এফএ কাপ জিতল দুরন্ত আর্সেনাল

0
299

আর্সেনাল – ২ (স্যাঞ্চেজ, রামসি)    চেলসি – ১ (কোস্তা)

সানি চক্রবর্তী: ভাগ্যের ‘হাত’ আর্সেনালের কাঁধে। অবশ্য পুরোনো প্রবাদটাও এক্ষেত্রে সত্যি। ভাগ্য সঙ্গী হয় সাহসীদের। দুরন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলে ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়ন চেলসিকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে এফএ কাপ জিতল আর্সেনাল। ইংল্যান্ডের দলগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ ১৩ বার। কোচ হিসেবে আর্সেন ওয়েঙ্গার জিতলেন রেকর্ড ৭ বার। চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ফের একবার বায়ার্ন মিউনিখের কাছে বাজে ভাবে হেরে ছিটকে যাওয়ার পর থেকেই ওয়েঙ্গারকে সরানোর দাবি জোরালো হয়েছিল। ২১ বছর পরে চ্যাম্পিয়ন্স লিগ থেকে ছিটকে যাওয়ার ক্ষতে এফএ কাপের মলম লাগিয়ে আপাতত লাল-সাদা সমর্থকদের মতে ফের একবার ‘ওয়েঙ্গার ইন’।

সাহসী হয়েই অ্যান্তোনিও কন্তের তিন ডিফেন্ডার তত্ত্বেই চেলসির বিরুদ্ধে তিন ডিফেন্ডারে নেমেছিলেন আর্সেন ওয়েঙ্গার। গানার্স শিবিরে সবথেকে সেরা দুই ডিফেন্ডার লরেন্ট কোসেলনি ও শাখো মুস্তাফি ছিলেন না, তাতেও। দলের মতোই খারাপ মরশুম কাটছিল পের মারটেসাকারের, সেই জার্মান ডিফেন্ডারই এদিন ওয়েঙ্গারের রক্ষাকর্তা হয়ে উঠলেন। এর আগে গোটা মরশুমে মাত্র ৩৭ মিনিট খেলেছিলেন তিনি। শুধু আর্সেনাল রক্ষণকে ভরসাই দিলেন না বেশিরবাগ ক্ষেত্রে পালটা আক্রমণ শুরুর ভরকেন্দ্রও হয়ে রইলেন মারটেসাকার। খেলা শুরুর মিনিট চারেকের মধ্যে বিতর্কিত গোলে লিড নেয় আর্সেনাল। প্রথমার্ধে তাদের দাপট ছিল প্রশ্নাতীত। চেলসি একটু হালকা চালে শুরু করার মাশুলটাই দিল বলা চলে। দ্বিতীয়ার্ধে তেড়েফুঁড়ে লাগলেও ভিক্টর মোসেস বিপক্ষ বক্সে ডাইভ দিয়ে পেনাল্টি আদায়ের বৃথা প্রয়াস চালালেন। উলটে দ্বিতীয়বার লালকার্ড দেখে দলকে দশজনে করে দিয়ে চাপে ফেলে দিয়ে গেলেন। তাও দশজনের চেলসির হয়ে ৭৭ মিনিটে সমতা ফিরিয়ে দিয়েছিলেন সুযোগসন্ধানী কোস্তা। কিন্তু এদিন যোগ্য দলহিসেবেই মিনিট দুয়েকের মধ্যে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে ফের লিড আর্সেনালের। অ্যারন রামসির যে গোলটাই জয়সূচক হয়ে রইল।

চেলসির সমর্থকরা অনন্ত এমনটা মনে করতেই পারেন আর্সেনাল ভাগ্যের একটু বেশি সহায়তা পেয়েছে। মিনিট চারেকের মাথায় অ্যালেক্সি স্যাঞ্চেজ বল নিয়ে বক্সে ঢোকার মুখে তার হাতে লেগে বল সামনে পড়ে। থমকে না গিয়ে এগিয়ে গিয়ে কোর্তোয়াসকে পরাস্ত করে আসেন চিলির এই ফুটবলার। ম্যাচের লিখনটা যেন তখনই লেখা হয়ে গিয়েছিল। গোলটির সময়ে অফসাইড পজিসনে দাঁড়িয়ে ছিলেন অ্যারন রামসি। সহকারি রেফারি সেই সিদ্ধান্তও দিলেন। কিন্তু রেফারি তা পালটে গোলের সিদ্ধান্ত দেন। সিদ্ধান্ত ঘিরে বিতর্ক থাকলেও চেলসির ডিফেন্ডারদের মনসংযোগের অভাব নিয়ে স্যাঞ্চেজের গোলকে কোনোভাবে ছোটো করা যাবে না। তারপর থেকে আর্সেনালের দুরন্ত আক্রমণাত্মক ফুটবল। গোটা ওয়েম্বলি ও লাখো লাখো দর্শক তখন ভাবছেন, গোটা মরশুমে কোথায় ছিল এই আর্সেনাল। দুটি ক্ষেত্রে গোললাইন থেকে গ্যারি কাহিল বল না বাঁচালে প্রথমার্ধেই খেলা শেষ হয়ে যেত প্রিমিয়ার লিগ চ্যাম্পিয়নদের। দ্বিতীয়ার্ধে কিছুটা ভালো খেললেও জাখা-ওজিল-স্যাঞ্চেজরা ছিলেন অপ্রতিরোধ্য। মাঝে মোসেসের লাল কার্ড। পরিবর্ত উইলিয়ানের পাস থেকে কোস্তার গোলের পরে লন্ডনে নীল ঝড় উঠেছিল। দশজনে গোলশোধ করা চেলসি তখন অসাধ্যসাধনের পথে। কিন্তু ঝড় থামতে লাগল মাত্র ২ মিনিট। অপর পরিবর্ত জিরুডের চমৎকার গোললাইন পাস থেকে রামসির কিলার-ব্লো। গোলপোস্টে লেগে গানার্সদের বেশ কিছু প্রয়াস প্রতিহত না হলে আরও লজ্জা পেতে হত কোর্তোয়াসকে। অপরদিকে, আর্সেনালের গোলের নীচে পেত্রা চেকের বদলি ডেভিড ওসপিনা দারুণ কিছু শেভ করেছেন দ্বিতীয়ার্ধে। এদিনের কাপজয় ওয়েঙ্গারের কোচের পদে থাকাতে আপাতত নিশ্চয়তা না দিতে পারলেও, কিছু সম্ভাবনা বাড়াবে বলাই যায়।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here