গ্রেফতারি থেকে উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রীকে রেহাই দিল না সুপ্রিম কোর্ট

0

নয়াদিল্লি: গণধর্ষণে অভিযুক্ত উত্তরপ্রদেশের মন্ত্রী গায়ত্রী প্রজাপতিকে গ্রেফতারি থেকে বাঁচানোর ব্যাপারে কোনো ব্যবস্থা নিল না সুপ্রিম কোর্ট। শীর্ষ আদালত পরিষ্কার বলে দিয়েছে, মন্ত্রীর বিরুদ্ধে জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা জারি হয়েছে। তিনি আইনের আশ্রয় নিতে পারেন।  

গায়ত্রী প্রজাপতির আইনজীবীকে আদালত বলে, “আমাদের নির্দেশ ছিল এফআইআর দায়ের করার, অন্য কিছু নয়। পুলিশ তদন্ত করে আমাদের রিপোর্ট দিক। আমরা গ্রেফতারির নির্দেশ দিইনি। যদি জামিন-অযোগ্য পরোয়ানা জারি হয়ে থাকে, আপনাদেরও অন্য রাস্তা আছে।”

এক মহিলাকে গণধর্ষণ ও তাঁর মেয়েকে নিগ্রহ করার অভিযোগে ৪৯ বছরের মন্ত্রী অভিযুক্ত। মহিলার বক্তব্য, পুলিশ তাঁর অভিযোগ না শোনায় তিনি আদালতের দ্বারস্থ হন। শেষ পর্যন্ত আদালতের হস্তক্ষেপে পুলিশ এফআইআর দায়ের করে।

বিজ্ঞাপন

প্রজাপতির আইনজীবী বলেন, এফআইআর দায়ের করার আগে তাঁর মক্কেলকে আদালতে বলার সুযোগ দেওয়া হয়নি। মামলা দায়ের করার পরেও আদালতকে জানানো হয়নি। তাই তাঁকে গ্রেফতারের চেষ্টা বন্ধ করা দরকার।

আদালত বলে, “আমাদের আগেকার নির্দেশ যখন জারি করেছিলাম, তখন উত্তরপ্রদেশ সরকারের আইনজীবী সেখানে ছিলেন। আমরা বার বার তাঁকে জিগগেস করে ছিলাম। এটা এখন রাজনৈতিক রঙ নিচ্ছে।”

উল্লেখ্য, রবিবার উত্তরপ্রদেশের রাজ্যপাল রাম নায়েক মুখ্যমন্ত্রী অখিলেশ যাদবকে চিঠি দিয়ে জানতে চেয়েছেন, মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও তাঁকে কেন মন্ত্রিসভায় রেখে দেওয়া হয়েছে? দুর্নীতির অভিযোগে গত বছর গায়ত্রী প্রজাপতিকে মন্ত্রিসভা থেকে সরিয়ে দিয়েছিলেন অখিলেশ। কিন্তু বাবা মুলায়ম সিং যাদবের জোরাজুরিতে আবার তাঁকে ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন তিনি।

উত্তরপ্রদেশে নির্বাচনী প্রচার চালাতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং তাঁর দল এই ব্যাপারটি নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীকে ঠুকে এসেছেন। অখিলেশ যাদব শুক্রবার বলেন, “আমি বলতে পারি, সুপ্রিম কোর্ট যে হেতু নোটিশ জারি করেছে, উত্তরপ্রদেশ সরকার সব রকম ভাবে সাহায্য করবে। আমিও চাই সত্যি বেরিয়ে আসুক।”প্রজাপতিকে আত্মসমর্পণ করার পরামর্শ দিয়ে অখিলেশ বলেন, “গণতন্ত্রে কোনো কোনো পরিস্থিতি আপনাকে বাধ্য করে কিছু লোককে টিকিট দিতে। দলকে পরিচ্ছন্ন রাখার জন্য আমি সব রকম ভাবে চেষ্টা করেছি।”    

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here