব্যাভিচারীকে খুন করার তকমা নিয়ে এখন বন্দি জীবন কাটাতে হবে ‘মমতাময়ী’ মা-কে।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here