ভ্রমণপ্রিয় বাঙালির অতি প্রিয় রাজ্য রাজস্থান। কিন্তু ভারতের বৃহত্তম রাজ্য হওয়ার ফলে একটা সফরে পুরো রাজ্যটা ঘোরা কষ্টকর। রাজস্থান ঘোরার তিনটে ভ্রমণ-ছক সাজিয়ে দিল খবর অনলাইন।

ভ্রমণ-ছক ১: মরুদেশ রাজস্থান

প্রথম দিন – ট্রেনে জয়পুরের উদ্দেশে যাত্রা। হাওড়া থেকে জয়পুর যাওয়ার সব থেকে ভালো ট্রেন যোধপুর এক্সপ্রেস। ট্রেনটি প্রতিদিন রাত ১১:৪০-এ হাওড়া থেকে ছেড়ে তৃতীয় দিন রাত ১২:৩৫ (খেয়াল রাখবেন রাত বারোটা পেরিয়ে গেলে দিন বদল হয়ে যায়)-এ জয়পুর পৌঁছোয়। এ ছাড়াও আছে শিয়ালদহ-অজমের এক্সপ্রেস। ট্রেনটি প্রতিদিন রাত ১১:০৫-এ শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে জয়পুর পৌঁছোয় দ্বিতীয় দিন রাত ১১:৫৫-এ।

বিজ্ঞাপন

তৃতীয় দিন – সকালে প্রাতরাশ করে জয়পুর ভ্রমণ শুরু। রাত্রিবাস জয়পুর।

চতুর্থ দিন – আজও থাকুন জয়পুরে।

অম্বর প্রাসাদ।

জয়পুরে দেখবেন

(১) শহরে দেখুন হাওয়া মহল, জয়গড় দুর্গ, নাহাড়গড় দুর্গ, সিসোদিয়া রানি কি বাগ, বিদ্যাধরজি কি বাগ, বিড়লা মন্দির, মোতি ডুংরি, যন্তর মন্তর, সিটি প্যালেস, জল মহল, অ্যালবার্ট হল মিউজিয়াম।

(২) অম্বর – ১১ কিমি উত্তর পুবে দুর্গ ও প্রাসাদ।

(৩) গলতা ও সূর্য মন্দির – ১০ কিমি পুবে, হেঁটে পাহাড়ে চড়া।

(৪) সঙ্গানের – ১৬ কিমি দক্ষিণ পশ্চিমে ১৫০০ খ্রিস্টাব্দের জৈন মন্দির ও প্রাসাদ।

পঞ্চম দিন – জয়পুর থেকে চলুন যোধপুর, পথে দেখুন অজমের শরিফ, পুষ্কর লেক এবং পুষ্করের ব্রহ্মা মন্দির। সন্ধের মধ্যে যোধপুর পৌঁছে যান। মোট দূরত্ব ৩৩০ কিমি। রাত্রিবাস যোধপুর।

ষষ্ঠ দিন – আজও থাকুন যোধপুরে।

মেহরনগড় দুর্গ।

যোধপুরে দেখে নিন-

মেহরনগড় দুর্গ, উমেদ ভবন প্রাসাদ, যশবন্ত থাডা তথা ছত্তিশ, মান্ডোর গার্ডেন (৮ কিমি উত্তরে, পরিহারদের ৬ থেকে ১৪ শতকের রাজধানী, কৈলানা লেক (শহর থেকে ১৭ কিমি। সূর্যাস্ত নয়নাভিরাম)

সপ্তম দিন – চলুন বিকানের, ২৫২ কিমি।

অষ্টম দিন – আজও থাকুন বিকানেরে।

জুনাগড় দুর্গ।

বিকানেরে কী দেখবেন

জুনাগড় দুর্গ, লালগড় প্রাসাদ, ভাণ্ডেশ্বর ও ষণ্ডেশ্বর জৈন মন্দির (শহর থেকে ৫ কিমি), দেবী কুণ্ড সাগর (৮ কিমি পশ্চিমে), ক্যামেল ব্রিডিং ফার্ম (৮ কিমি দক্ষিণে), করণীমাতা মন্দির (৩২ কিমি দক্ষিণে, রাজপরিবারের আরাধ্যা দুর্গার শিলারূপী করণীমা)।

