পুজোর আর মাসদেড়েক বাকি। ট্রেনে আগাম সংরক্ষণ করা হয়নি বলে কোথাও যাওয়া হবে না, তা কি হয়? খবর অনলাইন এমন কিছু ভ্রমণ পরিকল্পনা আপনাদের কাছে পেশ করছে যার জন্য ট্রেনে আগাম আসন সংরক্ষণের প্রয়োজন হয় না। খুব দূরের ভ্রমণ নয়, তাই ট্রেনে সংরক্ষিত আসন পেতেও অসুবিধা নেই।

চলুন যাওয়া যাক একটু অন্য ওড়িশায় – চাঁদিপুর- পঞ্চলিঙ্গেশ্বর-সিমলিপাল- ভিতরকনিকা

প্রথম দিন – গন্তব্য চাঁদিপুর।

হাওড়া থেকে চলুন বালেশ্বর। ধৌলি এক্সপ্রেস রোজ সকাল ছ’টায় হাওড়া থেকে ছেড়ে বালেশ্বর পৌঁছোয় সকাল ৯:২৫-এ। ভুবনেশ্বর জনশতাব্দী এক্সপ্রেস, রোজ  দুপুর ১:২৫-এ হাওড়া থেকে ছেড়ে বালেশ্বর পৌঁছোয় বিকেল ৪:৪০-এ। পুরী শতাব্দী এক্সপ্রেস, রোজ দুপুর ২:২৫-এ ছেড়ে বালেশ্বর পৌঁছোয় বিকেল ৫:৩৭-এ। বালেশ্বর থেকে চাঁদিপুর ১২ কিমি। অটো বা গাড়িতে আসুন।

সূর্যোদয়, চাঁদিপুর, সমুদ্র উধাও।

সারা দিনটা কাটান কেয়া-কাজু-ঝাউয়ে চাঁদিপুর সৈকতে। জোয়ার ভাটার খেলা চলে নিরন্তর। ভাটায় সমুদ্র চলে যায় অনেক দূরে। আবার জোয়ারে জল আসে কিনারে। সন্ন্যাসী কাঁকড়ার বাস এই সৈকতে। সূর্যোদয়, চন্দ্রোদয়, দুই-ই মনোরম এই সৈকতাবাসে। রাত্রিবাস চাঁদিপুর।

দ্বিতীয় দিন – চাঁদিপুর ঘোরাঘুরি ও রাত্রিবাস।

চাঁদিপুরে কী দেখবেন

(১) তিন কিমি দূরে বলরামগড়ি, বুড়িবালাম নদী মিশেছে সাগরে।

(২) ১২ কিমি দূরের বালেশ্বর হয়ে আরও ১০ কিমি যেতে বুড়িবালামের তীরে চষাখণ্ড – ব্রিটিশের বিরুদ্ধে বাঘা যতীনের অসম যুদ্ধের স্থান।

ক্ষীরচোরা গোপীনাথ মন্দির, রেমুনা।

(৩) বালেশ্বর থেকে ৬ কিমি দূরে ‘ওড়িশার বৃন্দাবন’ রেমুনা, ক্ষীরচোরা গোপীনাথের মন্দির।

তৃতীয় দিন – চলুন বালেশ্বর হয়ে পঞ্চলিঙ্গেশ্বর। চাঁদিপুর থেকে দূরত্ব ৪৪ কিমি। চাঁদিপুর থেকে গাড়িতে আসুন নীলগিরি পাহাড়ের কোলে সবুজ জঙ্গলে ঘেরা পঞ্চলিঙ্গেশ্বরে অথবা অটোয় বালেশ্বর এসে সেখান থেকে গাড়ি বা বাসে চলে আসুন পঞ্চলিঙ্গেশ্বরে। রাত্রিবাস।

পঞ্চলিঙ্গেশ্বর।

দুপুরের আহার সেরে চলুন পাঁচ শিবলিঙ্গের অধিষ্ঠান পঞ্চলিঙ্গেশ্বর পাহাড়ে। সিঁড়ি ভেঙে পাহাড়ে ওঠার পথে সঙ্গী হবে সুন্দরী ঝরনা। এক ফাটলে বহতা ঝরনার জলে দেবতা পঞ্চলিঙ্গেশ্বর। হাত ডুবিয়ে পরশ নিন।

পঞ্চলিঙ্গেশ্বর দেখে চলুন ১০ কিমি দূরের নীলগিরি শহরে। দেখুন প্রাচীন রাজবাড়ির ধ্বংসাবশেষ এবং জগন্নাথ মন্দির

চতুর্থ দিন – গন্তব্য বারিপদা। সকাল সকাল বেরিয়ে পড়ুন। পঞ্চলিঙ্গেশ্বর থেকে বাস বা গাড়িতে চলে আসুন বালেশ্বর। বালেশ্বর থেকে সকাল ১০-১০-এর (সময়টা একবার চেক করে নেবেন) ডেমু লোকাল ধরে দেড় ঘণ্টার জার্নিতে চলে আসুন বারিপদা।

জ্বালামুখী মন্দির, বারিপদা।

‘ছৌ’-এর শহর বারিপদাকে বলা হয় দ্বিতীয় পুরী। দেখে নিন শ্বেত-শুভ্র জগন্নাথ মন্দির, মা অম্বিকা মন্দির, জ্বালামুখী মন্দির, ময়ূরভঞ্জ রাজবাড়ি, বারিপদা মিউজিয়াম

