কী আশ্চর্য! পৃথিবীটা নাকি হিমশীতল হয়ে গিয়েছিল কয়লা তৈরির সময়

0
648

ওয়েবডেস্ক: বিশ্ব উষ্ণায়ণের কারণ হিসেবে কিন্তু পরিবেশবিদরা দায়ী করেন একেই। আধুনিক জ্বালানি যা কিছু রয়েছে, সবই তো এই কয়লা থেকেই তৈরি। জ্বালানি খরচের সময় কার্বন পুড়ে তৈরি হয় কার্বন ডাই অক্সাইড। আর ক্রমশ উষ্ণ হয়ে ওঠে পরিবেশ। অথচ সাম্প্রতিক এক গবেষণা বলছে ৩০ কোটি বছর আগে এই কয়লা যখন প্রথম তৈরি হওয়া শুরু করল মাটির নীচে, পৃথিবীটা নাকি একটা বরফের বলে পরিণত হয়েছিল।

জার্মানির পোস্টডাম ইনস্টিটিউট ফর ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট রিসার্চের বিজ্ঞানীরা গবেষণা করে বলেছেন, প্রায় ৩০ কোটি বছর আগে পৃথিবীটা ছিল জঙ্গলে ভরা। গাছপালা পুড়ে ধ্বংস হয়ে যেতে লাগল। এ বার সেই গাছেদের দেহের ধ্বংসাবশেষ জমতে লাগল ভূপৃষ্ঠের নীচে। বাতাস থেকে কার্বন ডাই অক্সাইড শোষণ করার ফলে বায়ুমণ্ডলে কমে যেতে থাকল এই গ্রিনহাউজ গ্যাসের পরিমাণ। আর সবটা জমা হতে থাকল ভূপৃষ্ঠের তলায়। এ বার পরিবেশে কার্বন ডাই অক্সাইড কমার ফলে ক্রমাগত কমতে থাকল তাপমাত্রা। এক সময় পৃথিবীটা নাকি পরিণত হয়েছিল বরফের একটা বলে। যাকে ইংরেজিতে বলে ‘স্নো বল স্টেট’।

প্রসিডিং অব ন্যাশনাল অ্যাকাডেমি অব সায়েন্সেজ জার্নালে প্রকাশিত হওয়া এই গবেষণা আরও এক বার চিন্তায় ফেলেছে আন্তর্জাতিক বিজ্ঞানী মহলকে। গবেষণা বলছে, এক সময়ে মাটির নীচে ঘনীভূত হয়ে থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড পৃথিবীর তাপমাত্রার সাম্য নষ্ট করেছিল। তবে সেটা ছিল মানবসভ্যতার জন্মের অনেক আগের ঘটনা। এখন আবার পরিস্থিতি ঠিক উলটো। অতিরিক্ত জীবাশ্ম জ্বালানি ব্যবহারের ফলে মাটির তলায় থাকা কার্বন ডাই অক্সাইড মিশছে বায়ুমণ্ডলেই। দূষিত হচ্ছে পরিবেশ। ক্রমাগত বাড়ছে পৃথিবীর গড় তাপমাত্রা। আবার স্থিতাবস্থা নষ্ট হতে চলেছে পৃথিবীর। সুতরাং ফের অনিশ্চয়তার মুখে প্রাণীজগতের ভবিষ্যৎ।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here