ইতালি ভ্রমণ: ভালতিসের স্মৃতিসত্তা

0
175

mousumiমৌসুমি বিলকিস

ইন্সব্রুক থেকে ইরমট্রডের গাড়িতে রওনা দিলাম ভালতিসে শহরের দিকে। ঘন্টা পাঁচেক লাগবে। এখানে এই সুবিধা। কয়েক ঘন্টা ট্রাভেল করলে সম্পূর্ণ অন্য একটা দেশে পৌঁছনো যায়। আকাশ মেঘে ঢাকা। ঝিরঝিরে বৃষ্টি। উইন্ডস্ক্রিনে আটকে বৃষ্টির ফোঁটা। তার মধ্যেই ছবি তুলছি। ইউরোপের যে সব অঞ্চলে ঘুরছি সব খানেই এই বৃষ্টি, এই রোদ, হঠাৎ হাওয়া। আমরা যে হাইওয়ে ধরে যাচ্ছি জার্মানির কিছু শহরের পাশ দিয়ে আবার অস্ট্রিয়ার ভূখণ্ডে ঢুকেছে। ফলত এক অর্থে জার্মান দেশটাকেও ছুঁয়ে গেলাম। নির্বাসিত কবি দাউদ হায়দারের সঙ্গে বার্লিনে দু’দিন কাটানোর কথা ছিল। কিন্তু কবি তখন আমেরিকায় কোনও আলোচনাসভায় যোগদান করেছেন, তাঁর সঙ্গে নেট এবং ফোন কোনও ভাবেই যোগাযোগ করা গেল না। এ দিকে ইরমট্রড ভালতিসে গিয়ে সাঙ্ঘাতিক ব্যস্ত হয়ে পড়বে মিউজিক সামার স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের নিয়ে। তাই আগেই আমার টিকিট কাটা হল প্রাগ থেকে রোমে যাওয়ার। আর টিকিট কাটার পর দিন কবি যোগাযোগ করলেন। আমি যাব বলেই যে দিন ফেরার কথা ছিল তার চার দিন আগেই বার্লিন ফিরেছেন কবি। কিন্তু আমি আর ইরমট্রডকে টিকিট বাতিল করে নতুন টিকিট কাটার কথা বললাম না। শুধু কবির কাছে ক্ষমা চেয়ে নিলাম। আমার জন্য তাঁর কয়েকটা দিন নষ্ট হল যে। হয়তো পরে কখনও তাঁর সঙ্গে দেখা হয়ে যাবে।

