এক মন্ত্রীর কাহিনি: ৪ বছরে বিপিএল কার্ডধারী থেকে কোটি-কোটিপতি, এখন ধর্ষণের অভিযোগে পলাতক

0
108

লখনউ: পালিয়ে বেড়াচ্ছেন উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী গায়ত্রী প্রজাপতি। পুলিশ তাঁকে হন্যে হয়ে খুঁজছে। সোমবার তাঁর হাজিরা সুপ্রিম কোর্টে। এক মহিলাকে গণধর্ষণ এবং তাঁর মেয়েকে নিগ্রহের অভিযোগ রয়েছে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশেই তাঁর বিরুদ্ধে এফআইআর দায়ের করে উত্তরপ্রদেশ পুলিশ।

সোমবার মন্ত্রীর বিরুদ্ধে সুপ্রিম কোর্টে মামলা উঠছে। তাঁর বিরুদ্ধে যে জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা জারি করা হয়েছে তাতে স্থগিতাদেশ আনতে পালিয়ে-বেড়ানো মন্ত্রী যে এক গুচ্ছ আইনজীবীকে আদালতে হাজির করাবেন তা বলাই যায়। ও দিকে মন্ত্রী যদি গ্রেফতার এড়িয়ে চলেন এবং জেরার জন্য হাজির না হন সে ক্ষেত্রে তাঁর সম্পত্তি কী ভাবে বাজেয়াপ্ত করা যায় তা নিয়ে পুলিশ হোমওয়ার্ক করে চলেছে।

কে এই গায়ত্রী প্রজাপতি?

বিজ্ঞাপন

রাজনীতির সিঁড়ি বেয়ে পাঁচ বছরে কী ভাবে দরিদ্র থেকে ধনবান হওয়া যায় তার জ্বলন্ত উদাহরণ এই গায়ত্রী প্রজাপতি।

২০১২ পর্যন্ত গায়ত্রী প্রজাপতি ছিলেন বিপিএল কার্ডধারী। বিধানসভা নির্বাচনে চার চার বার ব্যর্থ হওয়ার পর পঞ্চম বারের চেষ্টায় ২০১২ সালে ভোটে জিতে বিধায়ক হন। গান্ধী পরিবারের পদধূলি-ধন্য অমেঠি কেন্দ্রে কংগ্রেসের অমিতা সিংকে হারিয়ে পাদপ্রদীপের আলোয় আসেন গায়ত্রী। সমাজবাদী পার্টির সুপ্রিমো মুলায়ম সিং যাদব ও তাঁর ভাই শিবপাল যাদবের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠেন এই গায়ত্রী।

শিবপাল যাদবের জোরাজুরিতে অখিলেশ তাঁর মন্ত্রিসভায় নেন গায়ত্রীকে। তিনি সেচ দফতরের প্রতিমন্ত্রী হন। পাঁচ মাস পর উন্নতি, স্বাধীন প্রতিমন্ত্রী, সঙ্গে খনি মন্ত্রকও দেওয়া হয়। ২০১৪-এর জানুয়ারিতে আবার পদোন্নতি। তিনি খনি উন্নয়নের পূর্ণ মন্ত্রী হন।

ঠিক এক বছর পরে তাঁর বিরুদ্ধে লোকায়ুক্তে অভিযোগ দায়ের করেন লখনউয়ের নূতন ঠাকুর। তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ছিল, তিনি বিপুল পরিমাণ বেআইনি সম্পত্তি করেছেন। গায়ত্রী প্রজাপতি যে একটি মাইনিং সিন্ডিকেট তৈরি করে ফেলেছেন, তার প্রমাণস্বরূপ নথিপত্র লোকায়ুক্তে জমা দেন ঠাকুর। উল্লেখ্য, নূতন ঠাকুরের স্বামী অমিতাভ ঠাকুরের সঙ্গেও সমাজবাদী পার্টির নেতৃত্বের ঝামেলা বেঁধেছিল। অমিতাভের অভিযোগ ছিল, তাঁর সক্রিয়তার জন্য মুলায়ম তাঁকে ভয়ংকর পরিণতির হুমকি দিয়েছিলেন।  

আয়ের সঙ্গে সঙ্গতিহীন মামলায় লোকায়ুক্ত ক্লিন চিট দিলেও এলাহাবাদ হাইকোর্ট তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দেয়। কালে কালে গায়ত্রী মুলায়মের দ্বিতীয় পুত্র প্রতীক যাদবের ঘনিষ্ঠ হয়ে ওঠে।

গায়ত্রী প্রজাপতি, তাঁর স্ত্রী মহারাজি, দুই কন্যা সুধা ও অঙ্কিতা এবং দুই পুত্র অনুরাগ ও অনিলের কী কী বেআইনি সম্পত্তি আছে তার বিশদ হিসেব নূতন ঠাকুর লোকায়ুক্তকে দিয়েছিলেন। অখিলেশ সরকারে মন্ত্রী হওয়ার পর এক ডজন কোম্পানির মালিক হয়েছেন গায়ত্রী প্রজাপতি। সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল থেকে শুরু করে হসপিট্যালিটি সেক্টর, রফতানি কোম্পানি, নির্মাণ শিল্প, অ্যাগ্রো টেক – প্রায় সব ধরনের শিল্পেই কোম্পানি গড়ে ফেলেছেন প্রজাপতি।

নূতন ঠাকুরের অভিযোগের যথার্থতা প্রমাণিত হয়েছে আয়কর দফতরের জবাবে। তারা জানিয়েছে, গায়ত্রীর ড্রাইভারও দু’ বছরে ৭৭ লক্ষ টাকার সম্পত্তি করেছে।

এর পর গণধর্ষণের অভিযোগ। এক মহিলা তাঁর বিরুদ্ধে গণধর্ষণের অভিযোগ করেন। মহিলার কন্যাকেও প্রজাপতি নিগ্রহ করেন বলে অভিযোগ দায়ের করা হয়। ২০১৪-এর অক্টোবর থেকে ২০১৬-এর জুলাই পর্যন্ত তাঁকে দফায় দফায় গণধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়। সুপ্রিম কোর্ট মহিলার অভিযোগের ভিত্তিতে প্রজাপতি ও আরও ৬ জনের বিরুদ্ধে পুলিশকে এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দেয়। সেইমতো পুলিশ ভারতীয় দণ্ডবিধির ধারা অনুসারে তাঁদের বিরুদ্ধে ১৮ ফেব্রুয়ারি ধর্ষণের মামলা রুজু করে। পুলিশ যদিও বলছে, প্রজাপতি লুকিয়ে রয়েছেন, কিন্তু গত ২৭ ফেব্রুয়ারি অমেঠিতে তাঁকে ভোট দিতে দেখা গিয়েছে।

গায়ত্রী প্রজাপতি যাতে দেশ ছেড়ে পালাতে না পারে তার জন্য দু’ দিন আগে দেশের সমস্ত বিমানবন্দরকে সতর্ক করে দিয়েছে পুলিশ, তাঁর পাসপোর্ট আপাতত রদ করে দেওয়া হয়েছে এবং তাঁর বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।          

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here