নবম দিন – আজ গন্তব্য জৈসলমের, ৩৩০ কিমি। পথে দেখে নিন গজনের স্যাংচুয়ারি ও প্রাসাদ, ফালোদি (মন্দির, দুর্গ, নানা হাভেলি)। রাত্রিবাস জৈসলমের।

দশম দিন – আজও থাকুন জৈসলমেরে।

একাদশ দিন – সারা দিন জৈসলমেরে ঘোরাঘুরি। বিকেলে ডেসার্ট ন্যাশনাল পার্ক হয়ে চলুন খুরি, মোট দূরত্ব ৭৮ কিমি। রাত্রিবাস খুরি।

স্যামে সূর্যাস্ত।

জৈসলমেরে দেখবেন

সোনার কেল্লা, পাটোয়া কি হাভেলি, নাথমলজি কি হাভেলি, গদিসর লেক, বড়াবাগ (শহর থেকে ৬ কিমি উত্তরে ভাটি রাজাদের ছত্তিশ), লোধুর্বা (১৬ কিমি উত্তর পশ্চিমে ভাটি রাজাদের ১২ শতকের রাজধানীর ধ্বংসাবশেষ), অমরসাগর (মরুভূমির বুকে মরুদ্যান, লোধুর্বার পথে ৬ কিমি জৈসলমের থেকে), উড ফসিল পার্ক (বিকানেরের পথে ১৮ কিমি) এবং স্যাম স্যান্ডডিউন্স

দ্বাদশ দিন – বাড়ি ফেরার দিন। খুরি থেকে জৈসলমেরে আসুন। এখান থেকে সরাসরি কলকাতা ফিরতে পারেন। জৈসলমের-হাওড়া এক্সপ্রেস প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১:১০-এ ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় শুক্রবার বিকেল সাড়ে চারটেয়। দিল্লি হয়েও কলকাতা ফিরতে পারেন। জৈসলমের থেকে দিল্লির জন্য রয়েছে দিল্লি এক্সপ্রেস। ট্রেনটি প্রতিদিন বিকেল ৫টায় ছেড়ে পুরোনো দিল্লি স্টেশনে পৌঁছোয় পরের দিন সকাল ১১:১৫-এ।

কী ভাবে ঘুরবেন

এই সূচিতে রাউন্ড ট্রিপ করা যাবে না। তাই পয়েন্ট টু পয়েন্ট গাড়ি করুন। রাজস্থানে রাস্তা দুর্দান্ত। তিনশো কিলোমিটার ভ্রমণ ঘণ্টা ছয়েকের মধ্যে করা সম্ভব। রাজস্থানে সরকারি বাস পরিষেবা ভালো। অনলাইনে বুকিং করা সম্ভব, তবে বাসে ভ্রমণ করলে পথের দর্শনীয় স্থানগুলি দেখা সম্ভব হবে না। এ ছাড়া পয়েন্ট টু পয়েন্ট ট্রেনেও ভ্রমণ করতে পারেন। নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছে স্থানীয় যান ভাড়া করে নিন।

কোথায় থাকবেন

খুরি ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে রাজস্থান পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হোটেল। অনলাইনে বুকিং করতে পারেন। খুরিতে থাকার জন্য বেসরকারি রিসোর্ট আছে, এ ছাড়াও বাকি সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি হোটেল। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তাদের সন্ধান পেয়ে যাবেন।

মনে রাখবেন

(১) জয়পুরের দ্রষ্টব্যগুলির সময় জেনে নিয়ে সেই অনুযায়ী ঠিক করবেন কোথা থেকে শুরু করবেন, কোথায় শেষ করবেন।

