আবিষ্কার হল স্বাভাবিকের থেকে অন্তত তিনগুণ বেশি শস্য উৎপাদন পদ্ধতি, পড়ুন বিশদে

0
867

কুইনসল্যান্ড (অস্ট্রেলিয়া) : ২০৫০ সালের মধ্যেই বর্তমানে উৎপাদিত খাদ্যের ৬০% থকে ৮০% বেশি খাদ্যশস্য উৎপাদনের উপায় বের করে ফেলতে হবে বৈজ্ঞানিকদের। দ্রুত বেড়ে চলা জনসংখ্যার নিরিখে এমনটাই পরিস্থিতি হতে চলেছে। এই বিষয়ে মাথা ঘামিয়েও এত দিন কোনো সদুত্তর পাননি তাঁরা। কিন্তু এ বার বিড়ালের গলায় ঘণ্টা বাঁধলেন অস্ট্রেলিয়ার কুইনসল্যান্ডের এক দল বিজ্ঞানী। এই বিজ্ঞানীরাই বিশ্বের মধ্যে সর্বপ্রথম ‘স্পিড ব্রিডিং টেকনিক’ আবিষ্কার করলেন। এই পদ্ধতিতে প্রায় তিনগুণ খাদ্যশস্য উৎপাদন করা সম্ভব হবে।

এর আগে নাসা মহাকাশে শস্য উৎপাদন করেছিল। সেই পদ্ধতিকে কাজে লাগিয়েই পৃথিবীর বুকে তিনগুণ বেশি শস্য উৎপাদনের উপায় বাতলালেন এই বিজ্ঞানীরা। নাসার ওই পদ্ধতটির বিশেষত্ব হল গমের ওপর একটানা আলো ফেলে উৎপাদনশিলতা তৈরি করা।

ইউনিভার্সিটি অব কুইনসল্যান্ডের সিনিয়ার রিসার্চ ফেলো লি হিকি বলেন, এই ‘স্পিড ব্রিডিং টেকনিক’ ব্যবহার করা হয়েছে একটা বিশেষ ধরনের কাঁচের ঘরে। এই পদ্ধতির মাধ্যমে এক বছরে ছ’ বার ছোলা, গম, বার্লি আর চার বার ক্যানোলা চাষ করতে পারা যাবে। যেটি সাধারণ কাচের ঘরে দুই অথবা তিনবার হওয়া সম্ভব। আর মাঠের সাধারণ অবস্থায় সম্ভব মাত্র এক বারই।

তিনি বলেন, তাঁদের অভিজ্ঞতা বলছে বর্ধিত সূর্যালোক, নিয়ন্ত্রিত পরিবেশ শস্যের গুণমান আর উৎপাদনের পরিমাণের উন্নতি ঘটায়। যেটি সাধারণ পরিস্থিতি হওয়া সম্ভব নয়।

গবেষক লি বলেন, বিশ্বজুরে এই পদ্ধতির ব্যাপক চাহিদা। কারণ শুধু অস্ট্রেলিয়াতেই ৪০ বছর ধরে গমের উৎপাদন বাড়ানো নিয়ে জল্পনা চলছে। কিন্তু পথ বের হয়নি। গম চাষের সময়ের জলীয় আবহাওয়াই নিয়ন্ত্রণ করা দূষ্কর হয়ে যায়। তাই এই আবিষ্কার যে দারুণ আলোড়ন সৃষ্টি করবে আর জনপ্রিয়তা পাবে, সে বিষয়ে সন্দেহ নেই।

তিনি বলেন, এই পদ্ধতি কাজে লাগিয়ে তাঁরা উচ্চফলনশীল গম ‘ডিএস ফারাডে’ তৈরি করেছেন।

ডও অ্যাগ্রো সায়েন্সেস-এর সঙ্গে যৌথভাবে এই গবেষণাটি করেন কুইনস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা।

‘নেচার’ পত্রিকায় গবেষণাপত্রটি প্রকাশিত হয়।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here