প্রেমের শহরে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে ম্যাসাকার’

0
84

সানি চক্রবর্তী:

প্যারিস সাঁ জাঁ – ৪ (ডি’মারিয়া-২, ড্র্যাক্সলার, কাভানি)   বার্সেলোনা-০

প্রেমের শহরে তখনও প্রেমদিবস পালনের ঘোর কাটেনি। তার মাঝেই শহরের বাসিন্দাদের ভ্যালেন্টাইন্স ডে উপহার দিল প্যারিস সাঁ জাঁ। এককথায় তাদের স্বপ্নপূরণ ঘটিয়ে দিলেন ডি’মারিয়া-রেবিওরা। বার্সেলোনাকে স্ত্যাদ দে ফ্রান্সে ৪-০ ব্যবধানে চূর্ণ করে দিল পিএসজি। জোড়া গোল করে প্রেমদিবসের জন্মদিনটা স্মরণীয় করে রাখলেন আনখেল ডি’মারিয়া। চ্যাম্পিয়ন্স লিগের নক-আউট স্তরের প্রথম দিনেই কার্যত সবথেকে বড়ো অঘটনের দেওয়াল লিখনটা লেখা হয়ে গেল। শেষ ষোলো পর্ব থেকে এবারে লুই এনরিকের দলের বিদায় আটকাতে পারে একমাত্র কোনো অলৌকিক ঘটনা। আর যেরকম দাপট প্যারিসের দলটি দেখাল, তাতে বার্সার ফিরতি লেগে বিপক্ষকে ৫ গোল দেওয়া তো দূরে থাক, আর গোল যাতে না হজম করতে হয় সেটাই নিশ্চিত করতে লড়তে হবে তাদের।

অনেক ফুটবলপ্রেমীই ভেবেছিলেন, পিএসজি’র উপরে বরাবরের মতো বুলডোজার চালিয়ে দেবে বার্সা। দুই ক্লাবেই খেলা কিংবদন্তি রোনাল্ডিনহো কিন্তু ম্যাচের আগের দিন বলেছিলেন, “দুরন্ত খেলোয়াড়দের নিয়ে গড়ে সেরা দুটো দলের লড়াই হতে চলেছে। তাই দারুণ খেলা হবে। আর আগে থেকে কোনো ফলাফল ভেবে নেওয়াটা বোকামো।” ইউরোপের ক্লাবপর্যায়ে সেরা প্রতিযোগিতা চোখে আঙুল দিয়ে সেটাই দেখিয়ে দিল। ফুটবলের ফলাফল ভেবে নেওয়াটা শুধু বোকামিই নয়, একেবারে মুর্খামি।

কাতালান ক্লাবটির ফ্রান্স যাত্রার আগে যে ফলাফলটা দুঃস্বপ্নেও ভাবতে পারেননি বার্সা সমর্থকরা, দুরন্ত প্যারিস সাঁ জাঁ দলটি সেটাই করে দেখাল। অ্যাওয়ে ম্যাচ বলেই খেলাটা কিছুটা ঢিমেতালে শুরু করেছিলেন সুয়ারেজ-মেসিরা। পিএসজি কিন্তু প্রথম থেকেই একেবারে সর্বশক্তি দিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েছিল। গতিময়-পজেশানাল ফুটবলের সামনে তখন আতসকাঁচ দিয়ে খুজতে হচ্ছে ইনিয়েস্তা-মেসিদের। কিছু বুঝে ওঠার আগেই আক্রমণের সুনামি হেনে বার্সার তরীকে কার্যত টলিয়ে দিয়ে যান রেবিও-ভেরেত্তিরা। প্রতিআক্রমণ, আক্রমণ, মাঝমাঠে বলের দখল কেড়ে নেওয়া, ডিফেন্সের মাঝে ফাঁক ফোকর বের করা, সবেতেই বার্সাকে বলে বলে টেক্কা দিল পিএসজি। প্রথম থেকেই টের স্টেগেনকে তার দক্ষতার শীর্ষে উঠতে হয়েছিল পিএসজিকে আটকাতে। তবে ডি’মারিয়ার অসাধারণ ফ্রি-কিকে ভেঙে খানখান হয়ে গেল তার যাবতীয় প্রতিরোধ। আর তারপর থেকে একেবারে ওয়ান ওয়ে ট্রাফিক। খেলার ১৮ মিনিটের মাথায় বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া ফ্রি-কিকে প্রথম গোল ডি’মারিয়ার। ছটফটে ড্র্যাক্সলারকে আটকাতে বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করতে বাধ্য হন উমটিটি। আর সেখান থেকেই বাঁ পায়ের ম্যাজিক আর্জেন্টাইন বার্থডে বয়ের।

মাঝে নেইমার কিছুটা পালটা প্রয়াস করলেও বেশিরভাগ সময়েই একা পড়ে যাচ্ছিলেন। ২৮ মিনিটে গোমেসের শট ট্রাপের দুরন্ত সেভের পরে ফের আধিপত্য নিজেদের দখলে আনে পিএসজি। ৪০ মিনিটে মেসির পা থেকে বল কেড়ে নিয়ে আক্রমণ গড়ে আসে তাদের দ্বিতীয় গোল। রেবিও বল ছিনিয়ে নিয়ে বাড়ান ড্র্যাক্সলারকে। ভেরেত্তির সঙ্গে ওয়ান-টু খেলে বক্সে ঢুকে জাল কাঁপিয়ে দেন তরুণ জার্মান। দুই গোলের বোঝা নিয়ে দ্বিতীয়ার্ধ শুরুর পরে আশা করা গিয়েছিল কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বার্সা। যদিও পিএসজি অন্য পরিকল্পনা নিয়েই মাঠে নেমেছিল। ৫৫ মিনিটের মাথায় ডি’মারিয়ার বিশ্বমানের গোলের পরে কার্যত গোটা টাইয়ের ভাগ্য লেখা হয়ে যায়। ডান প্রান্তে নেইমারকে টপকে কার্যত ফ্রি-রানে ভিতরে ঢুকে পড়েন মুনিয়ার। মাতুইদির সঙ্গে খেলে ইনিয়েস্তাকে টপকে প্রথম পোস্টের ঠিক পাশ দিয়ে বাঁক খাওয়ানো প্রায় ২৫ গজি শটে নিজের দ্বিতীয় ও দলের তৃতীয় গোলটি করে যান ডি’মারিয়া। তাকে হ্যাটট্রিকের সুযোগ না দিয়ে ৬০ মিনিটের মাথায় তুলে নেন উনাই এমরি। অন্যদিকে, রাফিনহা-রাকিটিচকে নামিয়েও বার্সার খেলায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। বরং ৭২ মিনিটে মুনিয়েরের পাস ধরে ভ্যালেন্টাইন্স ডে’র অপর বার্থডে বয় এডিনসন কাভানি দলের চতুর্থ গোলটি করে যান। শেষলগ্নে কিছুটা বার্সা আক্রমণ থমকে দিয়ে ‘ভ্যালেন্টাইন্স ডে ম্যাসাকার’ সম্পূর্ণ করে পিএসজি।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here