ভারতীয় ফুটবলে জোর ধাক্কা দিতে চলেছে মোহন-ইস্ট, নতুন সর্বভারতীয় ফেডারেশন গড়ে লিগ চালুর ভাবনা

0
19179
শৈবাল বিশ্বাস

এআইএফএফ বা অল ইন্ডিয়া ফুটবল ফেডারেশনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে কলকাতার চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই ক্লাব মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল আলাদা সর্বভারতীয় ফুটবলের পেরেন্ট বডি তৈরি করতে চলেছে। সম্প্রতি ফেডারেশনের সিইও কুশল দাসকে লেখা চিঠিতে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল প্রবল আপত্তি তুলে বলেছে, চালচুলোহীন আইএসএল-কে গুরুত্ব দেওয়া চলবে না। আসলে এআইএফএফ সম্প্রতি এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনকে জানিয়েছে, এবার থেকে আইএসএল-এ বিজয়ী দলই এএফসি কাপ খেলবে। চিরাচরিত আই লিগ বা ফেডারেশন কাপ বিজয়ীরা এই সুযোগ পাবে না। মোহন-ইস্ট কর্তাদের বক্তব্য‌ রিলায়েন্স প্রভাবিত আইএসএল এআইএফএফ-কে কার্যত কিনে নিয়েছে। তারা যা বলছে তাই হচ্ছে। একটা মহল থেকে চেষ্টা করা হচ্ছে ইস্টবেঙ্গল ও মোহনবাগানের মতো দলগুলির গুরুত্ব খাটো করে কর্পোরেট দলগুলিকে মান্য‌তা দিয়ে ভারতীয় ফুটবলকে পুরোপুরি পণ্য‌ে পরিণত করা। এর বদলে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল চেয়েছিল আইএসএলে কোনও শর্ত ছাড়া দেশের সুপ্রাচীন দলগুলিকে খেলতে দেওয়া হোক। তাদের কাছ থেকে কোনও ফ্র্য‌াঞ্চাইজি মানি আদায় করা যাবে না। কিন্তু কর্পোরেট লবির চাপের কাছে এআইএফএফ কর্তারা মাথা নোয়াতে বাধ্য‌ হয়েছেন।

এই পরিস্থিতিতে মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল আলাদা করে সর্বভারতীয় ফেডারেশন তৈরি করে এআইএফএফকে গুরুত্বহীন করে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছে।

অতি সম্প্রতি আইএফএ-র সঙ্গে দুটি দলই কথা চালিয়েছে। দুটি দলেরই প্রস্তাব ছিল, আইএফএ পেরেন্ট বডির সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করে আলাদা সর্বভারতীয় প্রতিষ্ঠান হিসাবে নিজের অস্তিত্ব ঘোষণা করুক। মোহনবাগান ও ইস্টবেঙ্গল সেই প্রতিষ্ঠানে নিজেদের নথিভুক্ত করবে। শুধু তাই নয়, দেশের উত্তর পূর্বাঞ্চল ও গোয়ার দলগুলিও এই ফেডারেশনে নিজেদের নাম নথিভুক্ত করবে বলে কথা দিয়েছে।

আসলে আইএসএল কর্পোরেট লিগ হিসাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠায় গোয়া, পশ্চিমবঙ্গ বা উত্তর পূর্বাঞ্চলের দলগুলি সেভাবে স্পন্সরশিপ পাচ্ছে না। বিজয় মাল্য‌ বেকায়দায় পড়ার পর মোহনবাগান বা ইস্টবেঙ্গল স্পন্সরশিপ নিয়ে চূড়ান্ত অসুবিধায় পড়েছে। গোয়ার দলগুলির অবস্থা আরও খারাপ। চার্চিল অ্য‌ালেমাও ব্রাদার্স কোনও রকমে তাঁদের টিম টিঁকিয়ে রাখতে পারলেও সেসা, ভাস্কো,ডেম্পোর মতো সুপ্রাচীন দলগুলি হয় বন্ধ হয়ে গেছে আর নয়তো ঝাঁপ ফেলার মুখে। উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্য‌গুলিও কর্পোরেট স্পন্সরশিপ পাচ্ছে না। তাদের চাঁদা বা ভিক্ষার ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে আইএসএলের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে আলাদা ফেডারেশনের মাধ্যমে ছোট করে সর্বভারতীয় লিগ শিল্ড চালু করলে এবং রোভার্স, ডুরান্ড, বরদলৈ-এর মতো পুরনো টুর্নামেন্টের গুরুত্ব ফিরিয়ে আনলে তবু খানিকটা অক্সিজেন সঞ্চার হতে পারে। সেই লক্ষ্য‌ে দুটি দল অনেকদূর আলোচনা চালিয়েছে বলে জানা গেছে। আইএফএ-র এক কর্মকর্তার বক্তব্য‌, ‘আলোচনা একটা হয়েছে বটে, কিন্তু কাজকর্ম তেমন এগোয়নি। শুনেছি মুখ্য‌মন্ত্রী মমতা ব্য‌ানার্জির কাছেও বড় দলগুলি অনুযোগ করেছে। মুখ্য‌মন্ত্রী তাঁদের পাশে দাঁড়নোর প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করা যায় সমস্য‌ার সমাধান হবে।’

এআইএফএফের মাথায় প্রফুল্ল প্য‌াটেল বসার পর থেকে কর্পোরেট জগত ফুটবলে অনেকটাই প্রভাব ফেলতে সক্ষম হয়েছে। কলকাতা,গোয়া,পঞ্জাবের দলগুলির প্রতিবাদকে তিনি অগ্রাহ্য‌ করে আইএসএল চালু করেছেন বটে কিন্তু স্থানীয় প্রতিযোগিতা বা প্রাচীন দলগুলিকে অক্সিজেন জোগানোর কোনও ব্য‌বস্থাই করেননি। মোহনবাগান সহসচিব সৃঞ্জয় বসু সম্প্রতি মুখ্য‌মন্ত্রীকে বলেছেন, বড় দলগুলির সমর্থকদের জোর করে আইএসএলে নিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। বরং এই দলগুলির ক্ষতি হলে ফুটবল খেলার জনপ্রিয়তায় ভাটা পড়তে পারে। দুই ক্লাবই সহমত- জনসমর্থন সঙ্গে থাকলে নতুন ফেডারেশন বা নতুন প্রতিযোগিতা সুপার হিট হয়ে যাবে। তাদের আশা গোয়া ও উত্তর পূর্বাঞ্চলের দলগুলিও তাঁদের সঙ্গে অচিরেই যোগ দেবে।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here