way-to-valtice
ভালতিসে-র পথে অস্ট্রিয়ার শেষতম সীমান্ত গ্রাম

রাস্তার জার্নিগুলোই এক একটা অভিজ্ঞতা। লিভোর্নো পোর্ট থেকে ইন্সব্রুক এবং ইন্সব্রুক থেকে ভালতিসে এই পুরো জার্নিটায় আল্পস পর্বতমালাকে খানিকটা আড়াআড়ি ভাবে অতিক্রম করলাম। ভাবতেই কেমন রোমাঞ্চ হয়। বেশ কিছুটা জায়গা জুড়ে দেখলাম উইন্ড মিল আর একটা জায়গায় প্রচুর সোলার সেল বসানো। হাইওয়ের কাছাকাছি লোকালয় থাকলে রাস্তার দু’পাশে উঁচু শব্দ নিরোধক দেয়াল। কোথাও কোথাও আবার সেগুলো ডেকরেট করা। বেশির ভাগ হাইওয়ে তিন লেনের। এক একটা লেন নির্দিষ্ট গতির। কোন লেনে কী ধরনের গাড়ি চলবে তা-ও নির্দিষ্ট। বড় ট্রাকের জন্য আলাদা লেন। একেবারে শেষ প্রান্তের লেনটা ইমারজেন্সি সার্ভিস। সাধারণত পুলিশের গাড়ি যাওয়ার জন্য নির্দিষ্ট। কলকাতায় আমরা যে রকম ট্রাফিক জ্যামের সঙ্গে পরিচিত সে রকম কোথাও দেখলাম না। এদের গাড়ির স্পিডও অনেক বেশি। আমাদের মতো রাস্তায় সময় আর এনার্জি নষ্ট হয় না। গাড়ি দাঁড় করাতে হলেও নির্দিষ্ট জায়গায় দাঁড় করাতে হয়। ট্রাফিক পুরোটাই মেকানিক্যালি কন্ট্রোল্ড। কিছু কিছু জায়গায় ক্যামেরা বসানো। শুধু একটি গাড়িকেই দেখলাম আমরা যখন আশি স্পিডের লেন দিয়ে যাচ্ছিলাম পাশ দিয়ে হুস করে বেরিয়ে গেল। তা ছাড়া সবাই নিয়ম মেনেই চলছে। আমরা রাস্তা পার হওয়ার সময় আগে ডান দিক দেখি। এখানে আগে বাঁ দিক দেখতে হয়। ওদের গাড়ির ড্রাইভারের আসনও বাঁ দিকে। ওটা অভ্যেস হতে আমার কয়েক দিন লেগেছিল। আসলে একটা বড়োসড় অ্যাকসিডেন্ট থেকে অল্পের জন্য রক্ষা পাওয়ার পর অভ্যেসটা হল। ওই যে বলে ঠেকে শেখা। জুলাই মাসে সারা ইউরোপ জুড়েই হলিডে চলে। অনেক গাড়ির মাথায় সাইকেল বা বোট বা পিছনে লাক্সারি ভ্যান। সবাই ছুটি কাটাতে যাচ্ছে কোথাও না কোথাও। রাস্তায় মাইলের পর মাইল পাকা গম বা সূর্যমুখীর খেত। কী অদ্ভুত সুন্দর!

