খোঁজ মিলল পৃথিবীর মতো সাতটি গ্রহ সমন্বিত এক সৌরমণ্ডলের

0
247

ব্রুসেলস্‌ : মাত্র ৩৯ আলোকবর্ষ দূরে সন্ধান পাওয়া গেল এক নতুন সৌরমণ্ডলের, যাতে রয়েছে পৃথিবীর মতো সাত সাতটি গ্রহ, পৃথিবীর মতোই ঈষদুষ্ণ, পৃথিবীর মতোই পাথুরে।

বিজ্ঞানীদের এই নব আবিষ্কারের কথা বুধবারই প্রকাশিত হয়েছে ‘নেচার’ পত্রিকায়। একটি মাত্র তারকাকে ঘিরে এক সঙ্গে এতগুলো গ্রহের কক্ষপথে আবর্তন, এই প্রথম আবিষ্কার করলেন জ্যোতির্বিদরা।

গবেষকরা বলছেন, পৃথিবী ছাড়াও ভিন্ন জগত আছে কিনা, পৃথিবীর বাইরে এই নক্ষত্রপুঞ্জে আর কোথাও প্রাণ আছে কিনা, তা নিয়ে গবেষণা করার সব চেয়ে উপযুক্ত ল্যাবেরটরি হবে এই নবাবিষ্কৃত সৌরমণ্ডল। “এর আগে জাগতিক গ্রহ নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষা করার মতো চারটেই জায়গা ছিল এবং এগুলি সবই আমাদের সৌরমণ্ডলে” — বলেছেন বেলজিয়ামের লিগে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রহ-গবেষক এবং নতুন আবিষ্কার সংক্রান্ত গবেষণাপত্রের মুখ্য লেখক মিখায়েল গিলন। তিনি বলেন, “আমাদের বোঝার ক্ষেত্র আরও বেড়ে গেল। এখন আমাদের হাতে রয়েছে পৃথিবীর মতো সাতটি গ্রহ। হ্যাঁ, জল এবং প্রাণ খুঁজে পাওয়ার প্রচুর সম্ভাবনা রয়েছে। আর প্রাণ এবং জীবন যদি না-ও পাওয়া যায়, যা পাওয়া যাবে সেটাই দারুণ ইন্টারেস্টিং হবে।”

highlightনবাবিষ্কৃত সৌরমণ্ডলটি আমাদের সৌরমণ্ডলটির একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ। এর কেন্দ্রে রয়েছে একটি বামন তারকা, নাম ট্রাপিস্ট-১। এটি আয়তনে আমাদের সূর্যের দশ ভাগের এক ভাগ, এবং উত্তাপ সূর্যের এক-চতুর্থাংশ। গ্রহগুলো খুব কাছাকাছি থেকে ঘুরছে। সব চেয়ে কাছের যে গ্রহ তার ট্রাপিস্ট-১কে ঘুরতে সময় লাগে দেড় দিন, আর সব চেয়ে দূরের গ্রহটির সময় লাগে ২০ দিন। এই গ্রহগুলো যদি কোনো আরও বড়ো আরও উজ্জ্বল কোনো তারাকে ঘিরে ঘুরত, তা হলে পুড়ে কুড়মুড়ে হয়ে যেত। কিন্তু এই ট্রাপিস্ট-১ এতটাই ঠান্ডা যে এই গ্রহগুলোর যতটা উষ্ণতা পাওয়ার দরকার, ততটাই পায়, যা তরল জল ধরে রাখার পক্ষে খুবই উপযোগী। এদের মধ্যে তিনটি গ্রহ ঠিক ততটাই উষ্ণতা পায়, যতটা পায় শুক্র, পৃথিবী এবং মঙ্গল। তাই এই তিনটি গ্রহকে ‘বাসযোগ্য অঞ্চল’ তথা ‘গোল্ডিলক্স অঞ্চল’ বলে মনে করা হচ্ছে যেখানে প্রাণের বেড়ে ওঠার সমূহ সম্ভাবনা থাকে।

তবুও এই নতুন বিশ্বকে ‘পৃথিবীর মতো’ বলাটা খুব বেশি হয়ে যাবে। যদিও আকারে, ভরে এবং তারার কাছ থেকে শক্তি পাওয়ার ক্ষেত্রে ট্রাপিস্ট-১ গ্রহগুলোর সঙ্গে পৃথিবীর অনেক মিল আছে, তবুও আমাদের পৃথিবী বাসযোগ্য হওয়ার আরও অনেক কারণ আছে। ট্রাপিস্ট-১ গ্রহগুলো কী দিয়ে তৈরি, তাদের বায়ুমণ্ডল আছে কিনা, যার যার অনু থাকলে বিজ্ঞানীরা বলতে পারেন ‘প্রাণের চিহ্ন’ বা ‘বায়োসিগনেচার্স’ আছে সেই জল, মিথেন, অক্সিজেন ও কার্বন ডাই অক্সাইড আছে কিনা তা ভালো ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে হবে। প্ল্যানেটারি সায়েন্স ইনস্টিটিটের গ্রহ-গবেষক এলিজাবেথ অ্যাডামস বলেছেন, “হলফ করে বলতে পারি এই সব পরিমাপ করার জন্য লোকে এখন ছুটবে। এটিই এখন দেখার।”

এমনই চমকপ্রদ, এমনই যুগান্তকারী এই আবিষ্কার।      

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here