মাকড়সার বিষ থেকে সারতে পারে স্ট্রোকজনিত ব্রেন ড্যামেজ : গবেষণা

0
436

ব্রিসবেন (অস্ট্রেলিয়া) : সাংঘাতিক বিপজ্জনকের তালিকায় ‘ফানেল ওয়েব স্পাইডার’। মানুষকে এক বার কামড়ালে তার ১৫ মিনিটের মধ্যে মৃত্যু অবধারিত। এই রকম একটি মারাত্মক মাকড়সার বিষেই নাকি আছে এক বিশেষ ধরনের প্রোটিন, যা সাহায্য করবে ব্রেন ড্যামেজ সারাতে। এমনকি স্ট্রোক হওয়ার বেশ কয়েক ঘণ্টা পরেও তা কাজ করবে ব্রেন ড্যামেজ থেকে বাঁচাতে, এমনটাই বলছে একটি গবেষণা। 

গবেষণাটি করেছেন কুইনসল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় ও মনাস বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা। গবেষণাটি করার জন্য তাঁরা তিনখানা এই জাতীয় মাকড়সা সংগ্রহ করেন। এই মাকড়সাগুলোকে দুধ খাওয়ানোর জন্য নল ব্যবহার করেন বিজ্ঞানীরা। নলের গোড়ায় মাকড়সারগুলির বিষ সংগ্রহ করেন। এই বিষের নমুনা মিলিয়ে তাঁরা দেখেছেন তিনটি বিষের নমুনাই একই রকম। এই বিষের মধ্যেই এক রকমের ভালো প্রোটিন রয়েছে যা স্ট্রোকজনিত ব্রেন ড্যামেজে দারুণ কার্যকর। এটা পরীক্ষা করে দেখার জন্য বিজ্ঞানীরা ল্যাবরেটরিতে রাখা ইঁদুরের ওপর এই প্রোটিন প্রয়োগ করেন। স্ট্রোকের ফলে এই ইঁদুরগুলির ব্রেনের কোষগুলি ক্ষতিগ্রস্ত ছিল। গবেষকরা লক্ষ করেন, স্ট্রোকের পরে যে আয়ন নির্গত হয়ে ব্রেন ড্যামেজ করে, এই প্রোটিনটি সেই আয়ন বেরোনোর পথটাই বন্ধ করে দিচ্ছে। বিজ্ঞানীরা এই প্রোটিনটির নাম দিয়েছেন, ‘এইচ আই ওয়ান এ’। 

সাধারণত, মস্তিষ্কে রক্ত চলাচল বন্ধ হয়ে গেলে বা মস্তিষ্কের ভেতরে ক্ষরণ হলে ব্রেন ড্যামেজ হয়। ৮৫% স্ট্রোকই হয়, রক্ত জমাট বেঁধে বা ক্ষরণের ফলে।  

এই গবেষণার প্রধান কর্মকর্তা গ্লেন কিং জানান, এটাই বিশ্বের প্রথম এমন আবিষ্কার যার সাহায্যে স্ট্রোকের ফলে ক্ষতির পরিমাণকে আটকানো যাবে। 

স্ট্রোক অ্যাসোসিয়েশনের ডেপুটি ডিরেক্টর কেট হোমস বলেন, এই প্রোটিনটা মানুষের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যাবে কিনা তা এখনও ভালো করে জানতে হবে। তবে স্ট্রোক বা তার কুফলজনিত যে কোনো রোগের চিকিৎসার ক্ষেত্রে তাঁরা অনুমতি দেবেন। কারণ অনেক সময় স্ট্রোক হওয়া মাত্রই রোগীকে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয় না। সে ক্ষেত্রে যদি শক্তিশালী কোনো ওষুধ আবিষ্কার করা সম্ভব হয় তাতে মানুষেরই ভালো।

এই গবেষণা পত্রটি প্রকাশিত হয়েছে, ‘প্রসেডিংস অব দ্য ন্যাশনাল আকাদেমি অব সায়েন্স’-এ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here