পঞ্চম দিন – সাত সকালে বেরিয়ে পড়ুন, চলুন সিমিলিপাল।

সিমিলিপালের জঙ্গল।

প্রাতরাশ সেরেই বেরিয়ে পড়ুন সিমিলিপালের উদ্দেশে। প্রথমে চলুন লুলুং (৩৮ কিমি। সবুজে ছাওয়া পাহাড় ঢালে লুলুং, বয়ে চলেছে পাহাড়ি নদী পলপলা। তার পর দেখুন জোরান্ডা ফলস্‌, বরেহিপানি ফলস্‌, নহানা ভ্যালি, সল্ট লেক। রাত্রিবাস বারিপদা।

ষষ্ঠ দিন – গন্তব্য চাঁদবালি।

সব চেয়ে ভালো হয় ভোর ৫.১০-এর ভুবনেশ্বর এক্সপ্রেস ধরে পৌনে ৮টার মধ্যে ভদ্রক পৌঁছে যাওয়া। আর তা না হলে সকাল ৮.১২-এর ডেমু ধরে চলে সকাল ১০টা নাগাদ চলে আসুন বালেশ্বর। সেখান থেকে ভদ্রকের ট্রেন দুপুর ১.৪০-এ, ভদ্রক পৌঁছোবে বিকেল ৩.৩৫। এখান থেকে চাঁদবালি ৫০ কিমি, বাসে বা গাড়িতে চলুন। তবে বালেশ্বরে ট্রেনের জন্য অপেক্ষা না করে বাসে সরাসরি চাঁদবালি চলুন, দূরত্ব ১২০ কিমি। রাত্রিবাস চাঁদবালি।

ভিতরকনিকার অধিবাসী।

সপ্তম দিন – ওটিডিসি-র প্যাকেজ ট্যুরে ঘুরে নিন ভিতরকণিকা। রাত্রিবাস চাঁদবালি।

অষ্টম দিন – বাড়ির পানে।

চাঁদবালি থেকে বাসে বা গাড়িতে ভদ্রক। সেখান থেকে কলকাতা ফেরার ট্রেন ধরুন। জনশতাব্দী এক্সপ্রেস। সকাল সওয়া আটটায় ভদ্রক থেকে ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় দুপুর ১২:৪০-এ। শতাব্দী এক্সপ্রেস সকাল সওয়া ন’টায় ভদ্রক থেকে ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় দুপুর ১:৪০-এ। ধৌলি এক্সপ্রেস বিকেল সাড়ে তিনটেয় ভদ্রক থেকে ছেড়ে হাওড়া পৌঁছোয় রাত সওয়া আটটায়।

কোথায় থাকবেন

সব জায়গাতেই রয়েছে ওড়িশা পর্যটনের পান্থনিবাস। অনলাইন বুকিং www.visitodisha.org । এ ছাড়াও সব জায়গাতেই বেসরকারি হোটেল আছে। বেসরকারি হোটেল সংক্রান্ত বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে সন্ধান পেয়ে যাবেন।

আরও পড়ুন: পুজোয় অদূর ভ্রমণ / ঘাটশিলা-রাঁচি-নেতারহাট-বেতলা

কী ভাবে ঘুরবেন

(১) চাঁদিপুর থেকে গাড়ি ভাড়া করে ঘুরে নিন বলরামগড়ি, চষাখণ্ড ও রেমুনা।

(২) পঞ্চলিঙ্গেশ্বর থেকে গাড়ি ভাড়া করে চলে আসতে পারেন নীলগিরি।

(৩) বারিপদায় স্থানীয় যানে ঘুরে নিন শহরের দ্রষ্টব্য।

মনে রাখবেন

(১) চাঁদিপুর পান্থনিবাস থেকে কন্ডাক্টেড ট্যুরে ঘুরে আসা যায় পঞ্চলিঙ্গেশ্বর, নীলগিরি, বালেশ্বর। সে ক্ষেত্রে দ্বিতীয় দিনে এই কন্ডাক্টেড ট্যুর করে তৃতীয় দিনে চলে যাওয়া যেতে পারে বারিপদা। ফলে সপ্তম দিনেই সাঙ্গ হতে পারে এই ভ্রমণ।

(২) বারিপদা মিউজিয়াম সোমবার ছাড়া গ্রীষ্মে সকাল ৭টা থেকে বেলা ১২টা এবং শীতে সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত খোলা।

হাতির পাল, সিমিলিপাল।

(৩) বারিপদা পান্থনিবাস বা অন্য যে জায়গায় থাকবেন সেখানে কথা বলে সিমিলিপাল ভ্রমণের জন্য জিপ ভাড়া করে নিতে পারেন। জঙ্গলের অন্দরে ঘোরার জন্য জিপই সুবিধাজনক।

(৪) বারিপদা পান্থনিবাস থেকে কন্ডাক্টেড ট্যুরেও সিমিলিপাল ঘুরে নেওয়া যায়।

(৫) সিমিলিপাল বনে প্রবেশের অনুমতি মেলে ফটকেই।

(৬) বারিপদা থেকে ওটিডিসি-র প্যাকেজ ট্যুরেও বেড়িয়ে নিতে পারেন সিমিলিপাল। প্যাকেজ ট্যুরের ব্যাপারে বারিপদা পান্থনিবাসে যোগাযোগ করুন ০৬৭৯২-২৬০১৩৭

(৭) ওটিডিসি-র ভিতরকনিকা প্যাকেজ ট্যুরের জন্য চাঁদবালি অরণ্যনিবাসে যোগাযোগ করুন ০৬৭৮৬-২২০৩৯৭

 

 

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here