এক দশকে সবচেয়ে মারাত্মক জলসঙ্কটের মুখে ভারত

0
135

খবর অনলাইন : ‘কোথায় একটু জল পাই বলুন তো?’ — সুকুমার রায়ের ‘অবাক জলপান’ নাটকে পথিকের এই প্রশ্নের উত্তর যা এসেছিল তা অনেকেরই জানা। তবে কেন্দ্রীয় জল কমিশনের রির্পোট যা ইঙ্গিত দিচ্ছে তাতে হয়তো আগামী দিনে কেউ জল খুঁজতে গিয়ে ওই প্রশ্ন করলে বাস্তবে ওই উত্তর পাওয়া যেতে পারে।

সম্প্রতি প্রকাশিত জল কমিশনের সাপ্তাহিক বুলেটিন থেকে জানা যাচ্ছে জমা জলের ভাণ্ডার কমছে হু হু করে। দেশের ৯১টি প্রধান জলাধারে জলস্তর নেমেছে ২৯ শতাংশ। গত দশ বছরে এত কম কখনও হয়নি।

গত বছরে ৯১টি প্রধান জলাধারে জলের পরিমাণ ছিল ৭১ শতাংশ। কেন্দ্রীয় জল কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, গত দশ বছরে এই পরিমাণ গড়ে কমবেশি ৭৪ শতাংশ ছিল।

দেশের এই প্রধান জলাধারগুলিতে জল রয়েছে ১৫৭.৮ বিলিয়ন কিউবিক মিটার (বিসিএম)। এদের জলধারণ ক্ষমতা ২৫০ বিলিয়ন কিউবিক মিটার। এ ছাড়া, সেচের জন্য ৪০০বিসিএম জল পাওয়া যায় মাটির নীচ থেকে। বর্ষা আসতে এখনও তিন মাস। এই অবস্থায় আশঙ্কা, ভারতে দশ বছরের মধ্যে সব চেয়ে বেশি জলসঙ্কট দেখা দেবে এই বছরে।

মহারাষ্ট্রের মারাঠাওয়াড়ায় কয়েক হাজার গ্রামবাসী রেকর্ডভাঙা খরার কবলে পড়েছে। তাদের কাছে জলের একমাত্র উৎস হল সরকারের সরবরাহ করা জলের ট্যাঙ্কার। লাতুরে তিন সপ্তাহে এক বার সরকারের সরবরাহ করা জলের ট্যাঙ্কার আসে। সেখানে জল নিয়ে পরিস্থিত অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতে পারে এই আশঙ্কায় জেলা প্রশাসন সাধারণ মানুষের জমায়েতে নিষেধাজ্ঞা বলবৎ করেছে। মহারাষ্ট্র সরকার সেখানকার ছোট-বড় শহরের সুইমিং পুলগুলিতে জল সরবরাহ বন্ধ করে দেওয়ার কথা ভাবছে।

উত্তরপ্র্দেশ এবং মধ্যপ্রদেশে ছড়িয়ে থাকা বুন্দেলখণ্ড এলাকায় জলাভাবের জন্য শীতকালের চাষের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সেখানকার বাসিন্দাদের নুন কিনতেই এখন হিমশিম অবস্থা। ওড়িশায় চাষিরা ফসল বাঁচানোর জন্য সরকারি জলাশয়ের পাড় কেটে জমিতে জল এনেছেন।

জলের দাবিতে বেঙ্গালুরুতে চাষিরা পথ অবরোধ করেন। জলাভাবের সমস্যা দেখা দিয়েছে কর্ণাটক, অন্ধ্রপ্রদেশেও। কৃষ্ণা অববাহিকায় জল কম থাকার জন্য প্রভাব পড়েছে মহারাষ্ট্র, কর্ণাটক, তেলঙ্গানা এবং অন্ধ্রপ্রদেশে।

জল কমিশনের রিপোর্ট বলছে, তাপ্তি, গোদাবরী, কাবেরী নদীতে জলাভাব রয়েছে। মহারাষ্ট্রের ভিমা-উজ্জানি এবং অন্ধ্রপ্রদেশের নার্গাজুনসাগর জলাধারের জলধারণ ক্ষমতা যথাক্রমে ১.৫ বিসিএম এবং ৬.৮বিসিএম। এই দুই জলাধারই কার্যত জলশূন্য।

তবে এই সমস্যা নতুন নয়। ১৯৯৩ সালেও একটি রিপোর্টে কেন্দ্রীয় জল কমিশন জানিয়েছিল, ক্রমশ বাড়তে থাকা জনসংখ্যা এবং জলকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন অর্থনৈতিক কাজকর্মের জন্য দেশের জলসম্পদের উপর অত্যাধিক চাপ পড়ছে।

২০১২ সালে জাতীয় জল নীতিতে কৃষি বা শিল্পের থেকেও পানীয় এবং শৌচকার্যের জন্য প্রয়োজনীয় জলকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ভারতের গ্রামীণ এলাকা ১৭ লক্ষ গ্রাম নিয়ে তৈরি। এর মধ্যে তিন-চতুর্থাংশ অর্থাৎ ১৩ লক্ষ গ্রামের গ্রামের মানুষ মাত্র পানীয়, রান্নাবান্না, শৌচকার্য, স্নান এবং জামাকাপড় কাচার জন্য দৈনিক গড়ে চল্লিশ লিটার করে জল পান। দেশের ৬৬,০৯৩টি গ্রামের অধিবাসীরা আর্সেনিক, ফ্লোরাইড, নাইট্রেটের মতো দূষিত রাসায়নিক মিশ্রিত জল পান করেন।

দিবস আসে দিবস যায়, দিন বদলায় না। দু’দিন আগেই বিশ্ব জল দিবস পালিত হয়েছে। টুইট করে, জল দিবসের অনুষ্ঠানে নানা সর্তকবাণী, আশ্বাস শুনিয়েছেন আমাদের রাষ্ট্র পরিচালকরা। কিন্তু দিন কি বদলাবে? না কি জলের জন্য চোখের জলে, নাকের জলে অবস্থাই আমাদের ভবিতব্য?


বিজ্ঞাপন
loading...

1 মন্তব্য

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here