শরীরের পাশাপাশি বাড়াতে হবে মনের জোর, এভারেস্ট অভিযান নিয়ে পরামর্শ অভিজ্ঞদের

0
290

মধুমন্তী চট্টোপাধ্যায়

২০১৭-এর এভারেস্ট অভিযানের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন হাওড়ার কুন্তল কাঁড়ার এবং ইছাপুরের শেখ সাহাবুদ্দিন। এপ্রিলের শুরুতেই রওনা দেবেন নেপালের উদ্দেশে। হাতে পড়ে আছে মাত্র কয়েকটা দিন। যদিও দীর্ঘ দিনের অভিজ্ঞতা, অধ্যাবসায়ের মাধ্যমে ওরা শারীরিক এবং মানসিক ভাবে তৈরি করেছেন নিজেদের।  তবু পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ ছোঁয়ার অভিযান শুরু করার আগে বাংলার সিনিয়র এভারেস্টজয়ীদের পক্ষ  থেকে ওদের জন্য রইল শুভেচ্ছার পাশাপাশি কিছু পরামর্শ। 

           কুন্তল কাঁড়ার  ও  শেখ সাহাবুদ্দিন

কুন্তল আর সাহাবুদ্দিন ছাড়াও যারা প্রথমবার ৮০০০ মিটার উচ্চতার অভিযান করছেন অথবা আগামী দিনে করতে ইচ্ছুক, এই পরামর্শ তাঁদের জন্যেও।

আরও পড়ুন; এপ্রিলের শুরুতে এভারেস্ট অভিযানে যাচ্ছেন কুন্তল আর সাহাবুদ্দিন

কী বললেন ওরা?

পর্বতারোহী দেবাশিস বিশ্বাস বললেন,  অভিযান চলাকালীন শারীরিক এবং মানসিক ভাবে শক্ত থাকতে হবে। রোজকার শারীরিক ক্ষয় যেন মনকে কাবু  করতে না পারে। টেস্ট ক্রিকেট খেলোয়াড়দের মতো অসীম ধৈর্য রাখতে হবে। যেকোনো পরিস্থিতির সম্মুখীন হওয়ার মতো মনের জোর থাকা খুবই জরুরি।

“বেস ক্যাম্প থেকে শৃঙ্গের মাঝের রাস্তাটুকু যতবার যাতায়াত করা যাবে, পর্বতারোহীর শরীর তত সহজে অভ্যস্ত হবে সেখানকার জলবায়ুর সঙ্গে। তিন নম্বর ক্যাম্পে এক রাত অন্তত থাকা দরকার, সেটা সম্ভব না হলে ‘ফাইনাল পুশ’-এর আগে অন্তত একবার ছুঁয়ে আসা উচিত”, জানালেন এভারেস্টজয়ী দীপঙ্কর ঘোষ। 

আবেগের বশে ভুল সিদ্ধান্ত না নেওয়ার পরামর্শ দিলেন অভিজ্ঞ পর্বতারোহী দেবদাস নন্দী। বললেন, মাথায় রাখতে হবে শেরপারা পাহাড়েই জন্মেছেন, তাই সেখানকার পথ, আবহাওয়ার গতিপ্রকৃতি সম্পর্কে তাঁদের জ্ঞান সমতলের মানুষের চেয়ে অনেক বেশি। নিজের নিরাপত্তার কথা মাথায় রেখে তাই শেরপাদের পরামর্শ মেনে চলাই কাম্য।

এ ব্যাপারে অবশ্য দেবব্রত মুখার্জি খানিকটা ভিন্ন মত পোষণ করেন। শেরপাদের ওপর পুরোপুরি নির্ভর না করে নিজেদের সচেতন হওয়া দরকার। শেরপাদের ভুল হতেই পারে, কারণ দিনের শেষে এটা তাঁদের জীবিকা। আর কাজে সবার একঘেয়েমি আসে। শেরপাদের ক্ষেত্রেও তেমনটা হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার ব্যাপারে শেরপাদের পাশাপাশি নিজের ওপরেও আস্থা রাখতে হবে। অ্যাডভেঞ্চার স্পোর্টসের শেষ কথা নিজের মনের আনন্দ। তাই সেটাকে অটুট রাখতে হিসেব কষে ঝুঁকি নেওয়া প্রয়োজন।

আরও পড়ুন; এভারেস্ট জয়ের সত্যতা যাচাই-এ নয়া উদ্যোগ নেপাল সরকারের

“অভিযানের উপযোগী পোশাক পরিচ্ছদ, জুতো এবং বাকি সরঞ্জাম সঙ্গে যাচ্ছে কিনা, এজেন্সি যথেষ্ট অক্সিজেন সিলিন্ডার সরবরাহ করছে কিনা, সেদিকে নজর রাখা জরুরি। খুম্ভু হিমবাহ পেরোনোর সময় খুব সতর্ক থাকতে হবে। শৃঙ্গ জয়ের সম্ভাব্য দিন (ক্লিয়ার উইন্ডো) সম্পর্কে তথ্য পেতে শুধু শেরপার ওপর নির্ভর না করে নিজেদের উদ্যোগী হয়ে ভিন্ন সূত্র থেকে আবহাওয়ার পূর্বাভাস মিলিয়ে নিলে ভালো হয়”, জানালেন ২০১৬-র এভারেস্টজয়ী রুদ্রপ্রসাদ হালদার। 

 

কুন্তল-সাহাবুদ্দিনের জন্য এভারেস্টজয়ী বসন্ত সিংহ রায়ের বার্তা, “অভিযান চলাকালীন দেড়-দু মাস সময় শরীরকে সচল রাখতে সময় মতো খাওয়া-দাওয়া করা, প্রচুর পরিমাণে জল পান করা আবশ্যক। হতাশা আর একঘেয়েমি দূর করতে পছন্দের বই সঙ্গে রাখা যেতে পারে। অবসর সময়ে রোজকার অভিজ্ঞতা লিখে রাখলে কিংবা ছবি তুললে নিজের মনটাও যেমন সতেজ থাকবে, একইসঙ্গে ডায়েরি আর ক্যামেরায় ধরা থাকবে জীবনের শ্রেষ্ঠ কিছু মুহূর্ত।”

ছবি সৌজন্য: ইন্টারনেট এবং রুদ্রপ্রসাদ হালদারের ফেসবুক

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here