‘বদলা ও বদল চাই’-এর মেজাজে মুম্বই বধের ছক কষছে নাইটরা

0
654

সানি চক্রবর্তী:

চলতি মরশুমে দুইয়ে শূন্য। ২০১৫ থেকে মাত্র ১ বার। আর মোট ২০ বারে মাত্র ৫ বার। কলকাতা নাইট রাইডার্স শিবিরের কাছে সব থেকে বড়ো গাঁট মুম্বই ইন্ডিয়ান্সের পরিসংখ্যান এমনটাই।

ফাইনালে ওঠার পথে লাস্ট ল্যাপে সেই মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে নামার আগে নাইট শিবিরের মুডটা ঠিক কেমন? ‘বদলা ও বদল চাই।’ সোজা কথায় চেনা শত্রুকে হারিয়ে ফাইনালের রাস্তা পাকা করে বদলা ও পরিসংখ্যানের খাতায় বদল। গত বারের চ্যাম্পিয়ন সানরাইজার্স হায়দরাবাদকে হারিয়ে গৌতম গম্ভীর যা বলেছেন সেটা গোটা শিবিরের মুড বোঝার জন্য যথেষ্ট। নাইট অধিনায়ক দলকে জিতিয়ে উঠে জানিয়েছেন, “গত বার প্লে-অফে হায়দরাবাদের কাছেই হেরে ছিটকে যেতে হয়েছিল। তাই উলটোটা করে একটা ধাপ টপকানো গিয়েছে। এ বার সামনে মুম্বই। যাদের বিরুদ্ধে আমাদের রেকর্ড বেশ খারাপ জানি, এ বারেও দু’টো ম্যাচেই হেরেছি, প্লে-অফের দ্বিতীয় ম্যাচে সেটাই বদলে ফেলার জন্য সবটা দিয়ে লড়ব।” দশম আইপিএলের গ্রুপপর্বে মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে দু’টি ম্যাচেই শেষ লগ্নে ফসকেছে নাইটরা। ওয়াংখেড়েতে তারা শেষ চার ওভারে ৬০ রান যেমন রুখতে পারেনি, তেমনই ইডেনে শেষ ৩ ওভারে ২৫ রান করতে না পেরে প্রথম দুইয়ে থাকার সুযোগ খুইয়েছে। তাই হিসেবনিকেশ চুকিয়ে নেওয়ার সুযোগের সদ্ব্যবহার করতে মুখিয়ে থাকবে তারা।

পরিসংখ্যান বিপক্ষে থাকলেও মোমেন্টাম কিন্তু এখন শাহরুখের দলের সঙ্গেই। এমনিতে মধ্যরাতে ম্যাচ জিতে হোটেলে ফিরে সেলিব্রেশনের পরে বৃহস্পতিবারটা বিশ্রাম নিয়েই কাটিয়েছে নাইট শিবির। হোটেলের সুইমিং পুলে কুল ডাউন সেশনের পাশাপাশি ঘরে বসেই কম্বিনেশনের মারপ্যাঁচ ঝালিয়ে নিয়ে মুম্বই বধের কৌশল ঠিক করতে নেমে পড়েছেন কালিস-কাটিচরা। এমনিতেই চোটের জেরে আইপিএল ও চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি থেকে ছিটকে যেতে হয়েছে মণীশ পাণ্ডেকে। তাই গত ম্যাচের মতোই ঈশাঙ্ক জাগ্গিই তাঁর বিকল্প হতে চলেছেন। টানা ব্যর্থ হয়ে চলা ইউসুফ পাঠানকে বসিয়ে শেলডন জ্যাকসনকে দলে ফেরানো হতে পারে।

এ দিনও সন্ধের দিকে বৃষ্টিতে ভিজেছে উদ্যাননগরী। শুক্রবারের ম্যাচেও যাতে বরুণদেব ব্যাঘাত না ঘটান, সেটাই মনেপ্রাণে চাইবে কেকেআর শিবির। সেখানকার হাওয়া অফিসের কথায় কিছুটা স্বস্তি পেতে পারেন সমর্থকরাও। কারণ, শুক্রবারে বৃষ্টির সম্ভাবনা কার্যত নেই। কিন্তু বরুণদেব তার পরিকল্পনা বদলালে চিন্তা বাড়তে পারে নাইটদের। কারণ, প্লে-অফে রিজার্ভ ডে না থাকা।

দুই দলই এমনিতে দারুণ শুরু করে শেষ দিকে খেই হারিয়েছে। মুম্বই গত ম্যাচে ব্যাটিং বিভাগে ব্যর্থ হয়েছে। তেমনই বলহাতে দুরন্ত ছন্দ হায়দরাবাদের বিরুদ্ধে মেলে ধরেছেন কোল্টার-নাইস, উমেশরা। তা ছাড়া বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামের নতুন পিচ দুই শিবিরকেই নতুন করে ভাবতে বাধ্য করেছে। আগের মতো দুরন্ত গতিতে না এসে, বল ব্যাটের কাছে আসছে ধীর গতিতে। তাই ১৬০-১৭০ এই পিচে ভালো রান হতে চলেছে। কর্নাটকের ছেলে মণীশকে তাই এখানে না পাওয়াটা সত্যিই বড়ো ক্ষতি। তেমনই কর্নাটকের অপর ব্যাটসম্যান রবিন উথাপ্পার উপরে ভরসা রাখছে টিম ম্যানেজমেন্ট। পিচের চরিত্রই তিন স্পিনারের অঙ্ককে উসকে দিচ্ছে নাইট শিবিরে। সে ক্ষেত্রে সূর্যকুমার যাদব বাদ পড়তে পারেন। এ দিনের ম্যাচে তাই টস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে চলেছে।

মুম্বইয়ের বিরুদ্ধে নাইটদের খারাপ পরিসংখ্যানের পাশপাশি একটি তথ্য সংযোজন না করলেই নয়। নক-আুউট স্তরে এখনও পর্যন্ত মাত্র একটি ম্যাচেই হেরেছে মুম্বই ইন্ডিয়ান্স। ২০১২ সালে চেন্নাই সুপার কিংসের কাছে, এই বেঙ্গালুরুর চিন্নাস্বামী স্টেডিয়ামেই।

ম্যাচ শুরু সন্ধে ৮ টায়।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here