জন্মনিরোধকে আস্থার জের, বিলুপ্ত হয়ে যেতে পারেন নাস্তিকরা

0
148

কুয়ালা লামপুর: ধার্মিক মানুষ জন্মনিরোধকের ব্যবহার কম করেন। তাই তাঁদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে। অন্যদিকে জন্মনিরোধক ব্যবহার করে ক্রমেই কমে যাচ্ছে নাস্তিকেরা। পরিস্থিতি যে দিকে গড়াচ্ছে, তাতে এমন দিন আসতে পারে, যখন বিলুপ্ত হয়ে যাবেন নাস্তিকরা। আমেরিকা ও মালয়েশিয়ার একদল গবেষকের করা সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই ছবি।

সাধারণ ভাবে মনে করা হয়, ধর্মে বিশ্বাসী মানুষের সংখ্যা দুনিয়া জুড়ে কমে যাচ্ছে। বিজ্ঞানীরাও তেমন মতই পোষণ করে থাকেন। কিন্তু এই সমীক্ষা সম্পূর্ণ উল্টো পরিসংখ্যান সামনে নিয়ে এসেছে।

মালয়েশিয়া এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গবেষকরা সম্প্রতি দুই দেশের চার হাজার ছাত্র-ছাত্রীর ওপর এই সমীক্ষা চালান। সেখানে তাঁদের ধর্মীয় বিশ্বাস এবং ভাইবোনের সংখ্যা জানতে চাওয়া হয়। দেখা যায়, মালয়েশিয়ার নাস্তিক পরিবারগুলির ছেলেমেয়ের সংখ্যা, সে দেশের গড়ের তুলনায় দেড় গুন কম। অন্যদিকে আমেরিকায় পরিসংখ্যানটা অনেক কাছাকাছি। সে দেশে পরিবারপিছু গড় সন্তানের সংখ্যা ৩.২। আর নাস্তিক পরিবারগুলিতে সন্তানের সংখ্যা ৩.০৪।

বিজ্ঞাপন

“এটা একটা খুবই আশ্চর্য ব্যাপার। এক কালে ধর্ম নিরপেক্ষরাই জন্ম নিয়ন্ত্রণের পদ্ধতির বিকাশ ঘটিয়েছিলেন। এখন সেই পদ্ধতির প্রয়োগের জেরেই এমন পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে, যে আগামী প্রজন্মে ধর্ম নিরপেক্ষদের সংখ্যা ক্রমেই কমে যেতে থাকবে”, বলছেন গবেষকরা।

বিতর্ক উঠতে পারে, ধর্মে বিশ্বাসী বাবা-মায়ের সন্তানও যে তেমনই হবে, তার কি মানে আছে? কিন্তু সমীক্ষা হয়েছে তা নিয়েও। তাতে দেখা গেছে, ধর্মীয় বিশ্বাস উত্তরাধিকার সূত্রে বাহিত হয়। প্রকৃতপক্ষে প্রকৃতি এবং বড়ো হয়ে ওঠা এক্ষেত্রে প্রায় নির্ধারক ভূমিকা পালন করে থাকে। একজন মানুষ কেমন ভাবে বড়ো  হচ্ছেন, তার ওপর তার বিশ্বদৃষ্টিভঙ্গি গড়ে ওঠা নির্ভর করে। যেটা পরবর্তীতে জিনগত চরিত্রে পরিণত হয়। 

যাদের মধ্যে বেশি মাত্রায় ঈশ্বরে বিশ্বাসের প্রবণতা থাকে, তারা নির্দিষ্ট জিনের অধিকারী হন।

গবেষকরা ব্যাখ্যা দিয়েছেন, ঊনবিংশ শতাব্দীর আগে অবধি কার কী জিন, তার ওপর প্রজননের হার নির্ধারিত হত না। কিন্তু ঊনবিংশ শতাব্দীর মাঝে এসে পরিস্থিতি পাল্টে গেল। বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের ফলে প্রজনন প্রক্রিয়ার ব্যাখ্যা মিলল এবং সেই ব্যাখ্যার দ্বারা প্রজননের হার প্রভাবিত হতে থাকল। এই প্রবণতা মূলত দেখা গেল শিল্পোন্নত দেশগুলিতে।

যদিও সেই সময় জন্ম নিয়ন্ত্রণের নিরাপদ এবং কার্যকরী পদ্ধতির বিকাশ ঘটেনি। গবেষকরা বলছেন, “সে সময় যে সব ব্যক্তিরা নিজেদের জীবনে জন্ম নিয়ন্ত্রণের প্রয়োগ করছিলেন, তাঁরা ছিলেন মূলত উচ্চশিক্ষিত এবং তাঁরা ধর্ম বিশ্বাসে দৃঢ় ছিলেন না”।

“মানব ইতিহাসে সেই প্রথম ধর্ম নিরপেক্ষরা ধর্মপ্রাণ মানুষদের তুলনায় অনেক বেশি মাত্রায় নিজেদের প্রজননের হার কমিয়ে আনতে শুরু করেছিলেন”।

 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here