ভালতিসে একেবারে অস্ট্রিয়ার বর্ডারের কাছাকাছি শহর। ব্রিসলেভ ডিস্ট্রিক্ট-এর অন্তর্গত। সেখানে পৌঁছনোর পর স্বপ্নের মতো কেটে গেল কয়েকটা দিন। ওখানেই প্রথম লাইভ অপেরা দেখার অভিজ্ঞতা। আর ওয়েস্টার্ন ক্লাসিক, কোরাস, ফোক, ব্যারক মিউজিক-এর রাজকীয় ব্যাপারস্যাপার এত কাছ থেকে দেখব ও শুনব ভাবিনি কখনও। যে বাড়িটায় আছি সেটি লোকগান গায়ক লিওপোল্ডের। বাউলবাড়ির আখড়ার মতো। যে খুশি আসে থাকে খায়, নিজেরাই জিনিসপত্র এনে রান্না করে। লিওপোল্ডের বানানো ওয়াইন যে যেমন ইচ্ছে পান করে।একটা দানবাক্স আছে ঠিকই কিন্তু সবাই যে তাতে টাকা ফেলে তা নয়। লিওপোল্ড ওদের সবার কাছে পোল্ডা। এখানে যাঁরা এসেছেন সবাই মিউজিসিয়ান, গায়ক অথবা ডান্সার। সামার স্কুল অফ ডান্স মিউজিক অ্যান্ড ড্রামা উপলক্ষে সবাই জড়ো হয়েছেন। আশি-উত্তীর্ণ মিকিনা তাঁর দুই তরুণ ছাত্র ইর্‌হি ও মইমিরে-কে নিয়ে রাতের আসর জমান রোজ। ওঁরা তিন জনেই ভায়োলিন বাজিয়ে গান করেন। মিকিনা বললেন, উনি যত লোকগান জানেন, টানা বাহাত্তর ঘন্টা এক নাগাড়ে গেয়ে যেতে পারেন কোনও পুনরাবৃত্তি ছাড়াই। মিকিনার যা এনার্জি আমাদের দেশের ওঁর বয়সি কোনও মহিলার সঙ্গেই তুলনা চলে না। ওঁদের সঙ্গে ইরমট্রড তাঁর চেলো নিয়ে যোগ দেন রোজ। লিডিয়ে, ইয়ারোস্লাভও ভ্লাস্তা ডান্সার। কোনও কোনও দিন ওরা মিকিনার গানের সঙ্গে নাচে। এক দিন আমিও নাচে যোগ দিয়েছি। লিডিয়ে ওদের ফোক ডান্স আমাকে শিখিয়েই ছাড়ল। অতি উৎসাহে মইমিরেও এল আমাকে নাচ শেখাতে। যে হেতু এই নাচ ওদের রক্তে। তাই সবাই নাচতে জানে ওরা। এক জন বিজাতীয় মানুষ ওদের নাচ ও গান বিষয়ে আগ্রহী দেখে ওরা এত খুশি হল। বার বার বলল সে কথা। কিছু ক্ষণের মধ্যে নাচের স্টেপ মোটামুটি শিখে নিলাম বলে লিডিয়ে তো ওর ফোকলোরের বিশেষ ব্যাচ আমার টি-শার্টে গেঁথে দিল। সেটি এখনও আমার কাছে সযত্নে আছে। খুব সকালে সামার স্কুল শুরু হয়ে যায়। সবাই সন্ধে সাতটা অব্দি স্কুলে কাটায়। ইরমট্রডও তাঁর চেলো ক্লাস নিতে চলে যান। ওঁর ক্লাসের বেশির ভাগ ছাত্র এসেছে চেক রিপাবলিকের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। ওদের কয়েক জন প্রাগের বাসিন্দা। শুধু একজন তরুণী, আনেলিন্ডে, থাইল্যান্ড থেকে চেলো শিখতে এসেছে। ওরা শিখতে এসেছে বললেও ভুল হবে। প্রত্যেকেই খুব ভালো চেলো বাজায়। এখানে ব্যারক স্টাইলে চেলো বাজানোর রকম সকম শিখতে এসেছে ইরমট্রডের কাছে। খুব অবাক হলাম, এরা অনেকেই ডাক্তারি পড়ে। ভইতা নেজালডি তো ইকোনমিস্ট। আমি প্রাগে যাব শুনেই সে নিজের অ্যাপার্টমেন্টে থাকার আমন্ত্রণ জানাল। আমি কোন ট্রেনে যাব ও ঠিক করে দিল। জানাল, প্রাগ স্টেশনে আমাকে নিতে আসবে এলিস্‌কা, ওর পার্টনার। কারণ ও ফিরবে আমার যাওয়ার পর দিন সন্ধেয়। প্রাগের কথা পরে বলব। সামার স্কুলের ছেলেমেয়েরা কী অমানুষিক খাটতে পারে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। সকাল থেকে ক্লাসে যোগ দেয় সবাই। দুপুরে ক্যান্টিনে কিছু একটা খেয়ে নেয়। সবাই এক সঙ্গে খেতে যায় না। যার যখন খিদে পায় খেতে যায়। তখন টিচারের কাছে অন্যরা শেখে। আমাদের দেশের মতো শিক্ষকরা ফিউডাল মতে ছাত্র মানেই নিজেদের প্রজা ধরে নেন না। আর ছাত্ররাও যথেষ্ট মনোযোগী। যে ক’দিন এখানে আছে যতটা সম্ভব শিখে নিতে চায় ওরা। ক্লাস শেষ করেই ওরা চলে যায় নিজের নিজের রিহার্সালে। প্রত্যেক দিন সন্ধেয় সামার স্কুলের অরগানাইজ করা কনসার্ট হয়। সেখানে ছাত্র থেকে শিক্ষক সবাই অংশ নেয়। এমনকি বাইরে থেকে অতিথি শিল্পীদেরও ডাকা হয়। দু’ একটি ছাড়া কোনও কনসার্ট ফ্রি নয়। অথচ কত শ্রোতা টিকিট কেটে দেখতে এসেছে।এই শহরে লিখতেনস্টেন পরিবারের অষ্টাদশ শতাব্দীর ব্যারক স্থাপত্যের বড়সড় ক্যাসেল আছে। সামার স্কুলের অনুষ্ঠানগুলো এই ক্যাসেলের কোনও না কোনও অংশে হত। এক রাতে এই ক্যাসেলের চার্চের মধ্যে শুনলাম পঞ্চম/ ষষ্ঠ শতকের চেক কোরাস সংগীত। তার কোনও কোনও অংশের সুর হুবহু আমাদের বাংলা লোকগানের সুরের সঙ্গে মিলে যাচ্ছে শুনে চমৎকৃত হলাম। সে বিষয়ে মিউজিক হিস্টোরিয়ান মার্ক নিওবো-র সঙ্গে কথা হল, যিনি সামার স্কুলের সঙ্গে জড়িত। তিনি বললেন, এমনটি হতেই পারে। কারণ কোন সুর কোথা থেকে কী ভাবে এসেছিল তা ঠিক ভাবে কেউ জানে না।

