কানাডার উপকূলে মিলেছে প্রাচীনতম জীবাশ্ম, দাবি ব্রিটিশ বিজ্ঞানীদের

0
171

লন্ডন: পৃথিবীর প্রাচীনতম জীবাশ্ম আবিষ্কারের দাবি করেছেন এক দল ব্রিটিশ বিজ্ঞানী। তাঁদের দাবি, এই জীবাশ্মের বয়স অন্ততপক্ষে ৩৭৭ কোটি বছর। এগুলোর বয়স ৪২৮ কোটি বছর পর্যন্ত হতে পারে। বৃহস্পতিবার ‘নেচার’-এ এই আবিষ্কারের কাহিনি সবিস্তার প্রকাশিত হয়েছে। এই জীবাশ্ম পাওয়া গিয়েছে সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম আঁশ (ফিলামেন্ট) ও নলের (টিউব) আকারে। গবেষকদের বিশ্বাস, লোহার ওপর বেড়ে ওঠা ব্যাক্টেরিয়ার জীবাশ্ম এগুলো। ব্যাপারটি যদি সত্যি হয়, তা হলে এগুলিই হল, পৃথিবীর প্রাণের সঙ্গে সব চেয়ে প্রাচীন প্রত্যক্ষ যোগসূত্র।

জীবাশ্মর এই নমুনা প্রোথিত ছিল কোয়ার্টৎজ পাথরে, পাওয়া গিয়েছে কানাডার কুইবেকের কাছে হাডসন বে-র পূর্ব উপকূল বরাবর প্রত্যন্ত নুভভুয়াগিটুক সুপারক্রাস্টাল বেল্টে (এনএসবি)। যে আন্তর্জাতিক গবেষকদলটি এই জীবাশ্ম আবিষ্কার করেছেন তাঁদের নেতৃত্বে ছিলেন ইউনিভারসিটি কলেজ লন্ডনের ডমিনিক প্যাপিনিউ এবং ম্যাথু ডড। গবেষকরা দীর্ঘদিন ধরেই জানেন, বিশ্বের প্রাচীনতম পাললিক শিলার আবাসভূমি এই এনএসবি তথা নুভভুয়াগিটুক সুপারক্রাস্টাল বেল্ট। এই সব পাথর সৃষ্টি হয়েছে পৃথিবী সৃষ্টি হওয়ার মাত্র ১০ কোটি বছর পরে অর্থাৎ এই সব পাথরের বয়স ৪৬৫ কোটি বছর।

গবেষকদল বলেছে, হাডসন বে-র এই অঞ্চলটি এক সময়ের লৌহসমৃদ্ধ গভীর সমুদ্রে জলতাপীয় প্রবেশ-নির্গমন ব্যবস্থার (হাইড্রোথার্মাল ভেন্ট) অংশ ছিল, যা ব্যাক্টেরিয়া জন্মানোর পক্ষে উর্বর স্থান। ম্যাথু ডড বলেছেন, “পৃথিবী গ্রহ তৈরি হওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই সমুদ্রের উত্তপ্ত তলদেশে প্রবেশ-নির্গমন পথ দিয়ে প্রাণের সৃষ্টি হয়েছিল বলে যে ধারণা আছে, আমাদের আবিষ্কারে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে।” হাডসন বে-তে পাওয়া এই জীবাশ্ম অতি ক্ষুদ্র, ঢেউ খেলানো, আণুবীক্ষণিক এবং হেমাটাইটে (আয়রন অক্সাইডের একটি রূপ) তৈরি, যার প্রস্থ মানুষের একটি চুলের অর্ধেক। ক্যালিফোর্নিয়া ও নরওয়েতে হাইড্রোথার্মাল ভেন্টের কাছে লোহাকে জারিত করার শক্তিসম্পন্ন যে ব্যাক্টেরিয়া পাওয়া গিয়েছে, তার সঙ্গে হাডসন বে-তে পাওয়া জীবাশ্মের বেশ মিল আছে। তবে ক্যালিফোর্নিয়া ও নরওয়েতে পাওয়া ওই ব্যাক্টেরিয়ার বয়স অনেক কম, ৪৫ লক্ষ বছর আর ১৮ লক্ষ বছর।

এর আগে প্রাচীনতম জীবাশ্ম বলে যে আবিষ্কার হয়েছিল তা মিলেছিল ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ায়। এর বয়স ছিল ৩৫০ কোটি বছর। এই একই শিরোপা পাওয়ার অধিকারী আরেক জায়গার জীবাশ্ম। গত গ্রীষ্মে তা মিলেছিল গ্রিনল্যান্ডে, বিজ্ঞানীরা বলেছিলেন এর বয়স ৩৭০ কোটি বছর।

তবে তখন থেকেই এই সব ফলাফলের যথার্থতা নিয়ে বিতর্ক হয়ে আসছে। কারণ, যে সব পাথরের ওপর এই জীবাশ্ম পাওয়া যায় তার বয়স সঠিক ভাবে নির্ণয় করা খুব কঠিন। গ্রিনল্যান্ডের মতো, এনএসবি-তে পাওয়া ‘জীবাশ্ম’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন বহু বিজ্ঞানী। যেগুলিকে জীবাশ্ম বলা হচ্ছে, তা আদৌ জীবাশ্ম কিনা তা নিয়ে অনেকে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। যেমন ভূতত্ত্ববিদ মার্টিন জে ফান ক্রানেনডঙ্ক বলেছেন, এনএসবি-তে নমুনাগুলো ‘ডুবিওফসিলস’, এর কোনো বায়োলজিক্যাল উৎস নেই। ক্রানেনডঙ্কের এই বক্তব্য অবশ্য উড়িয়ে দিয়েছেন ব্রিটিশ বিজ্ঞানীরা।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here