৪৩২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উষ্ণতম গ্রহ আবিষ্কার করলেন নাসার বিজ্ঞানীরা

0
569

অ্যারিজনা : আর কোথাও প্রাণের স্পন্দন আছে কিনা — তা খুঁজতে গিয়ে ৪৩২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের একটি নতুন গ্রহ আবিষ্কার করলেন নাসার বিজ্ঞানীরা। বললেন, এটিই এখনও পর্যন্ত আবিষ্কার করা সব ক’টি গ্রহের মধ্যে  উষ্ণতম। গ্রহটির নাম দিয়েছেন কেইএলটি-৯বি। ৬৫০ আলোকবর্ষ দূরে সিগনাস নক্ষত্রপুঞ্জে অবস্থিত এই গ্রহটি তার নক্ষত্রের খুব কাছে রয়েছে। এর কক্ষপথ খুবই ছোটো বলে জানাচ্ছেন বিজ্ঞানীরা। গ্রহটি তার কক্ষপথে একবার ঘুরে আসে মাত্র দেড় দিনে। মানে ৩৬ ঘণ্টায়। এটির কোনো আবর্তন গতি নেই। তার মানে হল নিজের অক্ষের ওপর এটি ঘোরে না। এর এক পিঠই সব সময় তার নক্ষত্রটির দিকে থাকে। গ্রহটির আয়তন বৃহস্পতির মতোই। আর তাপমাত্রা সূর্যের মতো। গবেষকরা জানাচ্ছেন, ধুমকেতুর মতো এর লেজও আছে। যা তৈরি হয় আল্ট্রাভায়লেট (ইউভি) রশ্মি থেকে। কিন্তু তার নক্ষত্রের প্রচণ্ড তাপের জন্য তা বাষ্পীভূত হয়ে যায়। এই নক্ষত্রটির তাপমাত্রা ৯৮৯৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস, সূর্যের তাপমাত্রার প্রায় দ্বিগুণ। সূর্যের তাপমাত্রা ৫৬০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তাই বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এর এত তাপ — কোনো দিন হয়ত গোটা গ্রহটাই উবে যাবে। আবিষ্কার করেছেন ওহিও স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা।

এর আগে পর্যন্ত সব থেকে উষ্ণ গ্রহ ছিল ডব্লুএএসপি-৩৩বি। ৩৮০ আলোকবর্ষ দূরে অ্যানড্রোমেদা নক্ষত্রপুঞ্জের মধ্যে রয়েছে এই গ্রহ। এর তাপমাত্রা ৩২০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস।

গবেষক স্কট গৌদি জানান, তাঁদের মূল লক্ষ্য ছিল পৃথিবীর মতো গ্রহ আর সূর্যের মতো নক্ষত্রের সংসার খোঁজা। যেখানে প্রাণের সন্ধান মেলার সম্ভাবনা রয়েছে। সেই তল্লাশি করতে গিয়েই এই উত্তপ্ত গ্রহ আর তার পরিবারের সন্ধান পাওয়া গেছে। এই পরিবারে রয়েছে মোট ছ’টি গ্রহ। তিনি বলেন, কিছুই তো বৃথা যায় না। তেমনই এই আবিষ্কার এটা জানতে সাহায্য করবে যে এই প্রচণ্ড গরমে কীভাবে কোনো গ্রহমণ্ডল গড়ে ওঠে।

তিনি বলেন, গ্রহটির আলোকিত অংশ থেকে অন্ধকার অংশের দিকে তীব্র বায়ুপ্রবাহ আছে বলে মনে করা হচ্ছে। আর এর নক্ষত্র, কেইএলটি-৯ সূর্যের থেকে আড়াই গুণ বড়ো।

গবেষক কেইভান স্টাসন বলেন, তাপমাত্রার কারণে এটি ফুলে দ্বিগুণ হয়েছে।

গবেষক কারেন কলিন্স জানান, কেইএলটি-৯ কমলালেবুর আকারের একটি নক্ষত্র। তাঁরা ভাগ্যক্রমে এই নক্ষত্রের দেখা পেয়েছেন। কারণ এটি নিজের কক্ষপথে চলতে চলতে এর পর সাড়ে তিন সহস্রাব্দের জন্য পৃথিবীর অলক্ষ্যে চলে যাবে। তার আগে মাত্র দেড়শো বছর পৃথিবী থেকে দেখা যাবে।

অ্যারিজনার ওয়েনার পর্যবেক্ষণাগার (ওয়েনার অবজারভেটরি) থেকে এই কেইএলটি-৯বি গ্রহ আর তার নক্ষত্র কেইএলটি-৯ আবিষ্কার করা হয়েছে ‘কিলোডিগ্রি এক্সট্রিমলি লিটিল টেলিস্কোপ’ (কেইএলটি)-র সাহায্যে। তাই এদের এইরূপ নাম করণ করা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here