লাখুদিয়ার গুহা : বিরল ইতিহাসের সাক্ষী

0
203

mouমৌ মুখোপাধ্যায়

পুজোর ছুটি পড়তেই বেরিয়ে পড়লাম কুমায়ুনের পথে। ভোর সওয়া ৫টায় যখন কাঠগুদাম স্টেশনে নামলাম তখনও ভোরের আলো ফোটেনি। স্টেশনের বাইরে বেরোতেই চোখে পড়ল সারিবদ্ধ পাহাড়, যেন কোনো ভূমিকা ছাড়াই স্বমহিমায় বিরাজমান। তখনও জানতাম না আরও একটি বিস্ময় আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।

হিমালয়কে সঙ্গী করে আমরা একে একে ঘুরে নিয়েছিলাম রানিখেত, কৌশানি, মুন্সিয়ারি, পাতাল ভুবনেশ্বর। এর পর আমরা আলমোড়া হয়ে নৈনিতালের উদ্দেশে রওনা দিলাম। আলমোড়া থেকে প্রায় ১৬ কিলোমিটার দূরে আলমোড়া-বড়েছিনা রোডে হঠাৎ গাড়ি থামিয়ে দিলেন গাড়ির চালক তরুণ জোশি। আঙুল দিয়ে দেখালেন আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার একটি মরচে ধরা নীল রঙের সাইনবোর্ড।

হঠাৎ যেন ইতিহাসের এক রহস্যময় জানলা খুলে গেল। জানতে পারলাম এখানে আদি প্রস্তর যুগের মানুষের গুহাচিত্র আছে। সুয়াল নদীর তীরে অবস্থিত এই গুহার নাম লাখুদিয়া। যার মানে শত সহস্র গুহা। সাপের ফণার মতো এই গুহার ভিতরে প্রবেশ করতেই নজরে এল লাল, কালো, সাদা রঙের বহু চিত্র। মূলত মানুষের প্রতিকৃতি। দলবদ্ধ মানুষেরা কখনও নৃত্যরত অবস্থায়, কখনও বা শিকারির বেশে। এ ছাড়াও শিয়াল, হরিণ, বহু লেজযুক্ত টিকটিকি আঁকা রয়েছে গুহার গায়ে ও ছাদে। ছবিগুলো যত দেখছি অদ্ভুত শিহরণ জাগছে মনের মধ্যে।

lakhudya1

অনুমান করা হয়, সেই সময়কার দৈনন্দিন জীবনের ছবি তারা এঁকেছেন।  ছবি আঁকার রঙের উপাদান আজও অজানা। প্রায় ২০ ফুট উঁচু এই গুহার ছাদের আঙুলের ছাপ দেখে মনে প্রশ্ন জাগল, গুহামানব কি এত লম্বা ছিলেন?

রক্ষণাবেক্ষণের অভাব চোখে পড়ল। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার শুধু সাইন বোর্ডই সার?

lakhudya2

অপূর্ব পাইনবনের মাঝে দাঁড়িয়ে এই গুহা অনেক ইতিহাস বহন করে চলেছে আজও। কুমায়ুনের পথে এই অজানা ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে মানবসমাজের শিকড় ছুঁলাম আমরা।

গুহাটি দেখতে যাওয়ার জন্য গাড়িচালকের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন।

তরুণ জোশি, মোবাইল ০৯৪১১১৯৮৯০২/০৯৫৬৮০৩৭৮২২

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here