অফ-সিজনে পর্যটক টানতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগমের

0
1612

কলকাতা:  পর্যটকদের স্বার্থে গত কয়েক বছরে কয়েকটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ করেছে পশ্চিমবঙ্গের পর্যটন বিভাগ। তৈরি হয়েছে নতুন কিছু পর্যটক আবাস। অন্য দিকে নব রূপে সজ্জিত হচ্ছে কিছু পুরোনো পর্যটক আবাস। কিন্তু এত কিছু করার পরেও অফ-সিজনের পর্যটক-শূন্যতা পর্যটন উন্নয়ন নিগমের লাভের অঙ্ক অনেকটাই কমিয়ে দিচ্ছে। এই সব মাথায় রেখেই অফ-সিজনে পর্যটক আবাসগুলিতে বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করেছে পর্যটন উন্নয়ন নিগম।

উত্তরবঙ্গে বর্ষাকালটা অফ-সিজন হিসেবে গণ্য হয়। এমনিতেই পশ্চিমবঙ্গের বাকি জেলাগুলির থেকে উত্তরবঙ্গের পাঁচ জেলায় বৃষ্টির পরিমাণ অনেকটাই বেশি। তাই খুব বেশি পর্যটক ও-দিকে পা মাড়ান না। এই বিষয়েই চিন্তিত শোনাচ্ছিল পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার অমিতাভ ঘোষকে। জলপাইগুড়ি জেলার লাটাগুড়ি, মালবাজার এবং মূর্তি — কুড়ি কিলোমিটার ব্যাসার্ধে রাজ্য পর্যটন উন্নয়ন নিগম তৈরি করেছে চারটি পর্যটক আবাস। তার মধ্যে তিনটেই অত্যন্ত উন্নত মানের। কিন্তু সমস্যা হল, অক্টোবর থেকে মার্চ-এপ্রিল পর্যন্ত পর্যটকে ভর্তি থাকলেও, মে থেকে গোটা বর্ষাকালই সম্পূর্ণ পর্যটকশূন্য হয়ে যায়।

অমিতাভবাবুর কথায়, “অফ-সিজনটা আমাদের কাছে একটা চিন্তার বিষয়। পর্যটকরা যাতে অফ-সিজনেও আসেন, সেই জন্য কিছু পরিকল্পনা আমরা নিয়েছি, যার মধ্যে অন্যতম এই বিশেষ ছাড়ের ঘোষণা করা।” তবে গোটা রাজ্যের ক্ষেত্রে এই ছাড়ের ব্যবস্থা সমান নয়। শিলিগুড়ি-সহ পাহাড়ের সবক’টি পর্যটক আবাসে ১ জুলাই থেকে ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এই ছাড় থাকবে। ঘর ভাড়ায় কুড়ি থেকে তিরিশ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় পাবেন পর্যটকরা। অন্য দিকে ডুয়ার্সের পর্যটক আবাসগুলি থেকে ছাড় দেওয়া হবে ১৫ জুন থেকে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত, অর্থাৎ যতদিন জঙ্গল সাফারি বন্ধ থাকবে। ঘরভাড়ায় চল্লিশ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে।

দক্ষিণবঙ্গের রাঢ়াঞ্চলের ক্ষেত্রে অবশ্য ছাড়ের সময়সীমা বর্ষাকাল নয়, গরমকাল। ১ মে থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত ছাড় দেওয়া হবে মাইথন, বহরমপুর এবং বিষ্ণুপুরে। অন্য দিকে বকখালি, দিঘা, গাদিয়াড়া এবং ডায়মন্ড হারবার টুরিস্ট লজের ঘরভাড়ায় তিরিশ শতাংশ ছাড় দেওয়া হবে প্রতি সোমবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত। ছাড়ের ব্যাপারে আরও বিষদে জানতে লগইন করুন পর্যটন উন্নয়ন নিগমের ওয়েবসাইট www.wbtdc.gov.in।

এই বিশেষ ছাড়ের ফলে বে-মরসুমেও বেড়ানোর প্রতি আকৃষ্ট হবেন পর্যটকরা, আশাবাদী অমিতাভবাবু।

বিজ্ঞাপন
loading...

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here