musice
সারারাত মিকিনার গান

এই সামার স্কুলে আমার তথ্যচিত্র দেখানো হবে বলে ঠিক হল। স্ক্রিনিং-এর দিন শাড়ি পরে স্কুলের গেট দিয়ে যখন ঢুকছি সবাই আমার দিকে হাঁ করে দেখছে। এই অঞ্চলে শাড়ি পরা কেউ বোধহয় আসেনি কখনও। কয়েক জন মাত্র দর্শক উপস্থিত থাকলেও তাঁরা প্রত্যেকেই নাচ গান বা অভিনয়ের শিক্ষক বা ছাত্র বা গবেষক। ভাষা সমস্যা থাকলেও কবিগান বিষয়ক তথ্যচিত্র অনেকেই উপভোগ করলেন। বেশ কিছু প্রশ্ন ও আলোচনাও হল স্ক্রিনিং শেষে। এখানে পঞ্চাশ-উত্তীর্ণ কেউ ইংরেজি জানেন না। যাঁরা জানেন তাঁরা স্কুলে শেখেননি। এই অঞ্চল যে হেতু নাজি জার্মানির অধিকৃত ছিল এখানে স্কুলে ইংরেজি ভাষা শিক্ষার চল হয়েছে অনেক পরে। চেক ভাষা উচ্চারণ করা বেশ কঠিন। চেক রিপাবলিকের বাচ্চাদের বিশেষ যত্ন নিয়ে উচ্চারণ শেখানো হয়। আমি যে শব্দটি প্রথম শিখেছি ও প্রয়োগ করেছি সেটা ছিল ‘নাজদ্রাবি’ (শেষ অক্ষরের উচ্চারণ ‘ব’ ও ‘ভ’ দুটোকেই ছুঁয়ে যায়। মানে, টু ইওর হেলথ্‌, চিয়ার্স। প্রথম দিন শুনে ওরা সবাই মিলে হইহই করে উঠল। ওদের শিখিয়ে দিলাম ‘উল্লাস’। কারও সঙ্গে প্রথম আলাপে ‘দেকুই’ নাকি ‘দেকুইউ’ (হ্যালো) কী বলা হবে তা নির্ভর করে ব্যক্তিটির সঙ্গে সম্পর্কের ওপর। অনেকটা আমাদের তুই, তুমি, আপনির মতো ব্যাপার।

