কেএমভিএন-এর ‘স্বামী বিবেকানন্দ স্মৃতি’ প্যাকেজ ট্যুর

0
237

কুমায়ন পাহাড়ে স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিধন্য জায়গাগুলি পর্যটকদের কাছে তুলে ধরার জন্য কুমায়ুন মণ্ডল বিকাশ নিগম (কেএমভিএন) ৩ রাত ৪ দিনের একটি বিশেষ প্যাকেজ ট্যুর চালু করতে চলেছে। ‘মেমোরিজ অব স্বামী বিবেকানন্দ’ নামাঙ্কিত এই প্যাকেজ ট্যুর শুরু হবে ১ অক্টোবর থেকে। বাঙালি পর্যটকদের খুব প্রিয় জায়গা কুমায়ুন। মূলত তাঁদের কথা মাথায় রেখেই পুজোর আগেই এই ট্যুর চালু করা হচ্ছে বলে কেএমভিএন-এর ম্যানেজার টি এস মারতোলিয়া জানিয়েছেন। প্যাকেজের খরচ জনপ্রতি ৭২০০ টাকা। ৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এই ভ্রমণে থাকা, পুরো খাওয়াদাওয়া, গাড়িভাড়া এবং বিভিন্ন করের খরচ ধরা আছে ওই টাকায়।

ভ্রমণ শুরু হবে কাঠগোদাম থেকে সকালেই। প্রথমে কাঁচি মন্দির, কাকরিঘাট। ১৮৯০ সালে হিমালয় ভ্রমণের সময় এই কাকরিঘাটে একটি নদীর ধারে এক অশ্বত্থ গাছের তলায় স্বামীজি ধ্যান করেছিলেন। এখানে স্বামীজি সোমবারগিরি মহারাজ ও নীবকরোলি মহারাজের আশ্রমে গিয়েছিলেন। পর্যটকদের সেই দুটি আশ্রমেও নিয়ে যাওয়া হবে।almora

কাকরিঘাট থেকে সোজা আলমোড়া। সেখানে দুপুরের খাওয়া সেরে বিবেকানন্দ মেমোরিয়াল, রামকৃষ্ণ আশ্রম দর্শন। এই শহরেরই বদ্রিনাথ শাহের যে বাড়িতে স্বামীজি উঠেছিলেন, পর্যটকদের সেই বাড়িও দেখানো হবে। সে দিনই ঘোরা হবে আলমোড়ার কাছে কাসারদেবী মন্দিরে। এই মন্দিরেও পা পড়েছিল স্বামীজির।kasardevi

দ্বিতীয় দিন প্রাতরাশের পর আলমোড়া থেকে যাত্রা শুরু। চিতাইয়ের গলু দেবতা মন্দির, জাগেশ্বরের মন্দিরগুচ্ছ দেখে লোহাঘাট। এখানে দুপুরের আহার সেরে ১০ কিমি দূরের বিখ্যাত মায়াবতী আশ্রমে নিয়ে যাওয়া হবে। স্বামী বিবেকানন্দের নির্দেশে এখানে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন জেভিয়ার দম্পতি। সারা দুপুর মায়াবতীতে কাটিয়ে সন্ধায় লোহাঘাটে ফেরা।

তৃতীয় দিন প্রাতরাশের পর লোহাঘাট থেকে চম্পাবত রওনা। পথে মানেশ্বর মন্দির দেখা। চম্পাবতে  হিড়িম্বা ঘটোৎকচ মন্দির, গলু দেবতা মন্দির, বলেশ্বর মন্দির দেখে সোজা শ্যামলাতাল বিবেকানন্দ আশ্রম। স্বামী বিরজানন্দ ১৯১৫ সালে এই আশ্রম প্রতিষ্ঠা করেন। বিরজানন্দের সন্ন্যাস-পূর্ব নাম কালীকৃষ্ণ বোস। ১৮৯১ সালে তিনি বরানগর মঠে যোগ দেন। দু’ বছর পর সারদা মায়ের কাছে তাঁর দীক্ষা এবং ১৮৯৭ সালে তিনি স্বামীজির কাছে সন্ন্যাসব্রতে দীক্ষা নেন। মাত্র পাঁচ বছর কাছে পেয়েছিলেন স্বামীজিকে। কিন্তু এই সময়টুকুই তাঁর চিন্তাচেতনায় বিরাট পরিবর্তন এনে দেয়। হিমালয় ভ্রমণকালে এই শ্যামলাতালেও স্বামীজি ধ্যানে বসেছিলেন। সেই স্মৃতি ধরে রাখতে ১৯১৫-তে স্বামী বিরজানন্দ বিবেকানন্দ আশ্রম স্থাপন করেন। shyamlatal

শ্যামলাতাল থেকে পূর্ণাগিরি মন্দির দেখে টনকপুর আসা। চতুর্থ দিনে কাঠগোদাম চলে যাওয়া। পথে নানক সাগর ড্যাম দেখা। কেএমভিএন-এর ম্যানেজারের আশা, এই প্যাকেজে পর্যটকরা আকৃষ্ট হবেন। স্বামীজির পদধূলিধন্য এই সব জায়গা দেখে তাঁরা তৃপ্ত হবেন।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here