কেন্দ্রীয় বাজেটকে ঘিরে আশায় বুক বাঁধছে চা-বলয়

0
101

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: চা-শ্রমিকদের দুর্দশা কি এ বার কিছুটা ঘুচবে? সাধারণ বাজেট পেশের আগে এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে উত্তরের চা-বলয়ে। ‘কর ছাড়’ ,’বিশেষ অনুদান’ এবং ‘টি টুরিজম’-এর ওপর গুরুত্ব দিক কেন্দ্রীয় সরকার, চাইছে মালিক ও শ্রমিক উভয়েই।

এ রাজ্যের সিংহভাগ চা উৎপাদন হয় মূলত উত্তরবঙ্গে। জলপাইগুড়ি, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং-এ রয়েছে ২৭৩টি চা বাগান, যার ওপর নির্ভরশীল প্রায় তিন লক্ষ মানুষ। চা উৎপাদন উত্তরের প্রধান শিল্প। কিন্তু গত এক দশক ধরে বিভিন্ন সমস্যায় জর্জরিত চা বাগানগুলি । ঠিকমতো মজুরি দিতে না পারা, উৎপাদন কমে যাওয়া-সহ একাধিক কারণে চা বাগান বন্ধ হয়ে যাওয়া প্রায় নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। গত তিন মাসে ৪টি চা বাগান এই সব কারণে বন্ধ হয়ে গিয়েছে। এর ওপর নোট বাতিলের ধাক্কায় অবস্থা আরও সঙ্গীন হয়েছে চা-শ্রমিকদের। এই পরিস্থিতিতে বুধবার সাধারণ বাজেট পেশ করতে চলেছেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। সেই বাজেটকে ঘিরেই আশা-নিরাশায় দুলছে চা-বলয়।

তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠন  আইএনএনটিইউসি-র জলপাইগুড়ি জেলা সভাপতি মিঠু মোহন্তর অভিযোগ, এই সরকার চা-শ্রমিকদের প্রতি উদাসীন, তাই বাজেটে এই সরকারের কাছ থেকে তেমন কিছু আশা করার নেই। রায়পুর চা বাগানের শ্রমিক প্রধান হেম্ব্রমের বক্তব্য, নোট বাতিলের ফলে মজুরি নিয়ে চা-শ্রমিকেরা যে সমস্যায় পড়েছেন, বাজেটে তার সুরাহা করতে হবে, তবেই সমস্যা কিছুটা মিটবে। এ দিকে চা-বাগানের মালিকদের দাবি, চা বাগানগুলিকে সমস্যার হাত থেকে বাঁচাতে বাজেটে কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। ইন্ডিয়ান টি প্ল্যান্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের উপদেষ্টা অমিতাংশু চক্রবর্তী দাবি জানিয়েছেন, চা শিল্পকে পুনরুজ্জীবিত করতে ‘কর ছাড়’ এবং ‘বিশেষ অনুদান’-এর ঘোষণা হোক বাজেটে। টি অ্যাসোসিয়েশন অফ ইন্ডিয়ার জলপাইগুড়ি শাখার সম্পাদক রাম অবতার শর্মার  দাবি, বাজেটে ‘টি টুরিজম’কে প্রাধান্য দিলে এই শিল্পে নতুন জোয়ার আসবে।

বাজেট ঘিরে নানা মুনির নানা মত।এখন দেখার এটাই, কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী আগামীকাল তাঁর ঝুলি থেকে কী উপহার দেন।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here