(২) বিকানেরের অবশ্য দ্রষ্টব্য করণীমাতা মন্দির দুপুর ১২টা থেকে ৪টে পর্যন্ত বন্ধ।

(৩) জৈসলমেরে থাকাকালীন দ্বিতীয় দিন বিকেলে ঘুরে আসুন স্যাম। দূরত্ব ৪০ কিমি। উপভোগ করুন অসাধারণ সূর্যাস্ত। উটে সফর করবেন।

(৪) জৈসলমের-হাওড়া এক্সপ্রেস ছাড়ে প্রতি বৃহস্পতিবার রাত ১:১০ ইংরেজি মতে, অর্থাৎ বুধবার রাতে।


আরও পড়ুন: পুজোর ভ্রমণ-ছক/খবর অনলাইনের বাছাই: কর্নাটক

ভ্রমণ-ছক ২: জয়পুর-মাউন্ট আবু-উদয়পুর-রনথম্ভোর

প্রথম দিন থেকে চতুর্থ দিন – ভ্রমণ-ছক ১-এর মতো।

পঞ্চম দিন – চলুন পালি। জয়পুর থেকে সরাসরি পালি ২৯৩ কিমি। যদি অজমের শরিফ এবং পুষ্কর দেখে পালি আসেন তা হলে দূরত্ব ৩১০ কিমি। রাত্রিবাস পালি।

ষষ্ঠ দিন – গন্তব্য মাউন্ট আবু, ১৯৭ কিমি। রাত্রিবাস মাউন্ট আবু।

সপ্তম দিন – আজও থাকুন মাউন্ট আবুতে।

দিলওয়াড়া মন্দির।

মাউন্ট আবুতে কী দেখবেন

গুরু শিখর (আরাবল্লির সর্বোচ্চ শিখর ১৭৭২ মিটার, শহর থেকে ১৫ কিমি উত্তর পূর্বে), কাছেই অচলগড়, পাহাড়চুড়োয় অর্বুদা মন্দির, দিলওয়াড়া মন্দির, হানিমুন পয়েন্ট (এখান থেকেও সূর্যাস্ত দেখার মতো)।

কুম্ভলগড়।

অষ্টম দিন – মাউন্ট আবু থেকে রনকপুর এবং কুম্ভলগড় দেখে চলুন উদয়পুর। দূরত্ব তিনশো কিলোমিটার। রাত্রিবাস উদয়পুর।

নবম ও দশম দিন – থাকুন  উদয়পুরে।

লেক পিচোলা।

উদয়পুরে দেখবেন

(১) সিটি প্যালেস, পিচোলা লেক, সহেলিয়োঁ কি বাড়ি, মোতি মাগরিতে প্রতাপ স্মারক, জগত (রাজস্থানের খাজুরাহো, শহর থেকে ৩৫ কিমি, পথে পড়বে ভানেশ্বর মহাদেব) ­­­

(২) হলদিঘাটি, নাথদ্বার ও একলিঙ্গজি

পদ্মিনী মহল, চিতোরগড়।

একাদশ দিন – সক্কাল সক্কাল বেরিয়ে পড়ুন, চলুন চিতোরগড় (১১৭ কিমি) হয়ে বুঁদি, ৩০১ কিমি। রাত্রিবাস বুঁদি।

দ্বাদশ দিন – সকালে বুঁদির কেল্লা দেখে রওনা হয়ে যান রনথম্ভোর, ১৩১ কিমি। রাত্রিবাস রন্থমভোর।

রনথম্ভোর।

ত্রয়োদশ দিন – সকালে সাফারি করুন রনথম্ভোরে, ফিরে চলুন দুর্গ দেখতে। রাত্রিবাস রনথম্ভোরে।

