পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে সহবাসের অভিযোগ, থানায় গেলেন নির্যাতিতা

0
159

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: রক্ষকই যদি ভক্ষক হয়, তা হলে সুবিচার দেবে কে? এখন এই প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে জলপাইগুড়ির প্রত্যন্ত এলাকার প্রতারিত তরুণীর মনে। এক এএসআই-এর বিরুদ্ধে শারীরিক নির্যাতন-সহ একাধিক অভিযোগ তুলে আইনের দ্বারস্থ নির্যাতিতা ওই তরুণী।

জলপাইগুড়ির শিকারপুরের বাসিন্দা লক্ষ্মী রায় (নাম পরিবর্তিত) বছরখানেক আগে পারিবারিক একটি মামলায় জড়িয়ে পড়েন। সেই মামলার তদন্তকারী অফিসার ছিলেন রাজগঞ্জ থানার এএসআই ধীরেন্দ্রনাথ বর্মণ। সেই সূত্রেই পরিচয়। ওই আধিকারিক তরুণীকে এই মামলার হাত থেকে রেহাই দেবেন, এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে ঘনিষ্ঠতা তৈরি করেন। এর পরে বিয়ের প্রতিশ্রতি দিয়ে একাধিকবার সহবাস। এর মধ্যেই তরুণী জানতে পারেন ওই পুলিশকর্মী বিবাহিত। তখন বিয়ের জন্য চাপ দিতে থাকেন তরুণী। এর মধ্যেই সহবাসের জেরে গর্ভবতী হয়ে পড়েন তিনি। পরে বিয়ে করবেন, এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে শহরের একটি নার্সিংহোমে জোর করে গর্ভপাত করানো হয় বলে অভিযোগ। নির্যাতিতার দাবি, ওই পুলিশকর্মীর স্ত্রী সব ঘটনাই জানতেন। এমনকি গত সপ্তাহে বিয়ের আশ্বাস দিয়ে তাঁকে জলপাইগুড়ি শহরে নিজের ফ্ল্যাটে এনে তোলেন ওই পুলিশকর্মী। অভিযোগ, বিয়ে করার বদলে তাঁকে রীতিমতো মারধর করতে থাকেন অভিযুক্ত পুলিশকর্মী ও তার স্ত্রী। ঘটনা ধাপাচাপা দিতে তাঁকে হুমকির পাশাপাশি টাকার প্রলোভনও দেখানো হয় বলে অভিযোগ। কিন্তু তাতে রাজি না হওয়ায় শুক্রবার সকালে ওই তরুণীকে মারধর করে ফ্ল্যাট থেকে বের করে দেন ধীরেন্দ্রনাথ রায় ও তাঁর স্ত্রী। এর পরে ফোনে পরিবারের লোকদের সব জানান ওই তরুণী। পরে দুপুরে তাঁদের সঙ্গে নিয়ে জলপাইগুড়ি কোতোয়ালি থানার মহিলা সেলে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন তিনি। অভিযোগ, জানাজানি হতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়ে পড়ে পুলিশমহলে। অভিযুক্ত পুলিশকর্মী বর্তমানে জলপাইগুড়ি জেলা ও দায়রা আদালতের রেকর্ড সেকশনে ‘নন জেনারেল রেকর্ড অফিসার’ পদে কর্মরত। তরুণীর অভিযোগ নিয়ে তাঁর কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি কোনো কথা বলতে অস্বীকার করেন। তবে জেলা পুলিশ সুপার অমিতাভ মাইতি জানিয়েছেন, আইন আইনের পথে চলবে। অভিযুক্ত পুলিশকর্মীর বিরুদ্ধে বিভাগীয় তদন্ত করা হবে।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here