এক হাজার রোহিঙ্গাকে মেরেছে মায়ানমার, দাবি রাষ্ট্রপুঞ্জের আধিকারিকের

0
210

নিউ ইয়র্ক: রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মায়ানমার সেনার সাম্প্রতিক ধরপাকড়ে অন্তত হাজার জন নিহত হয়েছেন। এমনই দাবি করেছেন বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের ব্যাপারে কাজ করা রাষ্ট্রপুঞ্জের দুই সংস্থার আধিকারিক।

রোহিঙ্গা মুসলিমদের ওপর মায়ানমার সেনার অত্যাচারের খবর নতুন কিছু নয়। গত বছরের শেষ দিক থেকে সেই অত্যাচারের মাত্রা আরও বেড়েছে বলে অভিযোগ। এই আধিকারিকদের দাবি, রোহিঙ্গা সঙ্কটের পুরো ছবিটা এখনও সারা বিশ্বের কাছে স্পষ্ট নয়। উল্লেখ্য, মায়ানমার সেনার অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে গত কয়েক মাসে অন্তত ৭০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী হয়ে বাংলাদেশে এসেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক আধিকারিক বলেন, “এতদিন ভাবা হচ্ছিল শ’খানেক রোহিঙ্গা মুসলিম নিহত হয়েছেন। কিন্তু এখন মনে হচ্ছে সেই সংখ্যা আরও দশগুণ বেশি।”

একশো জনের নিহত হওয়ার খবর অবশ্য অস্বীকার করছে না মায়ানমার। উলটে তাদের দাবি গত অক্টোবরে সন্ত্রাসবাদী হামলা ঘটিয়েছিল রোহিঙ্গা জঙ্গিরা। সেই জঙ্গিদের বিরুদ্ধেই ধরপাকড় অভিযান চালায় সেনা। তবে জঙ্গি নিধনের নামে সাধারণ নাগরিক, মহিলা এবং শিশুদের ওপর অত্যাচারের কথা সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন সে দেশের প্রেসিডেন্সিয়াল মুখপাত্র জ তে।

উত্তর-পশ্চিম মায়ানমারের রাখাইন প্রদেশে প্রায় এক লক্ষ রোহিঙ্গা মুসলিমের বাস। সংখ্যাগুরু বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মায়ানমার তাদের বাংলাদেশ থেকে আসা বেআইনি অনুপ্রবেশকারী মনে করে। তাই তাদের ওপর অত্যাচারের অভিযোগ দীর্ঘদিনের। কিন্তু ইতিহাস বলে রোহিঙ্গা মুসলিমরা আদতে রাখাইন প্রদেশেরই বাসিন্দা।

অন্য দিকে, বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা মুসলিমদের ঠেঙারচর নামক এক সামুদ্রিক দ্বীপে পুনর্বাসন দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ সরকার। এতে তীব্র আপত্তি জানিয়েছে মানবাধিকার সংগঠন হিউমান রাইটস ওয়াচ। কক্সবাজারের অদূরে ওই বন্যাপ্রবণ দ্বীপে পাঠানো হলে নিজেদের স্বাধীনতা, জীবনযাপন সব কিছু থেকেই বিচ্ছিন্ন হবেন রোহিঙ্গারা। তেমন হলে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠবে বাংলাদেশ সরকারের বিরুদ্ধেও। এমনই জানিয়েছেন হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক ব্র্যাড অ্যাডামস।   

রোহিঙ্গা মুসলিমদের পাশে দাঁড়িয়ে মুখ খুলেছেন পোপ ফ্রান্সিসও। মায়ানমার সরকারকে এক হাত নিয়ে পোপ বলেন, “নিজেদের ধর্ম এবং সংস্কৃতি ধরে রাখার জন্যই রোহিঙ্গা মুসলিমদের মারা হচ্ছে।”

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here