চতুর্দশ দিন – ফেরার দিন। রনথম্ভোর বা সওয়াই মাধোপুর থেকে সরাসরি কলকাতা ফিরতে পারেন অথবা জয়পুর হয়েও ফিরতে পারেন। সওয়াই মাধোপুর থেকে কলকাতার একটি মাত্র ট্রেন, অনন্যা এক্সপ্রেস। ট্রেনটি প্রতি সোমবার সকালে সাড়ে ১১টায় সওয়াই মাধোপুর থেকে ছেড়ে কলকাতা স্টেশনে পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল ৩:১০-এ। যদি জয়পুর থেকে ফিরতে হয়, তা হলে ওই দিন সকালে জয়পুর ফিরুন। দূরত্ব ১৬৫ কিমি। জয়পুর থেকে রয়েছে অজমের-শিয়ালদহ এক্সপ্রেস। ট্রেনটি দুপুর ২:৫৫-এ জয়পুর ছেড়ে শিয়ালদহ পৌঁছোয় পরের দিন বিকেল চারটেয়। রয়েছে ডাউন যোধপুর এক্সপ্রেস। এই ট্রেনটি রাত ২:১০-এ জয়পুর ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় পরের দিন ভোর চারটেয়।

কী ভাবে ঘুরবেন

যদি জয়পুর থেকে জয়পুর অর্থাৎ রাউন্ড ট্রিপ করেন তা হলে একটা গাড়ি বুক করে নিতে পারেন। এ ছাড়াও পয়েন্ট টু পয়েন্ট গাড়ি করতে পারেন। রাজস্থান পরিবহণ নিগমের বাসেও ভ্রমণ করতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

সব জায়গাতেই রাজস্থান পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হোটেল। অনলাইনে বুক করে নিতে পারেন। এ ছাড়া সব জায়গাতেই আছে বেসরকারি নানা মানের হোটেল। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তাদের সন্ধান পেয়ে যাবেন।

মনে রাখবেন

(১) যদি অজমের-পুষ্কর ঘোরার পরিকল্পনা না থাকে, তা হলে জয়পুর থেকে সরাসরি মাউন্ট আবু চলে আসতে পারেন, দূরত্ব ৪৯৪ কিমি, রাজস্থানের মসৃণ রাস্তায় বাসে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টা। সে ক্ষেত্রে তিন রাত মাউন্ট আবু থাকবেন। মাউন্ট আবু ঘোরার জন্য দু’টো দিন পুরো পাবেন।

(২) যদি পালি হয়ে আসেন, তা হলে যে দিন মাউন্ট আবু পৌঁছোবেন সে দিন বিকেলে নক্কি লেক এবং সানসেট পয়েন্ট সূর্যাস্ত দেখে নিন। কাছেই টোড রক। পরের দিন বাকি দ্রষ্টব্যগুলো দেখে নেবেন।

চেতক স্মারক, হলদিঘাটি।

(৩) উদয়পুরে প্রথম দিনে সকালে জগত ঘুরে এসে শহরের দ্রষ্টব্যগুলো দেখে নিন। দ্বিতীয় প্রথমে চলে যান হলদিঘাটি, ৪০ কিমি। তার পরে আসুন ১৬ কিমি দূরে বৈষ্ণবতীর্থ নাথদ্বার দর্শনে। সেখান থেকে চলুন ২৫ কিমি দূরে একলিঙ্গজি মন্দিরে। দর্শন করে ফিরে আসুন উদয়পুর, ২২ কিমি।

(৪) খুব সকালে উদয়পুর থেকে বেরিয়ে চেষ্টা করুন ৯টার মধ্যে চিতোরগড় পৌঁছোতে। মীরাবাঈ আর পদ্মিনীর স্মৃতিধন্য গড় দেখে দুপুরের খাওয়া সেরে পৌঁছে যান বুঁদি।

