চ্যারিটি ম্যাচের টিকিট নিতে আসা ইস্টবেঙ্গলের কিংবদন্তি সেই ফুটবলারকে চিনতেই পারেনি আইএফএ!

0
2732
East Bengal Football Club

সমীর গোস্বামী: সাতের দশকের কথা। আইএফএ-তে চ্যারিটি ম্যাচের টিকিট নিতে এসেছিলেন ১৯৪৬-এ কলকাতা লিগের সর্বোচ্চ গোলদাতা স্বামী নায়ার। কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, প্রথমে তাঁকে চিনতে না পারার জন্য টিকিট দিতেই অস্বীকার করেন দায়িত্বপ্রাপ্তরা। তবে নায়ার সহজে ছাড়ার পাত্র নন। তিনি এই নিয়ে হইচই জুড়ে দেন।

পরে কর্তৃপক্ষের কাছে তাঁকে নিজের পরিচয় দিয়ে সেই সেই চ্যারিটি ম্যাচের টিকিট সংগ্রহ করতে হয়।

নায়ারের মুখ থেকেই শুনেছিলাম, তিনি চাকরি করতেন পদ্মশ্রী ফুটবলার শৈলেন মান্নার সঙ্গে একই অফিসে। মান্নাদা তখন খেলছেন মোহনবাগানে। আর নায়ার ইস্টবেঙ্গলে। অফিসে তাঁদের দু’জনের সখ্য ছিল নজরে পড়ার মতোই। অর্থাৎ মাঠের সেই হাড্ডাহাড্ডি লড়াই অফিসে ছিল পুরোপুরি উল্টো। যেদিন মোহনবাগন বনাম ইস্টবেঙ্গলের ম্যাচ থাকত সেদিন তাঁরা একই সঙ্গে অফিস থেকে বের হতেন। পায়ে হেঁটেই পৌঁছে যেতেন মাঠে। রাস্তায় কারও মুখ এক সেকেন্ডের জন্য বন্ধ থাকত না। কিন্তু মাঠে ঢুকেই তাঁদের পথ যেত বেঁকে। যে যাঁর তাঁবুর দিকে হাঁটা দিতেন।

ব্যস, মাঠে নেমে তাঁদের দু’জনের কাছে শুধু বিপক্ষ খেলোয়াড় ছাড়া আর কোনো সম্পর্ক থাকত না। ম্যাচ না শেষ হওয়া পর্যন্ত তাঁরা একে অপরের শত্রু। নায়ার চেষ্টা করছেন মান্নাদাকে টপকে গোল করার আর মান্নাদা চেষ্টা করছেন নায়ারকে রুখে দেওয়ার। এই ঘটনার পুনরাবৃত্তিতেই ম্যাচ শেষ হতো। কিন্তু রেশ রয়ে যেত পরের দিন পর্যন্ত।

অফিসে ঢোকার সময় দেখা যেত তাঁর হাতে একটা বড়োসড়ো মিষ্টির হাঁড়ি, যিনি জিতেছেন ওই ম্যাচে। অফিসের কেউ-ই বাদ পড়তেন না সেই আনন্দে অংশ নিতে। অর্থাৎ মোহনবাগান জিতলে মান্নাদা আর ইস্টবেঙ্গল জিতলে নায়ার নিয়ে যেতেন মিষ্টি।

যদিও আইএফএ এখনও পর্যন্ত স্বামী নায়ারকে নিয়ে কোনো টুর্নামেন্টের আয়োজন করে উঠতে পারেনি। অথবা কলকাতা লিগে এই সর্বোচ্চ গোলদাতার নামে বিশেষ কোনো ট্রফিরও উদ্যোগ নিতে পারেনি।

আরও পড়ুন: কলকাতা লিগে এই ইস্টবেঙ্গল ফুটবলারের গোলের রেকর্ড ৭০ বছর পরেও অক্ষত

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here