white-wine
নিজের তৈরি হোয়াইট ওয়াইন নিয়ে লিওপোল্ড

ভালতিসে এবং আশেপাশের অঞ্চলের বাসিন্দারা লিখতেনস্টেন পরিবারের জন্য ওয়াইন বানাত। সে ওয়াইন নাকি নিজেদের পান করার অধিকার ছিল না। কিন্তু দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর বা মাঝামাঝি সময়ে ঘটনা আমূল বদলে যায়। লোকেরা নিজেদের জন্য এবং বাইরে বিক্রি করার জন্য ওয়াইন বানাতে থাকে। কারণ রাজপরিবারের ক্ষমতা তখন তলানিতে। এখানকার বাড়িগুলো ওয়াইন বানানো ও বিক্রি করার জায়গা ‘সেলর’-এর মতো দেখতে। এক দিকে শুরু হয়ে লম্বাটে হয়ে অন্য দিকে শেষ হয়েছে। বাড়িগুলোর মাঝখানে কোনও স্পেস নেই, কমন ওয়াল। এখানে নতুন বাড়ি বানাতে গেলেও এ ভাবেই বানাতে হয়। লিওপোল্ড টাওয়ার হাউস বানিয়েছেন বলে মিউনিসিপ্যালিটি ওঁকে শাস্তি দিয়েছে সারা জীবন ফ্রি-তে শহরের উন্নতিকল্পে কাজ করতে হবে। ওঁর টাওয়ার হাউস অনেকটা আমাদের চিলেকোঠার মতো। পাশের শহর লেডনিস ও ভালতিসের কালচারাল ল্যাণ্ডস্কেপ ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ। ভালতিসে ক্যাসেলের সঙ্গে লেডনিস-এর লিখতেনস্টেন পরিবারের ক্যাসেলটিকে সাত কিলোমিটার দীর্ঘ একটি রাস্তা সংযুক্ত করেছে। রাস্তার দু’পাশে ঘন জঙ্গল। একটি ছোট্ট হরিণও দেখলাম। এখানকার গাছগুলো না কি সাড়ে তিনশো বছরের পুরোনো এবং ইউনেস্কো সংরক্ষিত। এই রকম একটা বাগানের মধ্যে আমরা পিকনিক করতে গেলাম। আমি, ইরম, লিওপোল্ড, ওঁর মেয়ে রাধ্‌কা, জামাই পাভেল এবং তাদের দুই ছেলেমেয়ে। রাধ্‌কা এনেছে ব্রাউন ব্রেড, ভেকেটকি নামের ওরই বানানো ছোট ছোট ব্রেড, অ্যাপ্রিকট, পিচ্‌ফল। পাভেলের মা পাঠিয়েছেন আংরেস্ট নামের ছোটছোট এক ধরনের ফল। ইরম এনেছেন করশিকা ও ফ্রান্সের চিজ্‌। লিওপোল্ড যথারীতি দু’ বোতল হোয়াইট ওয়াইন নিয়ে উপস্থিত। আর আছে লেবুজলে ভেজানো মিন্ট পাতার শরবত। এখানে হার্ড ড্রিঙ্ক করে গাড়ি চালানো নিষিদ্ধ। কঠিন শাস্তি অবধারিত। তাই লিওপোল্ড ও রাধ্‌কা পান করল না। পিকনিক করাটা এদের এখানে বেশ জনপ্রিয়। আমাদের এখানে এ রকম রীতি আছে কিনা জিজ্ঞেস করল। আমাদের বনভোজন, ফুঁস্‌ড়ে ইত্যাদির সংস্কৃতি শুনে ওরা অবাক হল। বিশেষ করে ভোজন স্থলেই রান্না হয় শুনে। ‘ইছামতী’ উপন্যাসের বনভোজনের কথা উল্লেখ করে ওদের জানালাম এ বিষয়ে আমাদের হারিয়ে যাওয়া ছড়াগুলির কথা। ওরা চমৎকৃত। এখানেই কথা হচ্ছিল ওয়াইনের রকম সকম নিয়ে। লিওপোল্ড নানা রকম ওয়াইনের গন্ধ-চরিত্র ও তা বানানোর কিছু কিছু পদ্ধতি বলছিলেন। রিনস্কি রিজলিঙ্ক নামের ওয়াইন হোয়াইট ওয়াইনের রাজা, জানালেন লিওপোল্ড। এক দিন লিওপোল্ডের সেলরে ছ’রকম ওয়াইন টেস্ট করা হল সবাই মিলে; তার তিনটি হোয়াইট আর তিনটি রেড।

সাড়ে তিনশ বছরের গাছের ডেরায় পিকনিক
সাড়ে তিনশ বছরের গাছের ডেরায় পিকনিক

ভালতিসে যখন ছেড়ে এলাম খুব মন খারাপ হল। এতজন গুণী মানুষের সঙ্গে রাতদিন। আমার প্রতি তাঁদের আদরযত্নের নমুনা দেখে মাঝে মাঝে বেশ লজ্জা হত। পরে ই-মেল করে অনেকেই জানিয়েছেন তাঁরাও আমাকে কত মিস্‌ করছেন। জানি না আর কখনও এই মানুষগুলির সঙ্গে দেখা হবে কি না। থেকে যাবে স্মৃতি ও সত্তাগুলো।

ছবিঃ লেখক

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here