(৫) রনথম্ভোরে দু’টি সাফারি হয়। সকাল সাড়ে ৬টায় ও বিকেল ৪টেয়। কোনো ভাবে সকালের সাফারিতে না যেতে পারলে সকালে দুর্গ দেখে নিয়ে বিকেলে সাফারি করুন। যেখানে জাতীয় উদ্যানের প্রবেশ ফটক, তার উলটো দিকেই দুর্গের প্রবেশপথ।

———————————————————————

ভ্রমণ-ছক ৩: অন্য রাজস্থান হয়ে আগরা

রাজস্থানের এই দিকটা পর্যটকদের কাছে ততটা পরিচিত নয়। সেই অন্য রাজস্থানের সঙ্গে আগরা ঢুকিয়ে একটি ভ্রমণসূচি তৈরি করে দেওয়া হল।

প্রথম দিন – ট্রেনে ভরতপুরের উদ্দেশে রওনা। প্রতাপ এক্সপ্রেস প্রতি শুক্রবার রাত ১০:৪৫-এ হাওড়া ছেড়ে ভরতপুর পৌঁছোয় পরের দিন সন্ধ্যা ৭:৩৫-এ। হাওড়া-যোধপুর এক্সপ্রেস প্রতিদিন রাত ১১:৪০-এ হাওড়া ছেড়ে পরের দিন রাত ৯:২৫-এ ভরতপুর পৌঁছয়। এ ছাড়াও আছে শিয়ালদহ-অজমের এক্সপ্রেস। ট্রেনটি প্রতিদিন রাত ১১:০৫-এ শিয়ালদহ থেকে ছেড়ে ভরতপুর পৌঁছোয় পরের দিন রাত ৮:০৫-এ।

দ্বিতীয় দিন – ভরতপুর পৌঁছানো। রাত্রিবাস।

তৃতীয় দিন– আজও থাকুন ভরতপুরে।

ভরতপুর।

ভরতপুরে দেখে নিন

(১) কেওলাদেও ঘানা জাতীয় উদ্যান

(২) লোহাগড় দুর্গ

চতুর্থ দিন – ভরতপুর থেকে চলুন আলোয়ার, ১০৮ কিমি। দুপুরের আগে পৌঁছে যান। মধ্যাহ্নভোজনের পর আলোয়ারে ঘোরাঘুরি। রাত্রিবাস আলোয়ার।

পঞ্চম দিন – সারা দিন আলোয়ার ঘুরে বিকেলের দিকে চলুন সরিস্কা, ৩৮ কিমি। পথে দেখে নিন শিলিশেড় লেক ও প্রাসাদ। রাত্রিবাস সরিস্কা।

আলোয়ার মিউজিয়াম।

আলোয়ারে দেখবেন

(১) সিটি প্যালেস তথা মিউজিয়াম – পিছনে পাহাড়, সামনে জল, বিন্ধ্য পর্বতে ঘেরা আলোয়ারে প্রধান দ্রষ্টব্য ৩০৪ মিটার উঁচু এক ত্রিকোণ পাহাড়ে বিনয় বিলাস মহল বা সিটি প্যালেস।

(২) বালা কিলা বা আলোয়ার দুর্গ – ১০০০ ফুট উঁচু খাড়া পাহাড়ে।

(৩) মুসি মহারানি কি ছত্রি

(৪) করণীমাতা মন্দির

(৫) জয়সমন্দ লেক – শহর থেকে ৬ কিমি দূরে।

সরিস্কা।

ষষ্ঠ দিন – সাফারি করে নিন সরিস্কায়। যদি সকালে সাফারি হয়ে যায়, তা হলে ঘুরে আসুন ভানগড় দুর্গ। দূরত্ব ৪৭ কিমি। রাত্রিবাস সরিস্কা।

