স্বপ্নপূরণ হবে কি? চিন্তায় মাধ্যমিকে ৯২ শতাংশ পাওয়া বাবা হারানো রাহুলদেব

0
198
burdwan madhyamik

নিজস্ব প্রতিনিধি, বর্ধমান: ক্যানসার চিকিৎসার জন্য ৩০ লক্ষ টাকা প্রয়োজন ছিল। কিন্তু টাকা না জোগাড় করতে পারায় বিনা চিকিৎসায় বাবাকে হারিয়েছে সে। মাটির বাড়িতে অভাব অনটনের সংসার। একেবারে অসহায় পরিস্থিতি থেকে মাধ্যমিকে নজরকাড়া সাফল্য বর্ধমান উদয়পল্লি শিক্ষা নিকেতন হাই স্কুলের রাহুলদেব বালার। তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৪৮, অর্থাৎ ৯২.৫৭ শতাংশ, যা তার স্কুলের মধ্যে সর্বোচ্চ। কিন্তু এত নম্বর পেয়েও মুখে হাসি নেই তার। আগামী দিনে স্বপ্ন পূরণ হবে কী ভাবে?

ভবিষ্যতে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হতে চায় রাহুল। বাবা পরিতোষ বালা চেয়েছিলেন বলেই ছেলের এই স্বপ্ন।
ছেলের পড়াশোনার খরচ চালানোর জন্য বাবা মারা যাওয়ার পর দিনরাত বিড়ি বাঁধার কাজ করছেন রাহুলের মা চুমকি দেবী। উদয়পল্লির রবীন্দ্র কলোনির মাটির দেওয়ালের উপর এক চালা টালির বারান্দায় বসেই বিড়ি বাঁধার কাজ সারেন তিনি। জরাজীর্ণ ঘরবাড়ি। বর্ষা আসলেই টালির চাল থেকে জল পড়ে বই ভিজে যায় রাহুলের।

তবে অভাবের তাড়নায় পড়াশোনায় যাতে কোনো অসুবিধে না হয় তার জন্য অক্লান্ত পরিশ্রম করে চলেছে পরিবারের বাকিরা। দাদু পরিমল বালা এখন ষাটোর্ধ্ব প্রবীণ। তবু এখনও মাটি কাটার কাজে যান। সেন্টারিংয়ের পাটার কাজ করে সংসার খরচ জোগাড় করেন কাকা।

তবে এখন আগামী দিনের পড়াশোনার খরচ চালানোর মতো সামর্থ নেই তাদের। ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ার জন্য আপাতত বিজ্ঞান বিভাগ বাছলেও উচ্চমাধ্যমিক সম্পূর্ণ করবে কী ভাবে তা-ও জানে না সে।

এখন ভরসা জুগিয়েছেন স্কুলেরই শিক্ষকরা। রাহুলের মা জানান, তার স্কুলের শিক্ষকরাই আপাতত সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন। বাংলার শিক্ষক মলয় বন্দ্যোপাধ্যায়, তার পড়াশোনার খরচ জোগাতে সহযোগিতা করছেন। স্কুলের প্রধান শিক্ষক গোপাল ঘোষাল বলেন, “এই ভাবে লড়াই করছে এ রকম মেধাবী ছাত্র, এমনটা খুব কম দেখেছি।” তাকে আরও বেশি সাহায্যের আশ্বাসও দেন তিনি।

তবে এই অভাবের সংসারে কম বয়সেই কাজে যোগ না দিয়ে সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার হওয়ার স্বপ্ন কী ভাবে পূরণ হবে জানে না রাহুল ও তার মা। রাহুলের একটি স্পষ্ট আবেদন, কেউ যদি সাহায্যের একটু হাত বাড়িয়ে দেয় তা হলে বড়ো উপকার হয়।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here