সপ্তম দিন – সরিস্কা থেকে চলুন জয়পুর। দূরত্ব ১২০ কিমি। রাত্রিবাস জয়পুর।

অষ্টম দিন এবং নবম দিন – ভ্রমণ-ছক ১-এর তৃতীয় ও চতুর্থ দিনের মতো।

ফতেপুর সিক্রি।

দশম দিন – চলুন আগরা। দূরত্ব ২৩৮ কিমি। ট্রেন, বাস অথবা গাড়ি, তিন রকম পরিবহণেই আসতে পারেন। যদি গাড়িতে আসেন তা হলে পথে দেখে নিন ফতেপুর সিক্রি। রাত্রিবাস আগরা।

একাদশ দিন – আজ থাকুন আগরায়।

তাজ মহল।

আগরায় দেখে নিন

তাজ মহল, আগরা ফোর্ট, ইতমাদ-উদ-দৌল্লা, সিকান্দ্রা, রাম বাগ, চিনি কা রৌজা, দয়ালবাগ। আসার পথে ফতেপুর সিক্রি দেখা না হয়ে থাকলে।

ত্রয়োদশ দিন – ফেরার দিন। আগরা থেকে সরাসরি ফিরতে পারেন আবার দিল্লি হয়েও ফিরতে পারেন। আগরা থেকে হাওড়া ফেরার সব থেকে ভালো ট্রেন ডাউন যোধপুর এক্সপ্রেস। ট্রেনটি প্রতিদিন সকাল ৬:২০-তে আগরা থেকে ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় পরের দিন ভোর চারটেয়। অজমের-শিয়ালদহ এক্সপ্রেস প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭:১৫-এ আগরা ছেড়ে শিয়ালদহ পৌঁছোয় পরের দিন বিকাল চারটেয়। আগরা থেকে দিল্লির দূরত্ব ২১২ কিমি। সকালে রওনা হয়ে দিল্লি এসে ওই দিনই বিকেলে হাওড়ার ট্রেন ধরতে পারেন।

কী ভাবে ঘুরবেন

পয়েন্ট টু পয়েন্ট গাড়িও করতে পারেন আবার ভরতপুরে একটা গাড়ি ভাড়া করে নিয়ে আট দিন পর আগরায় ছেড়ে দিতে পারেন। রাজস্থান পরিবহণ নিগমের বাসেও সফর করতে পারেন।

কোথায় থাকবেন

রাজস্থানের সব জায়গাতেই রয়েছে রাজস্থান পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হোটেল। আগরায় রয়েছে উত্তরপ্রদেশ পর্যটন উন্নয়ন নিগমের হোটেল। ওয়েবসাইটে লগইন করে অনলাইন বুক করে নিতে পারেন। এ ছাড়া সব জায়গাতেই রয়েছে বেসরকারি অনেক হোটেল। হোটেল বুকিং-এর বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে তাদের সন্ধান পেয়ে যাবেন।

মনে রাখবেন

(১) ভরতপুরে দু’টি হোটেল আছে রাজস্থান পর্যটনের। একটি হোটেল স্টেশনের কাছে আর অন্যটি পক্ষিরালয়ের মধ্যে। ট্রেন যে হেতু রাতের দিকে পৌঁছোয় তাই প্রথম রাতটা অন্তত স্টেশনের কাছে হোটেল সারসে থাকুন।

প্রয়োজনীয় তথ্য

(১) অনলাইন হোটেল বুকিং করার জন্য রাজস্থান পর্যটনের ওয়েবসাইট http://rtdc.tourism.rajasthan.gov.in/

(২) অনলাইনে বাস বুকিং করার জন্য রাজস্থান পরিবহণ নিগমের ওয়েবসাইট https://rsrtconline.rajasthan.gov.in

(৩) রাজস্থান পর্যটনের বাসে জয়পুর শহরের দ্রষ্টব্যস্থানগুলি দেখতে পারেন। পর্যটনের ওয়েবসাইটে বুক করে নিতে পারেন।

(৪) অনলাইনে বুকিং-এর জন্য উত্তরপ্রদেশ পর্যটনের ওয়েবসাইট http://uptourism.gov.in/

ছবি: ফেসবুক

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here